অন্তিম মুহূর্তে অচিন্ত্যর পাল্টা চাল! গোরার প্রাণ রক্ষায় ভয়ানক আঘাত! দারুব্রহ্মের শক্তিতে কি ধ্বংস হবে কালো জাদু?

জি বাংলার (Zee Bangla) তারে ধরি ধরি মনে করি (Tare Dhori Dhori Mone Kori) ধারাবাহিকের গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, গোরা ও তার দাদুসহ বাড়ির সকলে যখন উপরে ছুটে যায়, তখন তারা দিতিকে অজ্ঞান অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে। জ্ঞান ফেরার পর দিতি যখন সবাইকে জানায় যে স্বয়ং শচীমাতা তাকে দর্শন দিয়েছেন, তখন উপস্থিত সবাই ভীষণ অবাক হয়ে যায়। এর মধ্যেই তারা লক্ষ্য করে যে ঘরের সেই পবিত্র পদ্মফুলের মালাটি সেখানে নেই। রহস্যের জট খুলতে সবাই যখন মহাপ্রভুর মন্দিরে ছুটে যায়, তখন সেখানে এক অলৌকিক দৃশ্য দেখতে পায় চুরি হয়ে যাওয়া মালাটি পরম শ্রদ্ধায় মহাপ্রভুর গলায় শোভা পাচ্ছে! এই স্বর্গীয় ঘটনার ফলে কুন্তলের সমস্ত কুৎসিত প্ল্যান এবং কুচক্রী ষড়যন্ত্র নিমেষেই মাটিতে মিশে যায়। মহাপ্রভুর আশীর্বাদে গোস্বামী বাড়ির কোনো ক্ষতি সে করতে পারে না। এরপর গোরা যখন মহাপ্রভুর সামনে গভীর ধ্যানে বসে, তখন তার অন্তশ্চক্ষুর সামনে ভেসে ওঠে একটি অলৌকিক সঙ্কেত। ধ্যানের মাধ্যমে সে স্পষ্ট দেখতে পায়, তাদের বাড়ি থেকে চুরি হয়ে যাওয়া পরম পবিত্র ‘দারুব্রহ্ম’ কাঠটি ঠিক কোথায় লুকিয়ে রাখা হয়েছে।
গোরার মুখ থেকে সমস্ত কথা শোনার পর অভিজ্ঞ দাদু সহজেই বুঝতে পারেন যে, সেই পুরনো কুখ্যাত শয়তান আবার ফিরে এসেছে এবং কোনো বড়সড় অমঙ্গলের ছক কষছে। এই পরিস্থিতিতে দিতি দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করে যে, যত বাধা-বিপত্তি বা বিপদের সম্মুখীনই হতে হোক না কেন, সে এবং গোরা মিলে যেকোনো মূল্যে সেই পবিত্র দারুব্রহ্ম কাঠ ফিরিয়ে আনবেই। গোরা তার ধ্যানের মাধ্যমে আরও জানতে পারে যে, ওই শয়তান তান্ত্রিকটি আজ রাতেই এক চরম সিদ্ধি লাভের জন্য ‘শব সাধনা’ বা মৃতদেহ নিয়ে তান্ত্রিক ক্রিয়া করবে। চতুর গোরা এই ভয়ানক সুযোগটাকেই কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নেয়। সে দিতিকে জানায়, দারুব্রহ্ম উদ্ধার করতে হলে তাকে নিজেকেই মৃতদেহ সেজে ওই তান্ত্রিকের মণ্ডপে পৌঁছাতে হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, বাড়িতে সব কথা জানিয়ে গোরা, দিতি এবং গোরার ভাই অচিন্ত্য সেই অন্ধকার গা-ছমছমে শ্মশানের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।

