‘আমি এবং আমার পরিবার মারাত্মক সন্ত্রস্ত!’ ‘ওপেনলি বলা হচ্ছে গুলি চলবে! খুনের হুমকিতে কাঁপছেন অভিনেতা সোহম চক্রবর্তী ও তার পরিবার!

টলিউড (Tollywood) অভিনেতা তথা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সোহম চক্রবর্তীকে (Soham Chakraborty) কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতি ও বিনোদন দুনিয়ায় তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে তিনি নিজেকে এবং নিজের পরিবারকে নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতার কথা প্রকাশ করেছেন। সোহম খোলাখুলি অভিযোগ করেছেন যে, তাঁকে সরাসরি প্রাণনাশের হুমকি বা ‘লাইফ থ্রেট’ দেওয়া হচ্ছে। এই ঘটনার পর থেকে তিনি ও তাঁর পরিবার অত্যন্ত ভীত ও সন্ত্রস্ত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। নিজের সুরক্ষার চেয়েও এই মুহূর্তে তাঁর স্ত্রী, সন্তান ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে বেশি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিনেতা। ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে তিনি আইনি পদক্ষেপ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং জনসমক্ষে পুরো বিষয়টি তুলে ধরেছেন।

এই চরম বিবাদ ও হুমকির সূত্রপাত মূলত আট বছর আগের একটি সিনেমাকে কেন্দ্র করে। ২০১৮ সালে একটি নতুন চলচ্চিত্রের প্রজেক্টে সই করেছিলেন সোহম। সেই সময় প্রযোজনা সংস্থা ‘সিনাস’-এর কর্ণধার তরুণ দাস অভিনেতা সোহম চক্রবর্তীকে অগ্রিম বা সাইনিং অ্যামাউন্ট হিসেবে ১৫ লক্ষ টাকার একটি চেক প্রদান করেছিলেন। কিন্তু সোহমের দাবি অনুযায়ী, পরবর্তীতে ছবির পরিচালক মৌমা চক্রবর্তীর সাথে প্রযোজকের তীব্র ব্যক্তিগত মতবিরোধ ও দুর্ব্যবহারের কারণে সিনেমাটির কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এই প্রজেক্টের চক্করে অভিনেতাকে অন্য দুটি সিনেমার কাজ বাতিল করতে হয়েছিল, যার ফলে তিনি আর্থিক ও প্রফেশনাল ক্ষতির সম্মুখীন হন। দীর্ঘ আট বছর পর, হঠাৎ করেই সেই প্রযোজক কোনো পূর্ব যোগাযোগ ছাড়াই বকেয়া টাকা ফেরতের দাবিতে অভিনেতার ওপর চড়াও হন।

সোহম জানিয়েছেন, তিনি বিষয়টি অত্যন্ত পেশাদার বা প্রফেশনাল উপায়ে মিটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি প্রযোজককে প্রস্তাব দেন যে, অতীতে যে ১৫ লক্ষ টাকা অগ্রিম নেওয়া হয়েছিল, সেই টাকা মাইনাস করেই তিনি বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়েও ওই পুরনো পারিশ্রমিকেই সিনেমাটির কাজ শেষ করে দিতে রাজি আছেন। কিন্তু প্রযোজক তরুণ দাস সেই প্রস্তাবে রাজি না হয়ে উল্টো অভিনেতার ওপর সমস্ত দায় চাপাতে শুরু করেন এবং অত্যন্ত অহংকারী ও আগ্রাসী মনোভাব দেখান। পরিস্থিতি আরও জটিল হয় যখন প্রযোজক সরাসরি সোহমকে উদ্দেশ্য করে বলেন যে ‘রাস্তায় গুলি চলবে’ এবং তিনি যদি আত্মহত্যা করেন তবে সুসাইড নোটে সোহমের নাম লিখে তাঁকে ফাঁসিয়ে দিয়ে যাবেন। ঘটনার সত্যতা প্রমাণ করতে সোহম তৎকালীন পরিচালকের সাথে ফোনে স্পিকার অন করে কথা বললে, প্রযোজক ক্ষিপ্ত হয়ে পরিচালককেও আদালতে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।

সমগ্র বিষয়টিতে আরও একটি চাঞ্চল্যকর দিক উঠে এসেছে, তা হলো একটি সম্পূর্ণ পেশাদারি বা ফিল্মি তরজাকে জোরপূর্বক রাজনৈতিক রঙ দেওয়ার চেষ্টা। সোহমের অভিযোগ, প্রযোজক তরুণ দাস প্রথম থেকেই নিজেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের সাথে যুক্ত বলে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছেন। কথোপকথনের এক পর্যায়ে তিনি শুভেন্দু অধিকারী এবং রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো শীর্ষস্থানীয় বিজেপি নেতাদের নাম জড়িয়ে বিষয়টিকে পলিটিক্যাল এঙ্গেল দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং ‘জয় শ্রীরাম’ ও ‘জয় বাংলা’ স্লোগান তুলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করেন। এই প্রসঙ্গে সোহম প্রবীণ নেত্রী রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের সাথে যোগাযোগ করলে, রূপা দেবীও ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং সোহমকে সমস্ত নথিপত্র জমা দিতে বলেন যাতে আইনি পথে এর মোকাবিলা করা যায়।

আরও পড়ুনঃ ‘আমাকেও বাইরে বের করে দেওয়া হয়েছে!’ টলিউডে অলিখিত ‘ব্যান সংস্কৃতি’! পাপিয়া অধিকারীর পাশে দাঁড়িয়ে ক্ষোভ উগরে দিলেন মুমতাজ সরকার!

দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ময়দান ও চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিতে সক্রিয় থাকার পর, এই আকস্মিক ঘটনা সোহমকে মানসিকভাবে গভীরভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। নির্বাচনের পর একটানা প্রায় দেড় মাস বাইরে কাটানো এবং অক্লান্ত পরিশ্রমের পর, বর্তমানে তিনি ঘরবন্দী হয়ে নিজের অসুস্থ বাবা, মা ও সন্তানদের সময় দিচ্ছেন। অভিনেতা অকপটে স্বীকার করেছেন যে, এই চরম মানসিক হেনস্থা ও হুমকির ট্রমা থেকে বেরোতে তিনি বর্তমানে প্রফেশনাল ‘মেন্টাল কাউন্সেলিং’ বা মানসিক পরামর্শ নিচ্ছেন। তবে সব জল্পনা উড়িয়ে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই মুহূর্তে নিজের ক্যারিয়ার ও আগামী দিনের পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে ভাবলেও তিনি রাজনীতি ছাড়ছেন না। নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি মানসিকভাবে নিজেকে প্রস্তুত করছেন এবং একই সাথে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের পাশাপাশি প্রশাসনের কাছে আইনি সুরক্ষার দাবি জানিয়েছেন।

Back to top button