গোপালের স্বপ্নপূরণে পারুল! গ্রামের চাল ছড়িয়ে যাবে গোটা শহরের বুকে! তার মাঝেই ঘটে গেলো অস্বাভাবিক ঘটনা! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

জি বাংলার (Zee Bangla) পরিণীতা ধারাবাহিকে (Parineeta) গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, রায়ানের ব্যবহারে পারুল সাময়িকভাবে কিছুটা মন খারাপ করলেও সে মোটেও ভেঙে পড়ে না বা নিজের জেদ হারায় না। সে মনে মনে প্রতিজ্ঞা করে যে, যেকোনো উপায়ে রায়ানের এই মান-অভিমান ভাঙাতে হবে এবং তাকে আবার আগের মতো চঞ্চল ও কর্মঠ করে তুলতে হবে। রায়ানের মন জয় করার এই নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়েই পারুলের জীবনে শুরু হয় এক অন্যরকম লড়াই। রায়ানকে আগের রূপে ফিরিয়ে আনতে পারুল আবারও ছদ্মবেশ ধারণ করে পাবলো সেন সেজে ফিরে আসে। তবে এবার সে একা নয়, রুক্মিণীকেও নিজের দলে টেনে নিয়ে নতুন সাজে সাজিয়ে তোলে। এরপর রুক্মিণীকে সাথে নিয়ে ছদ্মবেশী পারুল রায়ানের সামনে গিয়ে তাকে সরাসরি টেক্কা দেওয়ার এক কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়। হঠাৎ করে পাবলো সেনকে আবার নিজের চোখের সামনে দেখে রায়ান রাগে একবারে তেলে-বেগুনে জ্বলে ওঠে।

পাবলো সেনকে উচিত শিক্ষা দিতে এবং তাকে ব্যবসায়িকভাবে টেক্কা দিতে রায়ান তখন এক চরম ও অপ্রত্যাশিত সিদ্ধান্ত নিয়ে বসে। সে ঠিক করে যে সে পারুলের সাথেও হাত মেলাবে না, আবার পাবলোর কাছে হারও মানবে না। নিজের এই জেদ বজায় রাখতে রায়ান সম্পূর্ণ আলাদা একটি কোম্পানি খুলে সরাসরি পারুলের কোম্পানির সাথে টক্কর দেওয়ার লড়াইয়ে নেমে পড়ে। রায়ানের আসল উদ্দেশ্য ছিল নিজেকে সবার সামনে বড় করে প্রমাণ করা এবং একই সাথে পাবলো সেনকে হারিয়ে দেওয়া। কিন্তু রায়ানের এই অতিরিক্ত জেদ আর নতুন ব্যবসায়িক চাল উল্টে পারুলের ওপরই মস্ত বড় মানসিক ও আর্থিক চাপ সৃষ্টি করে। রায়ানের এই পাল্টা চাল পারুলের সাজানো ব্যবসাকে এক চরম বিপাকের মুখে ফেলে দেয়। এখন নিজের ভালোবাসার মানুষকে আগের ছন্দে ফেরাতে গিয়ে তৈরি হওয়া এই নতুন বিপদ পারুল কীভাবে সামাল দেবে এবং রায়ানের এই কঠিন চালের মুখোমুখি হয়ে কীভাবে নিজের ব্যবসাকে বাঁচাবে, সেটাই এখন দেখার বড় বিষয়।
আসলে রায়ানের মতো জেদী ও একগুঁয়ে ছেলেরা সহজে নিজেদের স্বভাব বদলাতে চায় না। এই ধরনের মানুষের সাথে জীবন জড়ালে অনেক সময় অনেক কষ্ট ও মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়। কিন্তু সম্পর্কের আসল সত্যিটা হলো, ভালোবাসা মানে তো শুধু মানুষের ভালো দিকটাকে আপন করে নেওয়া নয়, তার ভেতরের খারাপ বা খামখেয়ালি দিকগুলোকেও মেনে নেওয়া। কাউকে জোর করে নিজের মতো করে গড়ে তুলতে গেলে অনেক সময় সেই মানুষটার নিজস্ব অস্তিত্বটাই হারিয়ে যেতে পারে। আবার এও ঠিক যে, যাকে মন থেকে সত্যি ভালোবাসা যায়, তাকে বিপদের মুখে একা ছেড়ে যাওয়াও এত সহজ নয়। তাই পারুল কোনো তাড়াহুড়ো না করে অত্যন্ত ধৈর্য ধরে রায়ানকে বুঝিয়ে, ভালোবেসে ধীরে ধীরে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। অনেকেই মনে করেন, ছেলেরা আসলে মনে মনে এমন একজন জীবনসঙ্গী চায় যে মায়ের মতো স্নেহ দিয়ে তাকে আগলে রাখবে এবং তার সমস্ত ভুলত্রুটি শুধরে দিয়ে সঠিক পথ দেখাবে।
এরই মধ্যে গল্পের মোড় ঘুরে যায় যখন শিরিন রায়ানের জীবনে নতুন করে নাক গলাতে আসে। শিরিন সুযোগ বুঝে রায়ানের কাছে ফোন করে এবং পারুলের কোম্পানির বড়সড় ক্ষতি করার জন্য তাকে নিজের কোম্পানির সাথে হাত মেলানোর প্রস্তাব দেয়। কিন্তু রায়ান জেদী হলেও বোকা নয়, সে শিরিনের আসল রূপ এবং তার ভেতরের কুটিলতা ততদিনে হাড়ে হাড়ে চিনে গেছে। তাই সে শিরিনের এই অসৎ প্রস্তাবে পা না দিয়ে নিজের নীতিতেই অটল থাকে। রায়ানের এই দিকটি প্রমাণ করে যে সে পারুলের ওপর রেগে থাকলেও ভেতরে ভেতরে কোনো বড় অন্যায় বা বিশ্বাসঘাতকতার পথ বেছে নিতে চায় না।
আরও পড়ুন: নতুন ঘর বাঁধতেই রুকুর জীবনে ফিরে এলো গোপাল? তবে কি মা*রা যায়নি সে! হতভম্ব দর্শক মহল!
অন্যদিকের ব্যবসায়িক লড়াই ও মানসিক টানাপোড়েনের মাঝেই পারুল গ্রামের দিকে রওনা হয় চাল সংগ্রহ করার জন্য। এই গ্রামের সাথে জড়িয়ে আছে এক আবেগঘন ইতিহাস। আসলে গোপাল নামের এক শুভাকাঙ্ক্ষী মানুষের স্বপ্ন ছিল এই গ্রামটাকে অনেক বড় করা, গ্রামের মানুষদের উন্নতি করা এবং গ্রামের ব্যবসাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া। পারুল এখন নিজের সবটুকু শক্তি দিয়ে গোপালের দেখা সেই অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণ করার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছে। একদিকে রায়ানের সাথে ব্যবসার ময়দানে টিকে থাকার লড়াই, আর অন্যদিকে গ্রামের মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়ে গোপালের স্বপ্নকে সত্যি করার চ্যালেঞ্জ এই দুই কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে পারুলের জীবন এখন এক নতুন মোড় নিয়েছে।