এদিকে সেই শয়তান সাধু তার আসুরিক ক্ষমতার জোরে আগে থেকেই বুঝতে পেরেছিল যে গোরারা তাকে রুখতে আসছে। গোরা ও দিতি শ্মশানে পৌঁছালেও, সাধু নিজের মায়াবী ক্ষমতাবলে অদৃশ্য হয়ে থাকায় তারা প্রথমে তাকে দেখতে পায় না। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে গোরা তার পূর্বপরিকল্পনা মতো মরা সেজে মাটিতে শুয়ে পড়ে, যাতে সাধুর চেলারা তাকে আসল মৃতদেহ ভেবে সাধনার জায়গায় নিয়ে যায়। গোরার অনুমান সত্যি করে সাধুর দুই চ্যালা তাকে একটি সত্যিকারের লাশ মনে করে তুলে নিয়ে তান্ত্রিকের গণ্ডির ভেতরে চলে যায়। অশুভ শক্তির সেই অন্ধকার উপাসক, চারদিকের ভয়ংকর তান্ত্রিক পরিবেশ আর মৃত্যুর হিমশীতল ছায়া—সব মিলিয়ে পুরো শ্মশানজুড়ে এক চরম উত্তেজনা ও গায়ে কাঁটা দেওয়া পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যা দেখার পর যে কারোরই বুক কেঁপে উঠতে বাধ্য।
মৃতদেহ সেজে অশুভ শক্তির সেই মরণফাঁদের মধ্যে প্রবেশ করা মাত্রই গল্পের উত্তেজনা চরম সীমায় পৌঁছায়। জীবিত অবস্থায় গোরার পক্ষে সেই শয়তান গুরুদেবের সামনে শুয়ে থাকা এবং তার একের পর এক নিষ্ঠুর তান্ত্রিক আঘাত সহ্য করা ছিল অত্যন্ত কঠিন ও ভয়ংকর। শুভশক্তির এই লড়াই কতটা যন্ত্রণাদায়ক হতে পারে, তা গোরার ছটফটানি দেখে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল। ওদিকে গণ্ডির বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা অদ্বিতীয়া সব বুঝতে পেরেও গণ্ডির ভেতরে প্রবেশ করতে পারছিল না। এই চরম বিপদের মুহূর্তে গোরাচাঁদ একা হাতে যেভাবে অসীম সাহসের সাথে পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করছিল, তা ছিল সত্যিই প্রশংসনীয়। অন্যদিকে গণ্ডির বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা দিতির ভেতরের অসহায়তা, ছটফটানি আর প্রিয় মানুষের জন্য তীব্র ভয় পুরো পরিবেশকে আরও বেশি ভারী করে তুলেছিল।
আরও পড়ুন: ‘আমি এবং আমার পরিবার মারাত্মক সন্ত্রস্ত!’ ‘ওপেনলি বলা হচ্ছে গুলি চলবে! খুনের হুমকিতে কাঁপছেন অভিনেতা সোহম চক্রবর্তী ও তার পরিবার!
গল্পের একদম শেষ মুহূর্তে এসে ঘটনা এক নাটকীয় মোড় নেয়। গোরা যখন শয়তানের নিষ্ঠুর অত্যাচারে প্রায় দিশেহারা, ঠিক তখনই গোরার ভাই অচিন্ত্য এক অসীম সাহসের পরিচয় দেয়। সে আর কালবিলম্ব না করে, সেই পরম পবিত্র ‘দারুব্রহ্ম’ কাঠটি দিয়েই সরাসরি ওই শয়তান তান্ত্রিকের উপর পালটা জোরালো আঘাত হানে। দারুব্রহ্মের ঐশ্বরিক শক্তির স্পর্শে শয়তানের কালো জাদু ও দম্ভের ভিত যেন কেঁপে ওঠে। এই আকস্মিক প্রতি-আঘাতের পর শ্মশানের সেই অশুভ পরিবেশ আরও রহস্যময় ও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। তবে এই মহালড়াইয়ের এখানেই শেষ নয় সামনে যে আরও বড় কোনো ভয়ংকর বা অলৌকিক কিছু অপেক্ষা করছে, তা স্পষ্ট। এখন দেখার বিষয়, আগামী পর্বে মহাপ্রভুর কৃপায় শুভশক্তির জয় হয় নাকি অশুভ শক্তি নতুন কোনো রূপ ধারণ করে।

