ভক্তির আগুনে পুড়ল কুন্তলের ষ’ড়যন্ত্র! দিতির ভক্তির ডাকে দেখা দিলেন স্বয়ং শচীমাতা! ঘটে গেলো এক অলৌকিক ঘটনা!

জি বাংলার (Zee Bangla) তারে ধরি ধরি মনে করি (Tare Dhori Dhori Mone Kori) ধারাবাহিকের গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, ১০৮টি পদ্ম নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে দিতি ও গোরা এক চরম বিপদের মুখোমুখি হয়। তারা দেখতে পায়, গাড়ির ভেতরে আগে থেকেই ওত পেতে বসে আছে এক অত্যন্ত বিষাক্ত সাপ। এমন অবশ করা পরিস্থিতির মুখে দাঁড়িয়ে দিতি চোখ বন্ধ করে তার পূর্বজন্মের কথা স্মরণ করে। সে মনে করতে পারে যে, গত জন্মেও ঠিক এইরকম এক ঘটনা ঘটেছিল এবং তখন নিষ্ঠাভরে ডাকায় দেবী মনসা তাদের রক্ষা করেছিলেন। দিতির এই পরম ও আকুল প্রার্থনায় সাড়া দিয়ে মা মনসা এবারেও অলৌকিকভাবে তাদের রক্ষা করেন এবং দিতি মায়ের দিব্য দর্শন লাভ করে।

সব বাধা-বিপত্তি কাটিয়ে তারা শেষমেশ বাড়ি ফিরে এলেও, তাদের মাথার ওপর থেকে বিপদের মেঘ কিন্তু পুরোপুরি কাটে না। বাড়িতে পা রাখতেই কুন্তল নিজের চিরপরিচিত শয়তানি ও চক্রান্ত শুরু করে দেয়। গোস্বামী বাড়ির এই পবিত্র পুজোতে যাতে বড় কোনো বাধা পড়ে, সেই কুৎসিত উদ্দেশ্যে সে চালাকি করে একটি পদ্ম ফুল সরিয়ে ফেলে। শচীমাতার পুজোর জন্য প্রয়োজন ছিল ঠিক ১০৮টি পবিত্র পদ্মফুল, যা অনেক কষ্টের পর গোরা আর দিতি জোগাড় করেছিল। কিন্তু সবকিছু ঠিকঠাক হওয়ার পরই কুন্তলিনীর ছলনায় একটি পদ্ম নষ্ট হয়ে যাওয়ায় পুজোর আয়োজন সম্পূর্ণ হওয়া নিয়ে সংশয় দেখা দেয়।

Tare Dhori Dhori Mone Kori, Zee Bangla, Bengali Serial, Bengali Television, Tare Dhori Dhori Mone Kori New Episode, Tare Dhori Dhori Mone Kori Today's Episode 18 May, Today's Episode, তারে ধরি ধরি মনে করি, জি বাংলা, বাংলা সিরিয়াল, বাংলা টেলিভিশন, তারে ধরি ধরি মনে করি আজকের পর্ব, তারে ধরি ধরি মনে করি ১৮ মে আজকের পর্ব

আর ঠিক এই সংকটজনক মুহূর্ত থেকেই শুরু হয় দিতির জীবনের সবচেয়ে বড় এবং কঠিন পরীক্ষা। একদিকে কোনো অবস্থাতেই পুজোর ব্রত ভাঙা সম্ভব নয়, অন্যদিকে এই গভীর রাতে ফুল জোগাড়ের জন্য কাউকে ডাকাও কোনোভাবে সম্ভব ছিল না। পুরো পরিস্থিতিটা যেন দিতিকে এক লহমায় সম্পূর্ণ একাকী ও নিরুপায় করে দেয়। তবে সেই অসহায় মুহূর্তেও দিতির প্রার্থনার দৃশ্যটা সত্যিই খুব সুন্দর ও মর্মস্পর্শীভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে যেখানে পরিস্থিতির ভয় ও অনিশ্চয়তা থেকেও অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠেছিল তার অটল বিশ্বাস।

এই পর্বের সবচেয়ে ভালো লাগার এবং প্রশংসনীয় বিষয় ছিল, রামায়ণের মহাকাব্যিক অকালবোধনের গল্পটার সঙ্গে দিতির এই দৃশ্যকে মেলানো। ত্রেতাযুগে শ্রীরামচন্দ্র দেবী দুর্গার পুজোর জন্য ১০৮টি নীল পদ্ম জোগাড় করেছিলেন এবং একটি পদ্ম কম পড়ে যাওয়ায় তিনি নিজের পদ্মসদৃশ চোখটিই দেবীর চরণে দান করতে যাচ্ছিলেন। ঠিক সেই পৌরাণিক ত্যাগের পথেই যেন পা বাড়াতে প্রস্তুত হয় দিতি; সেও তার ভক্তির চরম পরাকাষ্ঠা দেখাতে পিছপা হয়নি।

আরও পড়ুন: ‘আমাদের ভদ্রতাকে দুর্বলতা ভাববেন না!’ ‘নিজেদের মাটিতেই বাঙালির রুটি-রুজি কেড়ে নিচ্ছে বলিউড!’ বলিউড আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক সাহেব ভট্টাচার্য!

তবে দিতির সেই চূড়ান্ত আত্মত্যাগের আগেই শচীমাতা স্বয়ং সেখানে আবির্ভূত হন এবং দিতিকে দেখা দেন। মা তাকে পরম স্নেহে জানান যে, দিতি তার ভক্তির কঠিন পরীক্ষায় সসম্মানে পাশ করেছে। মায়ের এই অলৌকিক উপস্থিতি ও আশীর্বাদে অবশেষে সমস্ত অমঙ্গল কেটে যায় এবং আশার আলো দেখা দেয়। মায়ের আশ্বাসে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, এবার সব বাধা দূর হয়ে গোস্বামী বাড়িতে মায়ের পুজো সফলভাবে সম্পন্ন হবে।

Back to top button