ষ’ড়যন্ত্রের জালে পারুল! জ্ঞান ফিরতেই মৌসুমীকে হাতেনাতে ধরল সে! ফাঁস হলো পানে ওষুধ মেশানোর রহস্য! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

জি বাংলার (Zee Bangla) পরিণীতা ধারাবাহিকে (Parineeta) গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, পারুল ও রায়ানের বৈবাহিক জীবন এক অদ্ভুত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে। পারুল রায়ানকে মন থেকে ফুলশয্যা মেনে নিতে না পারলেও, নকল কোর্টের নির্দেশে চাপে পড়ে সে রায়ানের সঙ্গে ফুলশয্যার ঘরে যেতে বাধ্য হয়। বাড়ির সকলেই খুব উৎসাহ নিয়ে তাদের ঘরটি সাজিয়েছিল, যেন পারুল ও রায়ানের দূরত্ব মিটে গিয়ে নতুন এক শুরুর সূচনা হয়। অন্যদিকে রুকু ও উকিল চরিত্রের কেমিস্ট্রি ধীরে ধীরে জমে উঠছে।
ফুলশয্যার ঘরে ঢুকেই পারুল জানিয়ে দেয়, সে রায়ানের সঙ্গে এক বিছানায় শোবে না। সে মেঝেতে নিজের জন্য বিছানা করতে শুরু করে। কিন্তু রায়ান এই বিষয়ে বেশ সচেতন। বর্তমানে আবহাওয়া পরিবর্তনের সময় নিচে শুলে পারুলের ঠান্ডা লেগে যেতে পারে, এই আশঙ্কায় রায়ান তাকে কিছুতেই মেঝেতে শুতে দেয় না। জেদ আর ভালোবাসার এই টানাটানির মাঝে পারুল ও রায়ান একে অপরের খুব কাছে চলে আসে।

সেই মুহূর্তেই এক ছোট দুর্ঘটনা ঘটে যায়। রায়ানের নখের খোঁচা অসাবধানতাবশত পারুলের পিঠে লেগে যায়। একদিকে যখন ঘরে তাদের সম্পর্কের এই টানাপোড়েন চলছে, অন্যদিকে দরজার বাইরে থেকে বাড়ির সকলে রায়ানকে গান গাওয়ার জন্য ক্রমাগত অনুরোধ করতে থাকে। সবার অনুরোধ ফেলতে না পেরে রায়ান যখন গান গাইতে শুরু করে, ঠিক তখনই ঘটে এক রহস্যময় ঘটনা। হঠাৎ করেই পারুল জ্ঞান হারিয়ে মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে। রায়ান গান থামিয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে, বাড়ির লোকও ছুটে আসে ঘরে। কিন্তু সুস্থ পারুল কেন হঠাৎ এভাবে মাথা ঘুরে পড়ে গেল, তা নিয়ে সকলেই ভয় পেয়ে যায়।
জ্ঞান ফেরার পরেই পারুল বুঝতে পারে, তাকে কোনোভাবে মাদকাসক্ত করা হয়েছিল। সে পরিস্থিতির গভীরতা বুঝে সরাসরি বিবাদে না গিয়ে ঠান্ডা মাথায় কৌশলের আশ্রয় নেয়। মৌসুমী যখন ভেবেছিল সে সফল, ঠিক তখনই পারুল তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলে। মৌসুমী যখন ভয়ে ও সন্দেহে সেখান থেকে চলে যেতে চায়, পারুল বিদ্যুৎগতিতে তার হাত চেপে ধরে। উঠে দাঁড়িয়ে সরাসরি মৌসুমীর চোখের দিকে তাকিয়ে সে প্রশ্ন করে— পানে ওষুধটা কে মিশিয়েছিল? আপনি, নাকি টগর? এই অতর্কিত আক্রমণে মৌসুমী চমকে যায়। নিজের অপরাধ ঢাকতে সে পাল্টা তর্জন-গর্জন করে ওঠে, কী প্রমাণ আছে তোমার কাছে যে তুমি আমাকে দোষ দিচ্ছ? পারুল দমে না গিয়ে শান্ত গলায় কিন্তু দৃঢ়ভাবে জানায়, কোনো প্রমাণ নেই বলেই আজ সে বেঁচে গেল। তবে সে মনে করিয়ে দেয়, পাপের ঘড়া যখন পূর্ণ হবে, তখন আর পালানোর পথ পাবে না।
আরও পড়ুনঃ মা’রণ রোগের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই! অবশেষে হার মানলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী! ৩৭-এই থামলো জীবন! এক অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন বিনোদন জগৎ!
কথার মাঝেই মৌসুমীর নজর যায় পারুলের কাঁধের সেই নখের আঁচড়ের ওপর। অসাবধানতায় লাগা সেই দাগ দেখে মৌসুমী ভুল বোঝে। সে মনে করে রায়ানের সাথে পারুলের ঘনিষ্ঠতা হয়ে গেছে। ঈর্ষা আর রাগে মৌসুমী অস্থির হয়ে উঠলে পারুল পরিস্থিতির সুযোগ নেয়। মৌসুমীর চোখে চোখ রেখে পারুল বিদ্রুপের সুরে বলে যেটা আটকাতে চেয়েছিলেন, সেটা শেষ পর্যন্ত আটকাতে পারলেন না বলে খুব রাগ হচ্ছে বুঝি? ছিনিয়ে তো নিলাম আপনার আদরের ছেলেকে। বেশ করেছি নিয়েছি, এবার আপনি কী করবেন শুনি? এবারে দেখার অপেক্ষা কি হয় আগামী পর্বে।

