‘মা খোলাখুলি তাঁর পুরুষ বন্ধুদের সঙ্গে ডেট করতেন…বাবা কোন আপত্তি করেননি’ ‘চুমু খেতে দেখেছি, আমার সামনেই তাঁরা আদর করতেন’- মা বাবার সম্পর্ক নিয়ে বিস্ফোরক কবীর সুমন!

সঙ্গীত জগতের (Music Industry) জনপ্রিয় শিল্পীদের মধ্যে যাকে নিয়ে সব থেকে বেশি চর্চা হয়, যিনি খবরের শিরোনামে মাঝেমধ্যেই উঠে আসেন তিনি হলেন কবীর সুমন (Kabir Suman)। রাজনৈতিক বিষয় হোক বা অন্য কোনো বিষয় সব বিষয়ে মন্তব্য করে বারবার খবরের শিরোনাম উঠে এসেছেন তিনি।

গায়কের কাছের মানুষদের মধ্যে একজন ছিলেন তার মা। কবে সুমনের জীবনে বেশিরভাগ জায়গা জুড়েই ছিলেন তার মা। মাঝেমধ্যে মায়ের স্মৃতি চরণে ভেসে যান কবীর সুমন। কিছুদিন আগে মায়ের পুরোনো দিনের স্মৃতি নিয়ে কিছু কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাগ করে নিয়েছিলেন তিনি। যা অনেকেই জানতেন না।

আশির দশকে মায়ের সঙ্গে ওয়াশিংটন গিয়েছিলেন কবীর সুমন। কোন এক ব্যক্তি সেই ছবি তাঁকে হঠাৎই পাঠিয়েছেন। আর তা দেখেই বেশ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন কবীর সুমন। কবীর সুমন সকলের সঙ্গে নিজের অনুভূতি শেয়ার করে লেখেন, ‘মায়ের সঙ্গে আমার ছবি খুব কম। এই ছবিটা কে যেন পাঠিয়েছেন আমায়। সেই কবে আমেরিকায় তোলা। ১৯৮০ সালে ভি ও এর চাকরি নিয়ে চলে গিয়েছিলাম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। মূর্খ তাই চাকরি ছেড়ে ফিরে এসেছিলাম।’

মা-কে লিখতে গিয়ে তিনি লেখেন, ‘অসামান্য এক মহিলা ছিলেন আমার মা। সারাজীবন স্বাধীনচেতা। বেপরোয়া। কারুর তোয়াক্কা করেননি। জন্মস্বাধীন। অক্লান্ত পাঠক। বই আর বই। আমার ৭/৮ বছর বয়স থেকে ইণ্ডিয়ান এয়ারলাইন্সে চাকরি করতেন। আমাকেও নিত্যজীবনে স্বাবলম্বনের পাঠ দিয়েছিলেন। মা মা করিনি কখনও। মার্ক্সিস্ট ছিলেন। সিপিআইএমের সমর্থক। তারপর নকশালপন্থী।’

সুমনের কথায় তাঁর মায়ের গানের প্রতি বরাবর বেশি ঝোঁক ছিল। ‘সুগায়িকা ছিলেন। চারের দশকে বেতারে তো গাইতেনই, গ্রামোফোন রেকর্ডও ছিল। বাবা আকাশবাণীতে কাজি নজরুল ইসলামের সুপারিশে চাকরি নেওয়ার পর বাবা মা দুজনেই বেতারে গান গাওয়া বন্ধ করে দেন নীতিগত কারণে। মা অভিনয়ও করতেন। রক্তকরবীর এক বিখ্যাত শো’তে মা ছিলেন নন্দিনী আর দেবব্রত বিশ্বাস বিশু পাগল। নিউ এম্পায়ারে মঞ্চস্থ হয়েছিল। আমার ধারণা, দুজনের মধ্যে কিঞ্চিৎ প্রণয়ও ছিল। প্রথমবার চীনে গান গাইতে গিয়ে (মনে হয় যেন গত জন্মের কথা) দেবব্রতবাবু মার জন্য এক রাশ উপহার নিয়ে এসেছিলেন। কাঁচের তৈরি কী চমৎকার সব ক্ষুদে পুতুল। দেবব্রত বিশ্বাস এলআইসি’র এজেন্ট ছিলেন। তাঁর প্রথম দুই পলিসি নিয়েছিলেন মা আর বাবা।’

কবীর সুমন বলেছেন, তাঁর মা ছিলেন বরাবরের স্বাধীনচেতা। ‘মা স্বাভাবিকভাবে, খোলাখুলি তাঁর পুরুষ বন্ধুদের সঙ্গে ডেট করতেন সেই ব্রিটিশ আমল থেকে আমার যৌবনকাল পেরিয়ে। আমার বাবার তাতে কোনও অসুবিধে দেখিনি। ছেলেবেলা থেকে যৌবনকাল অবধি মা বাবাকে দস্তুরমতো চুমু খেতে দেখেছি – লুকিয়ে নয়। আমার সামনেই তাঁরা আদর করতেন।’

আরও পড়ুনঃ “বাবা ছাড়া আমি বাঁচব কি করে? সব শেষ হয়ে গেল আমার!”— বাবাই ছিল বেঁচে থাকার একমাত্র লক্ষ্য! বাবার অকাল মৃ’ত্যুতে ভেঙে পড়েছেন সম্পূর্ণা লাহিড়ী!

গায়ক যখন নিজের নাম বদল করেছিলেন, সেই সময় তাকে নিয়ে তার মাকে অনেক কটাক্ষ করা হয়েছিল। কবীর সুমনের কথায়, ‘আমি আমার নাম পাল্টানোর পর অনেকে আমার মাকে ফোন করে বলতেন, ‘আপনার ছেলে তো মুসলমান হয়ে গেল!’ আমার মা তাঁদের বলতেন, ‘আমার ছেলে বলেই তো হলো, নয়তো কি তোমার বাবা হবেন?’ – ব্রিটিশ আমলে মার সঙ্গে এক সম্ভ্রান্ত বাঙালি মুসলমান যুবকের আলাপ ও মন দেওয়া-নেওয়া হয়েছিল। বিয়ের কথাও হয়েছিল। সে আমলে সিভিল ম্যারেজ ছিল না। আমার মা আমায় বলেছিলেন সেই যুবকটির জন্য মার মুসলমান হতে আপত্তি ছিল না। কিন্তু মাঝপথে সুগায়ক ও সুদর্শন সুধীন্দ্রনাথ ব্যুহে ঢুকে পড়ায় সেই ব্যারিস্টার ভদ্রলোকের কপাল পুড়ল।’

Back to top button