শ’ত্রুর ডেরায় দিতি! গোরার ট্র্যাকার কি বাঁচাতে পারবে অদ্বিতীয়ার প্রাণ? দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

জমে উঠেছে জি বাংলার (Zee Bangla) তারে ধরি ধরি মনে করি (Tare Dhori Dhori Mone kori) ধারাবাহিক। ধারাবাহিকের গতকালের গর্বে দেখানো হয়েছে, দিতি যখন ল্যাপটপে চাকরির আবেদন করতে ব্যস্ত, তখন গোরা তার নিরাপত্তার খাতিরে দরজায় এক লক্ষণ রেখা টেনে দেয়। তার ভয়, বাড়ির বাইরে পা রাখলেই দিতির প্রাণ সংশয় হতে পারে। দিতি আর গোরার সম্পর্কের মাঝে বারবার বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে গোরার সেই লক্ষণ রেখা। গোরা তাকে বারবার বাইরের জগতের বিপদ সম্পর্কে সাবধান করলেও, দিতির মনে স্বাবলম্বী হওয়ার ইচ্ছা প্রবল। সে চায় নিজের পায়ে দাঁড়াতে, আর দিতির এই জেদকেই নিজের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে চায় কুন্তলা ও পুলস্ত্য।
কুন্তলা ভেতরে ভেতরে শত্রুতা করে দিতির সব খবর পৌঁছে দিচ্ছে পুলস্ত্যকে। সে জানে দিতি একবার যখন সিদ্ধান্ত নিয়েছে চাকরি করার, সে যাবেই। এই সুযোগে কুন্তলার থেকে নম্বর নিয়ে পুলস্ত্য হিয়াকে দিয়ে দিতিকে ফোন করায় এবং চাকরির লোভনীয় প্রস্তাব দেয়। লক্ষ্য একটাই দিতিকে গোরার নিরাপত্তা বলয় থেকে বের করে আনা। পরদিন গোরার বাড়িতে পুজোর আয়োজন। এই ব্যস্ততার মাঝে দিতি যখন বাড়ি থেকে বের হতে চায়, তখন গোরার মা এবং বাড়ির বাকি সদস্যরা তাকে বাধা দেয়। তারা কিছুতেই এই শুভ কাজের দিনে দিতিকে বাইরে যেতে দিতে রাজি নয়। একপ্রকার জোর করেই তাকে ঘরে আটকে রাখা হয়।
সুযোগ হাতছাড়া হচ্ছে দেখে কুন্তলা এবার সহানুভূতির নাটক শুরু করে। সে দিতির কাছে গিয়ে মিথ্যে দুঃখ প্রকাশ করে বলে আমারও খুব ইচ্ছে ছিল চাকরি করার, কিন্তু বাবা দেয়নি। সে যখন সুযোগ পেয়েছ, দিতিকে সে সাহায্য করব। কুন্তলার এই মিথ্যে আশ্বাসে বিশ্বাস করে দিতি বাড়ি থেকে পালানোর পরিকল্পনা করে। বেরোনোর সময় গোরার সাথে তার মুখোমুখি দেখা হলেও, মাথার ওপর ঘোমটা থাকায় গোরা তাকে চিনতে পারে না। দিতি পা বাড়ায় অজানার পথে, গন্তব্য কলকাতা।
ঝড় গোরার মনে পুরনো কোনো অশুভ স্মৃতি জাগিয়ে তোলে। এর আগেও যখন দিতির ওপর বিপদ এসেছিল, আবহাওয়া এমনই ছিল। আতঙ্কিত গোরা বাড়িতে ফিরেই দিতিকে খুঁজতে শুরু করে। গোরা কুন্তলাকে জিজ্ঞেস করলে সে অবলীলায় মিথ্যে কথা বলে দেয়। ঘরে গিয়ে গোরা দেখতে পায় দিতি নেই, শুধু পড়ে আছে একটি চিঠি। সেই চিঠি পড়েই গোরার পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যায়। সে বুঝতে পারে দিতি অনেক বড় বিপদে পা বাড়িয়েছে।
আরও পড়ুনঃ বইয়ের মধ্যেই লুকিয়ে য’ন্ত্রণার ইঙ্গিত! ‘আমার চি’তায় কাঠ নয়, এক দিস্তা বই দিও…’ জীতু কমলের কথায় ভেঙে পড়লেন অনুরাগীরা! হঠাৎ কেন এমন কথা বললেন তিনি? কি হয়েছে অভিনেতার?
দিতি যখন গাড়িতে করে কলকাতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, সে জানে না যে গোরা আগে থেকেই তার ফোনে একটি ট্র্যাকার অ্যাপ ইনস্টল করে রেখেছিল। সেই ট্র্যাকার অনুসরণ করেই গোরা ঝড়ের বেগে ধাওয়া করে দিতিকে। এদিকে দিতি যখন পুলস্ত্যের দেওয়া ঠিকানায় পৌঁছায়, তখন তার মনে কু ডাকতে শুরু করে। সে বুঝতে পারে সে এক ভয়াবহ ফাঁদে পা দিয়েছে, কিন্তু ততক্ষণে পালানোর পথ বন্ধ হয়ে গেছে। ঠিক সেই মুহূর্তেই গোরা সেখানে এসে পৌঁছায়। এখন দেখার বিষয়, গোরা কি পারবে পুলস্ত্যের হাত থেকে দিতিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে? নাকি এই ঝড় সব লণ্ডভণ্ড করে দেবে?

