মকর সংক্রান্তিতে বউয়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পিঠে বানালেন শোভন! সোহিনীকে নারকেল কুড়িয়ে দিলেন গায়ক!

বর্তমানে শোভন গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে দারুণ ছন্দে সংসার করছেন অভিনেত্রী সোহিনী সরকার। কাজের ব্যস্ততার মাঝেও দুজনেই একে অপরের পাশে থাকেন সবসময়। অভিনয় আর গানের জগতে আলাদা আলাদা পরিচিতি থাকলেও ঘরের কাজ ভাগ করে নেওয়াটাই তাঁদের সম্পর্কে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে। রান্নাঘরে সোহিনীর পাশে প্রায়ই দেখা যায় শোভনকে। আর এবারের মকর সংক্রান্তিতে সেই পারিবারিক মুহূর্তই আরও সুন্দর হয়ে উঠল, যখন দুজনে একসঙ্গে পিঠেপুলি বানানোর আনন্দ ভাগ করে নিলেন।
বুধবার সোহিনী তাঁর ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে একটি ছবি শেয়ার করেন, যা মুহূর্তের মধ্যেই নজর কাড়ে অনুরাগীদের। সেই ছবিতে দেখা যায়, পিঠে বানানোর প্রস্তুতিতে সোহিনীকে সাহায্য করছেন শোভন। খয়েরি রঙের টি শার্ট ও হাফ প্যান্ট পরে রান্নাঘরের কোণে বসে কুড়ুনি দিয়ে নারকেল কোরাতে দেখা যায় তাঁকে। একেবারে ঘরোয়া এই দৃশ্য যেন তাঁদের সম্পর্কের গভীরতা আরও স্পষ্ট করে তোলে। স্টোরিতে সোহিনী শোভনকে ট্যাগ করে লেখেন পৌষ সংক্রান্তি, যা মুহূর্তটিকে আরও বিশেষ করে তোলে।
তবে এই সুখী দাম্পত্যের পথে একসময় কম বিতর্ক হয়নি। বিশেষ করে বয়সের ফারাক নিয়ে নানা আলোচনা ও কটাক্ষের মুখে পড়তে হয়েছিল এই জুটিকে। সোশ্যাল মিডিয়ায় কেউ কেউ তাঁদের দিদি ভাই বলতেও ছাড়েননি। সোহিনী বয়সে শোভনের থেকে কিছুটা বড়, যদিও ঠিক কতটা বড় তা নিয়ে রয়েছে নানা মত। উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী সোহিনীর জন্ম ১৯৮৭ সালের ৬ মার্চ, আবার অন্য একটি সূত্র বলছে ১৯৯১ সালের ১ অক্টোবর। অন্যদিকে শোভনের জন্মদিন উইকিপিডিয়া অনুযায়ী ১ এপ্রিল ১৯৯৩।
এই হিসেব অনুযায়ী কমপক্ষে দেড় বছরের মতো বয়সের ফারাক রয়েছে তাঁদের মধ্যে। তবে বয়স যে তাঁদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনও বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি, তা বারবার প্রমাণ করেছেন সোহিনী ও শোভন। একে অপরের পাশে থেকে সব কটাক্ষকে উপেক্ষা করেই তাঁরা এগিয়ে গিয়েছেন নিজেদের মতো করে। ব্যক্তিগত জীবনকে খুব স্বাভাবিক ও বাস্তবভাবেই উপভোগ করতে দেখা যায় এই জুটিকে, যা তাঁদের অনুরাগীদের কাছেও দারুণ অনুপ্রেরণা।
আরও পড়ুনঃ চু’রি করা টাকায় রাজপ্রাসাদ! সংযুক্তার অ’বৈধ সাম্রাজ্যের হদিশ পেয়ে পর্দাফাঁস করল পারুল! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব!
উল্লেখ্য, একাধিক সম্পর্কের ওঠাপড়ার পর অবশেষে ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই সাত পাকে বাঁধা পড়েন সোহিনী সরকার ও শোভন গঙ্গোপাধ্যায়। শোভন সারেগামাপা মঞ্চ থেকে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন এবং পরবর্তীতে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও বহু আলোচনা হয়েছে। সবকিছুর শেষে সোহিনীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক পরিণতি পায়। এখন সংসারের ছোট ছোট মুহূর্ত, যেমন পিঠে বানানোর এই দৃশ্যই বলছে, সুখ আসলে লুকিয়ে থাকে এমন সাধারণ দিনগুলোর মধ্যেই।

