‘মায়ের দেওয়া আঘাত মনে রাখতে চাই না…’ ‘মাকে আমি আজও ভীষণ ভালোবাসি…’ ‘মাকে অস্বীকার করা যায় না!’ “মা” হওয়ার পরই কি নিজের মায়ের কষ্টটা বুঝতে পারছে অহনা? তিক্ত অতীত মুছে, মায়ের স্মৃতিচারণ! অহনা দত্তের কন্ঠে মন খারাপের সুর!

ছোটপর্দার অত্যন্ত পরিচিত ও জনপ্রিয় মুখ অভিনেত্রী অহনা দত্ত (Ahana Dutta) নিজের অভিনয় দক্ষতার গুণে যেমন দর্শকদের মন জয় করেছেন, তেমনই তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে চর্চাও কম হয়নি। অহনার জীবন ও কেরিয়ারের শুরুর দিকে তাঁর পাশে সবচেয়ে বড় স্তম্ভ হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন তাঁর জন্মদাত্রী। শৈশব থেকে কৈশোর পর্যন্ত সব ক্ষেত্রে অভিনেত্রীর জীবন ঘিরে ছিল প্রগাঢ় মাতৃত্বের ছায়া। তাঁদের মধ্যে বন্ধুত্বের টান এতটাই জোরালো ছিল যে, সাধারণ মানুষের কাছে তাঁদের সম্পর্ক এক বিশেষ উদাহরণ তৈরি করেছিল।

তবে সম্পর্কের সেই চেনা ছন্দ একদিন হঠাৎই বদলে যায়। মেকআপ আর্টিস্ট দীপঙ্কর রায়ের ভালোবাসায় পড়ার পর অহনার জীবনে আসে এক নতুন মোড়। পারিবারিক অমত ও নানা প্রতিকূলতা থাকা সত্ত্বেও নিজের ভালোবাসার মানুষের হাত ধরে বাড়ি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন অহনা। ঘর ছেড়ে দীপঙ্করের সাথে সংসার শুরু করার পর স্বাভাবিকভাবেই ছেদ পড়ে পুরোনো পারিবারিক বাঁধনে। বহু চেষ্টা ও সময়ের ব্যবধান সত্ত্বেও তাঁদের মধ্যকার দূরত্ব আর মিটে যায়নি।

বর্তমানে অহনা ও দীপঙ্করের সংসারে এসে পৌঁছেছে তাঁদের প্রথম সন্তান একটি ফুটফুটে কন্যাসন্তান। নিজে মাতৃত্বের স্বাদ পাওয়ার পর অহনার জীবনে এক নতুন অনুভূতি তৈরি হয়েছে। সন্তানকে কোলে নিয়ে সংসার সামলানোর মাঝেই জীবনের হিসাব-নিকাশ যেন কিছুটা বদলে গিয়েছে। তবে ব্যক্তিগত জীবনে নতুন এই খুশির আলো এলেও, পরিবারের সাথে ভেঙে যাওয়া সেই সম্পর্ক আজও জোড়া লাগেনি।

সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের এই আবেগঘন অধ্যায় নিয়ে মুখ খুলতে দেখা যায় অভিনেত্রীকে। জীবনের কঠিন স্মৃতিগুলোকে মন থেকে সরিয়ে রেখে কেবল শৈশবের সুন্দর দিনগুলোর প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা ব্যক্ত করতে গিয়ে অহনা অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। মনের সমস্ত আগল ভেঙে তিনি খোলাখুলিভাবে বলেন, “আমি কোনদিনও কাউকে অস্বীকার করিনি অস্বীকার করার জায়গা নেই মাকে অস্বীকার করা যায় না কিন্তু একটা সময়কে আমি অস্বীকার করবো…তার আগে ডেফিনেটলি মানে আই ওয়াস দা ক্লোজেস্ট টু মাই মাদার সো মানে মা আমার কাছে বিশাল বড় একটা জিনিস ছিল আছে এবং সারাজীবন থাকবে কিন্তু তারপরে একটা ফেজ আমার মনে নেই কারণ মানুষ হয়তো যাকে সব থেকে বেশি ভালোবাসে তার আঘাতটা মনে রাখতে চায় না সো আমি আঘাতটা মনে রাখিনি তার আগের ফেসগুলো মনে আছে আমরা একসাথে অনেক ঘুরতে যেতাম খেতে যেতাম…মার কাছে আমার প্রথম নাচ শেখা মায়ের সাথে প্রথম ডান্স করা সো আমার অস্বীকার করার কোন জায়গাই নেই কিন্তু যে ফেসটা আমি ভুলে গেছি আমি সেটা নিয়ে কথা বলি না কারণ ওইটা আমি মনেই রাখতে চাই না।”

আরও পড়ুনঃ ঘর শত্রু বিভীষণ! বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে দাদার টাকা চুরি করলো শান্তনু! ছেলেদের শিক্ষা দেখে হতবাক শ্রীনিবাস! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

মায়ের থেকে দূরে থাকলেও অহনা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তাঁর জীবনে শৈশবের সেই প্রাথমিক দিনগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম। ভালোবাসার সম্পর্কে জড়ানো এবং সংসার শুরু করার পরে আসা কষ্টদায়ক মুহূর্তগুলোকে ভুলেই তিনি সামনে এগিয়ে যেতে চান। তিক্ত অভিজ্ঞতা ভুলে গিয়ে কেবল ভালোবাসার স্মৃতিটুকু লালন করাই যে তাঁর একমাত্র পথ, তা অভিনেত্রীর স্পষ্ট বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

Back to top button