প্রযুক্তির লড়াইয়েও গো হারান হারল শিরিন! নিজের বুদ্ধির জোরে ওয়েবসাইট ফিরিয়ে আনল অদম্য পারুল! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

জি বাংলার (Zee Bangla) পরিণীতা ধারাবাহিকে (Parineeta) গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, নিজের সাজানো পরিকল্পনা চোখের সামনে ধুলোয় মিশে যেতে দেখে শিরিন অপমানে ও রাগে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। সে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিল না যে পারুল আবারও তাকে বুদ্ধিতে হারিয়ে দিয়েছে। যখন সে জানতে পারে পারুল সত্যিই ‘ভিলেজ লাইফ’ নামে নিজস্ব কোম্পানি শুরু করছে, তখন তার প্রতিহিংসার আগুন আরও তীব্র হয়ে ওঠে। শিরিন জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে আইনি মারপ্যাঁচে গ্রামের সহজ-সরল মানুষগুলোকে আটকে ফেলে এবং পারুলকে ব্যবসায়িকভাবে পঙ্গু করার ছক কষে। কিন্তু পারুল দমে যাওয়ার পাত্রী নয়; সে অসীম সাহসের সাথে শিরিনের এই অন্যায় রুখে দাঁড়ায়। শিরিনের উপস্থিতিতেই গ্রামবাসীদের থেকে সই করিয়ে নেওয়া সেই জালিয়াতির আইনি কাগজগুলো সে সবার সামনে পুড়িয়ে দেয়। এই সাহসী পদক্ষেপের মাধ্যমে শিরিনের দীর্ঘদিনের শঠতা মুহূর্তেই ধুলোয় মিশিয়ে দিয়ে পারুল গ্রামবাসীদের মুক্ত করে এবং শিরিনকে চরমভাবে পরাজিত করে।
পরাজিত শিরিনকে গ্রামবাসীরা আর রেহাই দেয় না। তার দীর্ঘদিনের শোষণ আর ষড়যন্ত্রের শাস্তিস্বরূপ তার মাথায় গোবর জল ঢেলে তাকে গ্রাম থেকে বিতাড়িত করা হয়। শিরিনের বিদায়ে গ্রামে যেন এক নতুন খুশির জোয়ার বয়ে যায়। পরদিন অত্যন্ত ধুমধাম করে পারুলের নতুন কোম্পানি এবং রায়ানের নতুন থিয়েটার দলের উদ্বোধন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। নাচ, গান এবং আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে গোটা পরিবার। পারুলের সাথে যারা পুরনো চাকরি ছেড়ে তার নতুন উদ্যোগে শামিল হয়েছে, তারা সহ গ্রামের সাধারণ মানুষ এবং মিডিয়ার উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি এক বিশাল উৎসবে রূপ নেয়। পারুলের চোখে তখন আগামীর সুন্দর স্বপ্ন আর বিজয়ের তৃপ্তি।

উৎসবের আমেজ যখন তুঙ্গে, তখন আড়ালে চলছিলো অন্য এক গভীর ষড়যন্ত্র। পারুলদের অন্দরের সমস্ত খবর গোপনে শিরিনকে পাচার করতে থাকে টগর। নিজের হার সহজে মেনে নিতে না পেরে শিরিন এবার ডিজিটাল আক্রমণের পথ বেছে নেয়। সে দক্ষ হ্যাকার নিয়োগ করে পারুলের কোম্পানির ওয়েবসাইটটি অকেজো করার ফন্দি আঁটে। ঠিক যে মুহূর্তে ধুমধাম করে ওয়েবসাইটটি লঞ্চ করার কথা, সেই মাহেন্দ্রক্ষণেই ওয়েবসাইটটি হ্যাক হয়ে যায়। হঠাৎ স্ক্রিন কাজ করা বন্ধ করে দিলে পারুল প্রথমে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ে, কিন্তু খুব দ্রুতই তার কাছে পরিষ্কার হয়ে যায় যে এটি শিরিনেরই নোংরা কারসাজি। ক্রোধে আর জেদে পারুল সাথে সাথেই শিরিনকে শায়েস্তা করার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ে।
প্রযুক্তিগত এই বিপর্যয়েও পারুল ভেঙে পড়েনি। শিরিনকে তার প্রাপ্য জবাব দেওয়ার পাশাপাশি পারুল নিজের মেধা ও প্রচেষ্টায় হ্যাকারদের কব্জা থেকে ‘ভিলেজ লাইফ’ ওয়েবসাইটটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। এই জয় ছিল শুধু একটি ওয়েবসাইট উদ্ধারের নয়, বরং শিরিনের নোংরা মানসিকতার বিরুদ্ধে পারুলের বুদ্ধিবৃত্তিক জয়। ওয়েবসাইটটি পুনরায় সচল হতেই উপস্থিত সকলের মাঝে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। পারুলের এই অসাধ্য সাধন দেখে তার পরিবার এবং কর্মীরা নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করার প্রেরণা পায়। সবাই যখন উৎসবে আত্মহারা, তখন শিরিন আড়ালে বসে নিজের পরাজয়ের দহন সহ্য করতে থাকে।
আরও পড়ুনঃ ‘আমার মতন অভিনেতাদের যোগ্য সম্মান নেই টলিউডে’- বাংলা ছবি থেকে হারিয়ে যাচ্ছে কমেডিয়ানদের গুরুত্ব! বি’স্ফোরক অভিনেতা শুভাশিস মুখোপাধ্যায়!
তবে এই সুখের মুহূর্তের আড়ালে জমা হচ্ছে এক কালো মেঘ। পুলিশের ছদ্মবেশ ধরে লুকাস থানায় আটক সংযুক্তার কাছে হাজির হয়। সেখানে গিয়ে সে এক ভয়ংকর পরিকল্পনা জানায় যে, আজ সন্ধ্যায় সে থানায় আগুন ধরিয়ে দিয়ে সংযুক্তাকে মুক্ত করে নিয়ে যাবে। মুক্তির সম্ভাবনা দেখে সংযুক্তার চোখের মণি প্রতিহিংসায় জ্বলে ওঠে। সে উন্মত্তের মতো বলতে থাকে যে, সে ফিরে আসছে পারুলের সাজানো সংসার আর সফলতাকে তছনছ করে দিতে। সংযুক্তা সেনের এই প্রত্যাবর্তনের ঘোষণা পারুলের জীবনে এক নতুন এবং আরও বড় কোনো বিপদের সংকেত নিয়ে আসে, যা পারুলের আগামী দিনগুলোকে আরও কণ্টকাকীর্ণ করে তুলবে।

