জা’লিয়াতির কাগজ পু’ড়িয়ে ছাই! গ্রামের মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে শিরিনকে উচিত শিক্ষা দিল রায়ানের “ফিনিক্স পাখি”! পারুলের নতুন লক্ষ্য এখন ভিলেজ লাইফ! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

জি বাংলার (Zee Bangla) পরিণীতা ধারাবাহিকে (Parineeta) গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, চাকরি ছাড়ার পর পারুলের লড়াইটা ঘরের ভেতর থেকেই শুরু হয়। রায়ানের মা যখন শোনেন যে পারুল তার নিশ্চিত চাকরি ছেড়ে দিয়েছে, তখন তিনি সবকিছুর জন্য পারুলকে বিশ্রীভাবে দোষারোপ করতে থাকেন এবং অনেক কটু কথা শোনান। পরিবারের এমন অসহযোগিতা আর অবহেলা যে কাউকেই ভেঙে দিতে পারত, কিন্তু পারুল দমে যাওয়ার পাত্রী নয়। সে মনে মনে স্থির করে ফেলে যে পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, সে নিজের ব্যবসা দাঁড় করাবেই। ঠিক এই কঠিন সময়েই তাদের গ্রামে থেকে বসু বাড়ির জন্য অনেক তাজা শাকসবজি আর মাছ আসে। এই সাধারণ ঘটনাটাই পারুলের মনের মণিকোঠায় এক নতুন ব্যবসার আইডিয়া এনে দেয়। সে ঠিক করে, গ্রাম বাংলার এই টাটকা আর বিষমুক্ত খাবারগুলো সরাসরি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য সে একটা নতুন উদ্যোগ নেবে।
পারুল তার এই নতুন ব্যবসার নাম দেয় ‘ভিলেজ লাইফ’। সে যখন গ্রামে গিয়ে গ্রামবাসীদের কাছে তার এই পরিকল্পনার কথা জানায়, তখন গ্রামের মানুষ ভীষণ খুশি হয়। তারা তাদের নিজের গ্রামের মেয়ে পারুলের সাথে মিলে ব্যবসা করতে অত্যন্ত আগ্রহী হয়ে ওঠে এবং তাকে পূর্ণ সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু তাদের এই আনন্দ আর উৎসবের মুহূর্ত বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেয়নি শিরিন। ঠিক যখন পারুল আর গ্রামবাসীরা নতুন শুরুর স্বপ্ন দেখছিল, তখনই সেখানে নিজের উকিলকে নিয়ে হাজির হয় শিরিন। সে এসে দাবি করে যে, গ্রামের মানুষরা নাকি ইতিমধ্যেই শিরিনের কোম্পানির সাথে ব্যবসায়িক চুক্তিতে সই করে ফেলেছে। আসলে গ্রামের সহজ-সরল মানুষরা কাগজের মারপ্যাঁচ না বুঝেই সেখানে সই করে দিয়েছিল, যা শিরিনের একটি পরিকল্পিত চাল ছিল।

শিরিনের এমন ষড়যন্ত্রে গ্রামের মানুষজন এবং পারুল দুজনেই শুরুতে আকাশ থেকে পড়ে। তারা কিছুতেই শিরিনের সাথে কাজ করতে চায়নি, কিন্তু আইনের কাগজের কাছে তারা একরকম অসহায় হয়ে পড়ে। শিরিন ভেবেছিল এই আইনি মারপ্যাঁচে আটকে পারুলকে সে সহজেই হারিয়ে দেবে এবং তার নতুন ব্যবসা শুরু হওয়ার আগেই শেষ করে দেবে। কিন্তু পারুল বুদ্ধিতে শিরিনের চেয়ে কোনো অংশে কম ছিল না। সে বুঝতে পারে যে এই অন্যায় রুখতে হলে তাকেও কড়া পদক্ষেপ নিতে হবে। পারুল দমে না গিয়ে সাহস দেখিয়ে শিরিনকে একরকম জব্দ করে এবং যে জালিয়াতির কাগজে গ্রামবাসীরা সই করেছিল, সেই আইনি কাগজগুলো সবার চোখের সামনে পুড়িয়ে দেয়। শিরিনের সমস্ত চালাকি এভাবে মুহূর্তের মধ্যে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়ে পারুল গ্রামবাসীদের মুক্ত করে।
নিজের চোখের সামনে নিজের পরিকল্পনা ভেস্তে যেতে দেখে শিরিন অপমানে ও রাগে পাগল হয়ে যায়। সে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিল না যে পারুল আবারও তাকে এভাবে হারিয়ে দেবে। শিরিন যখন জানতে পারে পারুল সত্যিই ‘ভিলেজ লাইফ’ নামে নিজের কোম্পানি খুলছে, তখন সে মনে মনে প্রতিজ্ঞা করে যে এই কোম্পানিকে সে কিছুতেই সফল হতে দেবে না। শিরিন ঠিক করে নেয় যে ব্যবসার প্রতিটি পদে পদে সে পারুলের জন্য নতুন নতুন বাধা তৈরি করবে এবং পারুলকে সাফল্যের মুখ দেখতে দেবে না। পারুলকে পুরোপুরি ধ্বংস করার জন্য শিরিন এবার আরও বড় এবং ভয়ংকর কোনো ষড়যন্ত্রের জাল বুনতে শুরু করে।
আরও পড়ুনঃ ‘গান গেয়ে সংসার চালানো এখন কঠিন…’ ‘রোজগার না করলে খাবার জুটবে না…’- চলছে না সংসার? নিজের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে অকপটে রূপঙ্কর বাগচী!
এখন বড় প্রশ্ন হলো, পারুলের এই নতুন ব্যবসায়িক বুদ্ধি তাকে কতটা উঁচুতে নিয়ে যেতে পারবে। একদিকে যেমন তাকে তার নিজের কোম্পানির মান বজায় রাখতে হবে এবং ব্যবসার প্রসারে মন দিতে হবে, অন্যদিকে তাকে সামলাতে হবে শিরিনের মতো কুটিল শত্রুর বারবার আক্রমণ। পরিবারের অবহেলা আর শিরিনের ষড়যন্ত্র—এই দুইয়ের মাঝে পারুল তার সংকল্পে কতটা অটল থাকতে পারে, সেটাই দেখার বিষয়। পারুলের এই লড়াই কি শেষ পর্যন্ত তাকে সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছে দেবে নাকি শিরিনের নতুন কোনো চাল তাকে থামিয়ে দেবে, সেই উত্তজনা নিয়েই এখন গল্পের পরবর্তী অংশ এগিয়ে যাবে।

