শ্যুটিং সেটের সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনা! আজও তাড়া করে বেড়ায় বর্ষীয়ান অভিনেতা দীপঙ্কর দে-কে! স্বামীর শারীরিক অবস্থা নিয়ে মুখ খুললেন দোলন রায়!

টলিউডের (Tollywood) প্রবীণ অভিনেতা দীপঙ্কর দে (Deepankar De) কেন আগের মতো নিয়মিত পর্দায় আসছেন না, তা নিয়ে অনুরাগী মহলে কৌতূহলের শেষ নেই। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে এই প্রসঙ্গে দীর্ঘ নীরবতা ভাঙলেন তাঁর স্ত্রী তথা বিশিষ্ট অভিনেত্রী দোলন রায়। তিনি জানিয়েছেন, শারীরিক অসুস্থতা নয় বরং বহু বছর আগে কাজের জায়গায় ঘটে যাওয়া এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার ফল আজও বয়ে বেড়াচ্ছেন অভিনেতা। সেই সময়কার অব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দোলন রায় ইন্ডাস্ট্রির বর্তমান পরিকাঠামো নিয়েও নিজের ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন।
দোলন রায় স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে জানান, বছর কয়েক আগে ‘ফান্দে পড়িয়া বগা কান্দে’ ছবির শ্যুটিং চলাকালীন তিস্তা নদীর ওপর এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছিল। ক্লাইম্যাক্স দৃশ্যের শ্যুটিংয়ের সময় একটি বিশাল পাথরের বোল্ডার আচমকাই দীপঙ্কর দে-র পিঠের ওপর এসে পড়ে। দোলনের কথায়, পাথরটি যদি পিঠের চেয়ে মাত্র কয়েক ইঞ্চি উপরে অর্থাৎ মাথায় লাগত, তবে অঘটন ঘটে যেতে পারত। সেই সময় অভিনেতা জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলেন এবং প্রাথমিক চিকিৎসার পর দীর্ঘ দু-তিন মাস তাঁকে শয্যাশায়ী থাকতে হয়েছিল। চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, শিরদাঁড়ার সেই চোট অত্যন্ত জটিল হওয়ায় অপারেশন করা সম্ভব নয়, যা তাঁকে আজীবন বয়ে বেড়াতে হবে।
বর্তমান শারীরিক অবস্থার কথা বলতে গিয়ে দোলন জানান যে, দীপঙ্কর দে মানসিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ এবং তাঁর অভিনয় দক্ষতা আজও অটুট। বয়সজনিত কারণে সুগার বা রক্তচাপের মতো সাধারণ কিছু সমস্যা থাকলেও তাঁর মূল প্রতিবন্ধকতা হলো সেই পুরনো কোমরের চোট। এর ফলে তিনি এখন দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে পারেন না এবং হাঁটতে গেলে শরীরে ভারসাম্য রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে। দোলন আক্ষেপের সুরে বলেন, “লোকে ভাবছে ও অভিনয়টা হয়তো হারিয়ে ফেলেছে, কিন্তু আসলে এই দুর্ঘটনার মাসুল ও নিজের জীবন দিয়ে দিয়ে যাচ্ছে।”
আরও পড়ুনঃপর্দায় ফিরবে আশা ভোঁসলের জীবনকথা? নিজের বায়োপিকে কোন দুই অভিনেত্রীকে দেখতে চেয়েছিলেন গায়িকা?
ইন্ডাস্ট্রিতে শিল্পীদের নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে দোলন রায় অত্যন্ত কঠোর মন্তব্য করেছেন। তিনি দাবি করেন, দীপঙ্কর দে বরাবরই প্রচারবিমুখ এবং নিজের এই যন্ত্রণার কথা কাউকে সেভাবে জানাতে চাননি। তবে বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে দোলন মনে করেন, শ্যুটিং সেটে এই ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করার মতো পরিকাঠামো থাকা বাধ্যতামূলক। আগেকার দিনে স্টুডিওতে ন্যূনতম প্রাথমিক চিকিৎসার কিট বা ‘ফার্স্ট এইড বক্স’ পর্যন্ত থাকত না বলে তিনি অভিযোগ করেন। অভিনেতারা অনেক ক্ষেত্রেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেন, কিন্তু বিনিময়ে সঠিক সুরক্ষা পান না।
পরিশেষে দোলন রায় স্পষ্ট করেছেন যে, দীপঙ্কর দে-র মতো একজন কিংবদন্তি অভিনেতার এই অবস্থা সারা জীবনের জন্য এক বিরাট আক্ষেপ। তিনি চান না আর কোনো শিল্পী বা টেকনিশিয়ান কর্মক্ষেত্রে এই ধরনের অনিরাপত্তার শিকার হোন। বর্তমানে কিছু প্রোডাকশন হাউজ সচেতন হলেও, সামগ্রিকভাবে ইন্ডাস্ট্রিতে নিরাপত্তা আরও সুনিশ্চিত করার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। দোলনের এই স্পষ্টবক্তব্য টলিউডের অন্দরে শ্যুটিং সেটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

