“ভাগ্যেই লেখা ছিল সাহেব হওয়া!” “ভাগ্যই আমাকে এত কিছু দিয়েছে!”— সাহেব বলেই ডাকেন সকলে, কিন্তু কেন এই নাম? গান তাঁর প্রেম, অভিনয় ভাগ্য! অভিনেতার নামকরণের পেছনে রয়েছে এক অদ্ভুত কাহিনি!

ছোটপর্দা থেকে বড়পর্দা, দুই মাধ্যমেই চেনা মুখ ‘সাহেব চট্টোপাধ্যায়’ (Saheb Chatterjee)। একদিকে তিনি একজন শক্তিশালী অভিনেতা, অন্যদিকে সুরের ভুবনে তাঁর দখল অনস্বীকার্য। গানের সঙ্গে সাহেবের সম্পর্ক শুধুই পেশার নয়, সেটা যেন এক গাঢ় টান, এক আত্মিক যোগ। যদিও অভিনয়েই তিনি বেশি পরিচিত, কিন্তু গানই তাঁর সবচেয়ে প্রিয় সঙ্গী। সম্প্রতি এসভিএফ-এর ব্যানারে আসছে সাহেব অভিনীত নতুন ছবি ‘সাধক বামাক্ষ্যাপা’। এই ছবিতে মুখ্য চরিত্রে রয়েছেন সব্যসাচী চৌধুরী, আর তাঁর পাশে সাহেব এক জটিল তাত্ত্বিক চরিত্রে, যাঁর উপস্থিতি সাধকের গল্পে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা নির্মাতাদের।

এদিন এক সাক্ষাৎকারে সাহেব ব্যক্তিগত জীবন থেকে কর্মক্ষেত্রের গল্প ভাগ করে নিলেন। অভিনেতার কথায়, তাঁর ‘সাহেব’ নামটির পেছনে রয়েছে জন্মবৃত্তান্ত। তাঁর জন্মের সময় চোখের অসাধারণ নীল রঙ এবং দুধের মতো গায়ের রঙ দেখে নার্স বলে ওঠেন, “সাহেব বাচ্চা হয়েছে।” সেই কথাই পরিবার ধরে রাখে তাঁর নাম হিসেবে। সাহেব বিশ্বাস করেন, এমন রূপ বা পরিচয় কাকতালীয় নয়, বরং এটি অতীতজন্মের প্রাপ্তি। তিনি আত্মা, পুনর্জন্ম আর আধ্যাত্মিকতার গভীর বিশ্বাসী, মনে করেন আজ যে অবস্থানে তিনি পৌঁছেছেন, তার পেছনে রয়েছে বহু জন্মের পরিশ্রম।

তবে ভূতের অস্তিত্বেও তাঁর বিশ্বাস, আর তাদের নিয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা হোক তা একেবারেই চান না তিনি! ইন্ডাস্ট্রিতে তিনি প্রসেনজিৎ থেকে চিরঞ্জিত, অনেকেরই ঘনিষ্ঠ। তবে সাহেবের মতে, বড়পর্দায় তিনি যতটা সুযোগ পাননি, ছোটপর্দাই তাঁকে বেশি মর্যাদা দিয়েছে। একাধিক জনপ্রিয় ধারাবাহিকে তাঁর চরিত্রগুলি দর্শকদের হৃদয়ে পাকাপাকি জায়গা করে নিয়েছে। বড়পর্দায় কখনও নেতিবাচক চরিত্র, কখনও স্বল্পদৈর্ঘ্যের উপস্থিতি— সবটাই তিনি নিয়েছেন ভাগ্যের খেলা হিসেবে। বেশ কিছু ছবিতে কাজ করেও সেগুলো মুক্তি পায়নি।

অথচ অভিনেতার মতে, সেগুলিই ছিল তাঁর কেরিয়ারের সেরা কাজ। এই আক্ষেপ থাকা সত্ত্বেও তাঁর কণ্ঠে ফুটে ওঠে কৃতজ্ঞতার সুর। গান দিয়ে যাত্রা শুরু হলেও অভিনয়ে কিভাবে এলেন তিনি? সাহেব জানান, জীবন তাঁকে যেদিকে টেনেছে, সেদিকেই গিয়েছেন। কোনও কিছু তিনি প্ল্যান করে করেন না, এমনকি এখনও কোনও ম্যানেজমেন্ট টিমও নেই তাঁর। ছোটবেলা থেকেই থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, রবীন্দ্রনাথের প্রায় সব নাটকেই কোনও না কোনও চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ বড়রাজা বাবুর রাজ্যাভিষেক হতেই নৃসিংহদেবের প্রকোপের মুখে রাজপরিবার! ঈশ্বরের স্বপ্নাদেশে মিলল অশনি সংকেত! প্রকাশ্যে দুর্ধর্ষ প্রোমো!

সেই অভিজ্ঞতা তাঁর ভিতকে মজবুত করেছে। প্রচারবিমুখ এই মানুষটি মনে করেন, ভাগ্যই তাঁকে এই জায়গায় নিয়ে এসেছে। গানের প্রতি অনুরাগ, অভিনয়ে আত্মস্থ হওয়া আর আধ্যাত্মিক দর্শনে বিশ্বাস— এই তিন স্তম্ভে ভর করেই সাহেব চট্টোপাধ্যায় এক অনন্য পরিচিতি গড়ে তুলেছেন বিনোদনের জগতে। তাঁর মতে, যাঁরা নিরন্তর চেষ্টা করেন, তাঁরা ঠিক একদিন পৌঁছে যান তাঁদের প্রাপ্য জায়গায়। আর সাহেব সেই উদাহরণ— যিনি তাঁর প্রতিভা, পরিশ্রম আর বিশ্বাস দিয়ে গড়ে তুলেছেন নিজের আলাদা জগৎ।

Back to top button