“বাথরুমে ঢুকে ৪০ মিনিট…”! সকালে যজ্ঞ, রাতে দু পেগ হুইস্কি! কি বলছেন মমতা কুলকার্নি?

অনেকেই জীবনের কোনো এক পর্যায়ে সমস্ত কিছুর মোহমায়া ত্যাগ করে, সংসার ধর্ম ত্যাগ করে সন্ন্যাস গ্রহণের পথ বেছে নেন। সন্ন্যাস শুধু এক ধর্মীয় অনুশীলন নয়, এটি জীবনযাপনের একটি দার্শনিক পথও। সাধারণত জীবন থেকে অবসরের পর অনেকে এই সিদ্ধান্ত নেন। তবে কখনও কখনও কেউ জীবনের মধ্যগগনেই মোহমুক্ত হয়ে এই পথ অনুসরণ করেন। বলিউডের একসময়ের জনপ্রিয় তারকা মমতা কুলকার্নির(Mamta Kulkarni) জীবনও তেমনই একটি চমকপ্রদ গল্প বলছে।
বলিউডের গ্ল্যামারাস জগৎ থেকে দূরে সরে গিয়ে দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে সন্ন্যাস জীবনযাপন করছেন মমতা কুলকার্নি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের সন্ন্যাস গ্রহণের যাত্রা এবং এই পরিবর্তনের পেছনের গল্প প্রকাশ্যে এনেছেন। মমতা জানান, বলিউডের চঞ্চল জগৎ তাকে আধ্যাত্মিকতার পথে টেনে নিয়েছিল। ১৯৯৭ সালে তার জীবনে এক গুরু প্রবেশ করেন, যিনি তাকে মোহমুক্ত হতে সাহায্য করেন। সেই থেকে তিনি বলিউড থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে আধ্যাত্মিক চর্চায় মন দেন।
তবে মমতার এই আ ধ্যাত্মিক যাত্রা নিয়ে বিতর্ক থেমে নেই। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, বলিউডে থাকার সময়ও তিনি নিয়মমাফিক জীবনযাপন করতেন। নবরাত্রির সময় তিনি প্রতিদিন তিনটি যজ্ঞ করতেন এবং কেবলমাত্র জল পান করে উপবাস রাখতেন। তবে এখানেই আসে তার জীবনের এক চমকপ্রদ ঘটনা। তিনি স্বীকার করেন, নবরাত্রির সময় তাজ হোটেলে গিয়ে দুই পেগ স্কচ খাওয়ার স্মৃতি। যদিও ৯ দিন উপবাস থাকার কারণে তার শরীর সেই মদ্যপান সহ্য করতে পারেনি। ফলে তাকে বাথরুমে গিয়ে দীর্ঘ ৪০ মিনিট বসে থাকতে হয়েছিল।
মমতা জানান, এই ঘটনা ১৯৯৬-৯৭ সালের। তিনি আরও বলেন, তার গুরু বুঝেছিলেন বলিউড তাকে এই আধ্যাত্মিক পথে চলতে দেবে না। তাই তার জন্য এমন একটি জায়গা বেছে দেওয়া হয়, যেখানে তিনি ২২ বছর ধরে কারও সঙ্গে দেখা না করেই একান্তে থাকতে পেরেছেন। মমতা বলেন, সেই সময় থেকেই তিনি বলিউডের জীবনের সব মোহ ত্যাগ করে আধ্যাত্মিকতার পথ বেছে নেন।
আরও পড়ুনঃ পরনে লুঙ্গি আবার হাতে পি’স্তল! পাপের বিনাশ করতে আসছে কলিযুগের পরশুরাম! প্রকাশ্যে আসন্ন ধারাবাহিকের প্রথম ঝলক!
মমতা কুলকার্নি আজ এক বিরল উদাহরণ, যিনি বলিউডের জাঁকজমকপূর্ণ জীবন থেকে সরে গিয়ে আধ্যাত্মিকতার পথে নতুন জীবন শুরু করেছেন। তবে তার জীবনের এই চমকপ্রদ ঘটনা বারবার মানুষের মনে কৌতূহল জাগিয়েছে। এখন, তার অতীত এবং বর্তমান নিয়ে আলোচনা যেন থামছেই না।