‘শিল্পীদের রুটি-রুজিতে আঘাত দিচ্ছে ক্ষমতা?’ ‘আমাকে ব্যান করা হয়েছিল,’ ‘আগের সরকারের কীভাবে পতন হয়েছিল মনে রাখবেন!’ ‘চুরি-চামারি কম হলেই ভালো!’ রাজনীতি ও সরকার নিয়ে অকপটে সোহিনী সরকার!

বাংলা অভিনয় জগতের অন্যতম প্রভাবশালী এবং জনপ্রিয় মুখ সোহিনী সরকার (Sohini Sarkar)। ছোট পর্দা থেকে শুরু করে বড় পর্দা এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্মে নিজের সাবলীল অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। ‘ফড়িং’, ‘ব্যোমকেশ’ ফ্র্যাঞ্চাইজি, ‘রঘু ডাকাত’-এর মতো একাধিক জনপ্রিয় চলচ্চিত্র এবং ওয়েব সিরিজে তাঁর অসামান্য অভিনয় তাঁকে টলিউডের প্রথম সারির অভিনেত্রীদের তালিকায় স্থান দিয়েছে। অভিনয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে স্পষ্টবক্তা হিসেবেও সোহিনী পরিচিত।
রাজনৈতিক বিরোধিতা এবং তার ফলে একজন শিল্পীর পেশাগত জীবনে তৈরি হওয়া বাধা নিয়ে সম্প্রতি সরব হয়েছেন অভিনেত্রী সোহিনী সরকার। বিনোদন শিল্পে অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা এবং তৎকালীন সরকারের পতন প্রসঙ্গে নিজের স্পষ্ট মতামত ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “সরকারের বিরুদ্ধে কথা বললে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হবেই, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বিরোধিতাকে শত্রুতা ভেবে একজন শিল্পীর কাজ বন্ধ করে দেওয়া মানে তাকে ভাতে মারা। আমার বিলাসবহুল জীবন চাই না, সাধারণ ডাল-ভাত খাওয়ার মতো উপার্জন আমি ঠিক করে নিতে পারব। সাধারণ মানুষের ভালো কাজের জন্যই সরকার গঠন হওয়া উচিত। আগের বা প্রাক্তন সরকারের যেভাবে পতন হয়েছে, সেই পতন দেখেও যদি বর্তমান বা নতুন সরকারের শিক্ষা হয় এবং তারা ভুল কাজ করা থেকে বিরত থাকে, তবেই ভালো।”
অভিনেত্রীর এই বক্তব্যের প্রথম অংশে উঠে এসেছে গণতান্ত্রিক কাঠামোয় সরকার এবং নাগরিকের সম্পর্কের টানাপোড়েন। তিনি স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, ক্ষমতার শীর্ষে থাকা ব্যবস্থা সাধারণত গঠনমূলক সমালোচনা বা বিরোধিতাকে গ্রহণ করতে পারে না; বরং ভিন্নমতকে তারা ‘শত্রুতা’ হিসেবেই ধরে নেয়। সোহিনীর মতে, একজন চিকিৎসকের প্র্যাকটিস বন্ধ করা কিংবা বাসচালকের জীবিকায় আঘাত হানার মতোই একজন শিল্পীর কাজ কেড়ে নেওয়া হলো তাকে অঘোষিতভাবে ‘ভাতে মারা’র কৌশল। পরিণাম জেনেও তিনি কণ্ঠস্বর দমন করেননি, যা তাঁর রাজনৈতিক সচেতনতা ও সাহসী মানসিকতার পরিচয় দেয়।
কাজের ক্ষেত্রে কোনো অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা বা বাধা এলে কীভাবে টিকে থাকতে হয়, বক্তব্যের দ্বিতীয়ভাগে সেই আত্মবিশ্বাসের কথা ফুটিয়ে তুলেছেন সোহিনী। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, পেশাগত বাধ্যবাধকতা বা ক্ষমতার লালচোখ তাঁকে বশ করতে পারেনি। রাজকীয় বা বিলাসবহুল জীবনের প্রতি তাঁর কোনো মোহ নেই বরং নিজের মেধা ও পরিশ্রমের শক্তিতে কেবল ডাল-ভাত জোগাড়ের ন্যূনতম সংস্থানটুকু পেলেই তিনি সন্তুষ্ট। ক্ষমতাশালী ব্যবস্থার কাছে নতিস্বীকার না করে স্বাধীনভাবে বাঁচার যে মানসিক দৃঢ়তা, তা অভিনেত্রীর এই জীবনদর্শনের মধ্যেই প্রতিফলিত হয়।
আরও পড়ুনঃ বিরাট দুঃসংবাদ! শ্যুটিং সেরে বাড়ি ফেরার পথেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা! প্রাণ হারালেন ২৬ বছরের তরুণ অভিনেতা! শোকস্তব্ধ বিনোদন জগৎ!
বক্তব্যের শেষভাগে সোহিনী সরকার নবাগত শাসনব্যবস্থার দায়বদ্ধতা ও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেছেন। তিনি নতুন সরকার সম্পর্কে সঠিক কাজ ও জনকল্যাণের দিকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে সাবেক বা প্রাক্তন সরকারের পতনের উদাহরণ টেনে তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, দুর্নীতি ও ক্ষমতা দখলের মানসিকতা বজায় রাখলে পরিণতি মারাত্মক হতে পারে। ক্ষমতার অহংকার বা ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন সরকার যেন সাধারণ মানুষের স্বার্থে কাজ করে অভিনেত্রীর এই অন্তিম সতর্কবার্তায় রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি এক গভীর নাগরিক বার্তার প্রকাশ ঘটেছে।

