বোনকে উদ্ধার করতে র’ক্তাক্ত পারুল! স্ত্রীয়ের ক্ষত দেখে বিচলিত রায়ান! রাজমহলের আড়ালে তৈরি হলো এক মায়াবী মুহূর্ত! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

জি বাংলার (Zee Bangla) পরিণীতা ধারাবাহিকে (Parineeta) গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, বাড়িতে টগরের হঠাৎ নিখোঁজ হওয়া এবং পারুলদের বিপদের আশঙ্কায় সবাই খুব চিন্তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। বিশেষ করে রায়ানের ঠাকুমা পরিবারের সবার মঙ্গলের জন্য এবং টগর যাতে সুস্থভাবে ফিরে আসে, সেই প্রার্থনায় দিনরাত এক করে দিয়েছেন। বাড়ির পরিবেশ এখন এতটাই থমথমে যে সবার মনে সারাক্ষণ একটা ভয় আর মানসিক চাপ কাজ করছে। কেউ ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া বা কাজকর্মে মন দিতে পারছে না।
এদিকে পারুল যখন থানায় যায় অভিযোগ জানাতে, তখন সে এক অদ্ভুত বাধার মুখে পড়ে। পুলিশ জানায়, যে রাজার বিরুদ্ধে তারা নালিশ করতে এসেছে, তাকে এলাকার মানুষ ভগবানের মতো মানে। রাজার এতটাই ক্ষমতা আর দাপট যে কোনো পুলিশ কর্মীই তার বিরুদ্ধে মামলা নিতে বা কোনো পদক্ষেপ করতে সাহস পায় না। ফলে পারুল আর তার সঙ্গীরা এক বিশাল প্রশাসনিক সমস্যার মধ্যে পড়ে যায়, যেখান থেকে বেরোনোর কোনো সহজ পথ ছিল না।

ঠিক এই কঠিন সময়ে থানারই একজন সাহসী অফিসার গোপনে পারুলদের সাহায্য করার জন্য এগিয়ে আসেন। তিনি তাদের রাজপ্রাসাদের ঠিকানা এবং সেখানে ঢোকার একটি গোপন রাস্তার কথা বলে দেন। বোনের বিপদের কথা ভেবে পারুল আরও বেশি জেদি হয়ে ওঠে। সে মনে মনে কঠিন শপথ নেয় যে, যেকোনো বাধা আসুক না কেন, সে ঠিক টগরকে উদ্ধার করে আনবে। তার বেঁচে থাকতে বোনের কোনো ক্ষতি হতে দেবে না এই জেদ নিয়ে সে সামনের দিকে এগিয়ে যায়।
পুলিশ অফিসারের দেওয়া বুদ্ধি অনুযায়ী, পারুলরা একটি নাচের দলের পোশাক পরে ছদ্মবেশে রাজমহলে ঢুকে পড়ে। উদ্দেশ্য ছিল নাচ-গানের মাধ্যমে রাজাকে ভুলিয়ে রাখা, যাতে সেই সুযোগে তারা ভেতরে তল্লাশি চালাতে পারে। রাজা যখন নাচে মগ্ন, সেই ফাঁকে পারুল আর রায়ান কৌশলে মহলের ভেতর ঢুকে টগরকে খুঁজতে থাকে। অনেক খোঁজাখুঁজির পর একসময় ক্লান্ত হয়ে তারা দুজন দুজনকে হেলান দিয়ে ওখানেই ঘুমিয়ে পড়ে।
আরও পড়ুন: শ্যুটিং সেটের সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনা! আজও তাড়া করে বেড়ায় বর্ষীয়ান অভিনেতা দীপঙ্কর দে-কে! স্বামীর শারীরিক অবস্থা নিয়ে মুখ খুললেন দোলন রায়!
হঠাৎ রায়ানের ঘুম ভেঙে গেলে সে দেখতে পায় পারুলের হাত কেটে রক্ত বেরোচ্ছে। পারুলের চোট দেখে রায়ান খুব বিচলিত হয়ে পড়ে এবং তড়িঘড়ি একটি কাপড় দিয়ে ক্ষতস্থানটি বেঁধে দিতে যায়। পারুল প্রথমে খুব বাধা দেয় এবং বলে যে এত দরদ দেখানোর দরকার নেই। কিন্তু রায়ান বেশ জোর করেই তার হাত বেঁধে দেয় এবং আদর মাখা ধমক দিয়ে বলে যে বেশি কথা বললে আরেকটা ঘা দেবে। এরপর দুর্গের সেই নির্জন পরিবেশে দুজনের চোখে চোখ পড়ে এবং তাদের মান-অভিমানের মাঝে এক সুন্দর ভালোবাসার মুহূর্ত তৈরি হয়।

