অস্মিকাকে আদৌ কি কোন সাহায্য করেছেন অরিজিৎ সিং? নাকি সবটাই “পাবলিসিটি”! সত্যিটা তুলে ধরলো অসুস্থ শিশুটির বাবা-মা!

এখন সোশ্যাল মিডিয়া (Social Media) খুললেই বারেবারে একটা জিনিসই চোখে পড়ছে, তা হল একটা বাচ্চার প্রাণ বাঁচাতে লাগবে ১৬কোটি টাকা। বর্তমানে রানাঘাটের অস্মিকা দাস (Ashmika Das) সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে এতটাই ভাইরাল হয়ে উঠেছে যে বাংলার গন্ডি পেরিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষদের ওপর প্রভাব পড়েছে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা যে যেমন পারছে সাহায্য করছে অস্মিকাকে।
অস্মিকার বয়স যত বাড়ছে তাঁর মা-বাবার ভয়ে ততই বেড়ে চলছে। রাতের ঘুম উড়ে যাচ্ছে, দুশ্চিন্তা পিছু ছাড়ছে না। হাতে রয়েছে আর মাত্র কয়েকটা মাস, তার মধ্যেই দিতে হবে ১৬কোটির সেই ইঞ্জেকশন। ইতিমধ্যে মানুষের মুখোমুখি এবং বিভিন্ন কনটেন্ট ক্রিকেটারদের মাধ্যমে খবরটা ছড়িয়ে পড়েছে চারিদিকে। বর্তমানে দাস পরিবারের কথা অনুযায়ী এখনও অবধি তাঁরা জোগাড় করতে পেরেছে ৭কোটি টাকা।
এই মুহূর্তে অস্মিতা পার করেছে এক বছর, কিন্তু তাঁর জীবনের ছন্দ স্বাভাবিক নয়। অস্মিকার শরীরের বাসা বাধা বিরল রোগটির নাম স্পাইনাল মাসকুলার অ্যাট্রোফি টাইপ ওয়ান। বলিউডের গায়ক কৈলাস খের থেকে শুরু করে শ্রাবন্তী সকলেই বাড়িয়েছে সাহায্যের হাত। এই তালিকায় এবার উঠে এসেছে গায়ক অরিজিৎ সিংয়ের নাম। শোনা যায়, বাংলার এই গায়কও নাকি অর্থ দিয়ে সাহায্য করবে অস্মিকাকে।
কিছুদিন আগে ভ্লগার তথা টেলি অভিনেতা সায়ক চক্রবর্তী পৌঁছে গেছিল অস্মিকার বাড়ি। সেই সময় কথায় কথায় অরিজিৎ সিংয়ের প্রসঙ্গ উঠতেই অস্মিকার বাবা বলে, “অনেকের একটা ভুল ধারণা হয়েছে। অনেকে ভাবছে বড় বড় শিল্পী, যেমন অরিজিৎ সিং স্যার আমাদের সাহায্য করেছে। সেটা করেনি। কিছু পেজ আছে যারা ভুলভাবে এই খবরটা রটিয়েছে যে অরিজিৎ সিং আমাদের সাহায্য করেছে। বা ওর ট্রিটমেন্টের জন্য টাকা দিয়েছে। তোমার ভিডিয়োর মাধ্যমে আমি তো চাইব এই বার্তাটা ওঁনার কাছে যাক, অরিজিৎ সিং যদি আমাদের সাহায্য করেন তাহলে তো খুবই ভালো। কিন্তু এখনও পর্যন্ত এমন কোনও আশ্বাস বা মেসেজ আমাদের কাছে আসেনি”।
আরও পড়ুনঃ “বাথরুমে ঢুকে ৪০ মিনিট…”! সকালে যজ্ঞ, রাতে দু পেগ হুইস্কি! কি বলছেন মমতা কুলকার্নি?
একরত্তি অস্মিকার প্রাণ বাঁচাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে তাঁর বাবা-মা। লক্ষী দাস অর্থাৎ তাঁর মা বলে, “ও তিন মাস বয়স পর্যন্ত বাকি বাচ্চাদের মতোই ঠিক ছিল। পা তুলত, হাত নাড়াত। সাড়ে তিন মাস বয়স যখন হল, তখনই হঠাৎ একদিন দেখলাম পা-টা আর তুলছে না। তিন-চার মাসের বাচ্চাদের ঘাড় শক্ত হয়ে যায় সাধারণত। উবুড় হয়ে যায়। কিন্তু ওর কিছুই হচ্ছিল না”।

