‘শচীন দেব বর্মনের ছেলে এমন একটা গান জঘন্য গান করেছে?’ ‘বর্তমানে তো AI সব কাজ করে দিচ্ছে, আমাদের আর কাজ কি!’ ‘সব পরিবর্তন মানতে পারছি না!’ গানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা! বর্তমান সময়ের পরিবর্তন নিয়ে মুখ খুললেন রূপঙ্কর বাগচী!

বাংলা সঙ্গীত জগতের অন্যতম জনপ্রিয় ও প্রতিষ্ঠিত নাম রূপঙ্কর বাগচী (Rupankar Bagchi)। নব্বইয়ের দশকের শেষভাগ থেকে নিজের স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বর এবং নিজস্ব গায়নশৈলী দিয়ে তিনি শ্রোতাদের মন জয় করে আসছেন। ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার’ প্রাপ্ত এই শিল্পী বাংলা আধুনিক গান, সিনেমার নেপথ্য সঙ্গীত থেকে শুরু করে রবীন্দ্রসঙ্গীতেও নিজের দক্ষতার ছাপ রেখেছেন। দীর্ঘ বহু বছরের সঙ্গীতজীবনের অভিজ্ঞতা এবং অবদানের কারণে সঙ্গীতপ্রিয় বাঙালির কাছে তাঁর মতামত বরাবরই বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
সম্প্রতি এক একান্ত সাক্ষাৎকারে বর্তমান জেনারেশন এবং সঙ্গীত ভাবনার পরিবর্তন নিয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করেছেন এই প্রবীণ শিল্পী। সময়ে সঙ্গে সঙ্গে বদল আসা স্বাভাবিক, আর রূপঙ্করও সেই পরিবর্তনকে ইতিবাচকভাবেই গ্রহণ করতে ভালোবাসেন। তাঁর স্পষ্ট দাবি যুগের এই পরিবর্তন যে তাঁর খারাপ লাগছে, তা মোটেই নয়। বরং সময়ের সাথে বহু পরিবর্তনকে তিনি সানন্দে গ্রহণ করেছেন এবং তাতে বেশ খুশিই হয়েছেন। তবে সব পরিবর্তনের সঙ্গে মন মেলানো যে সহজ নয়, তাও অকপটে স্বীকার করেছেন তিনি।
শিল্পীর প্রধান উদ্বেগের জায়গা তৈরি হয়েছে বর্তমান সময়ের প্রযুক্তি এবং সঙ্গীতের মেলবন্ধন নিয়ে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-এর মাধ্যমে গান তৈরির প্রবণতা তাঁকে বেশ ভাবিয়ে তুলেছে। রূপঙ্করের কথায়, বর্তমানে AI প্রযুক্তির হাতে শুধু গানের কথা আর সুরের একটু আভাস তুলে দিলেই মুহূর্তের মধ্যে তৈরি হয়ে যাচ্ছে আস্ত একটি মিউজিক্যাল কম্পোজিশন। এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন প্রযুক্তি যদি সুরকার কিংবা গীতিকারের সমস্ত কাজ একাই করে দেয়, তবে ভবিষ্যতে প্রকৃত সুরকার ও গায়কদের কাজের গুরুত্ব কোথায় গিয়ে ঠেকবে?
সঙ্গীতের এই যান্ত্রিক বিবর্তন বোঝাতে গিয়ে তিনি একটি পুরোনো পারিবারিক অভিজ্ঞতার কথা টেনে আনেন। তিনি জানান, একসময় শচীন দেব বর্মনের ছেলে রাহুল দেব বর্মনের নতুন ধারার গান শুনে রূপঙ্কর বাগচীর দাদু অবাক হয়ে গিয়েছিলেন। বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি বলেছিলেন, “শচীন দেব বর্মনের ছেলে শেষ পর্যন্ত এমন একটা গান গাইলেন!” এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে সঙ্গীতের রূপ বদলালে পুরোনো প্রজন্মের চমকে যাওয়াটা নতুন কিছু নয় এই উদাহরণের মাধ্যমে শিল্পী বুঝিয়েছেন যে সুরের পরিবর্তন স্বাভাবিক, কিন্তু সুর সৃষ্টির মূল ভাবনাটাই যদি যন্ত্রের হাতে চলে যায়, তবে তা সত্যিই চিন্তার।
আরও পড়ুনঃ ‘রাজনৈতিক ফায়দা তুলবেন না!’ ‘স্বপ্নভাঙার বিচার চাই!’ নিট দুর্নীতিতে সরব জিৎ! দিল্লির উত্তাল আন্দোলনে টলিউড সুপারস্টারের পাশে থাকার বার্তা!
সব মিলিয়ে রূপঙ্করের বক্তব্য স্পষ্ট যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলা বা নতুন পরীক্ষানিরীক্ষায় তাঁর কোনো আপত্তি নেই, কিন্তু যন্ত্র যেন মানুষের সৃষ্টিশীলতাকে গ্রাস না করে ফেলে। শিল্পের আসল প্রাণ লুকিয়ে থাকে শিল্পীর অনুভূতির মধ্যে, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা প্রযুক্তি কখনোই পুরোপুরি দিতে পারে না। প্রযুক্তির যুগে সঙ্গীতের ভবিষ্যৎ কোনো যান্ত্রিক পথ নেবে নাকি মানবিক অনুভূতির জয় হবে, সেই প্রশ্নই যেন তুলে ধরেছেন অভিজ্ঞ এই সুরসাধক।

