বুকে একরাশ য’ন্ত্রণা! ঝিনুকের বিয়ে দেখে তার জীবন থেকে সরে গেল রণজয়! বিয়ের মণ্ডপেও রণজয়ের উপস্থিতি অনুভব করল ঝিনুক! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

জি বাংলার (Zee Bangla) পর্দায় শুরু হয়েছে নতুন ধারাবাহিক ‘কমলা নিবাস’ (Kamala Nibas)। গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, আদিত্যের মধ্যে হঠাৎ এমন এক অদ্ভুত পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে, যা বাড়ির কোনো সদস্যই সহজে বিশ্বাস করতে পারছে না। প্রীতির বর অর্থাৎ পল্লবীর ভাইয়ের সাথে আদিত্যকে হঠাৎ এত ভালো ব্যবহার করতে দেখে তার বৌদি চরম অবাক হয়েছেন। শুধু তাই নয়, যে আদিত্যর আসার কথাই ছিল না, তাকে এই বিয়েবাড়িতে সশরীরে উপস্থিত থাকতে দেখে তার নিজের মা-বাবাও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। আদিত্যের এই আচমকা ভোলবদলের পেছনে কী রহস্য লুকিয়ে আছে, তা নিয়েই এখন জোর চর্চা চলছে।
অন্যদিক, বিয়ের কনে ঝিনুককে যখন তার দিদি ও বৌদি মিলে পরম যত্নে সুন্দর করে সাজিয়ে তুলছেন, ঠিক তখনই বিয়েবাড়িতে আচমকা এসে হাজির হয় রণজয়। ঝিনুকের বিয়ের খবরে সে যেন নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছে। একদম পাগলের মতো আচরণ করতে করতে সে শেষবারের মতো ঝিনুককে নিজের মনের কথা বলার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। এদিকে আদিত্যও কিন্তু শান্ত নেই, সে পল্লবীর সাথে কথা বলার জন্য ছটফট করছে এবং বারবার বাহানা খুঁজছে। পল্লবী সবটা বুঝতে পেরেও পরিস্থিতি সামলাতে কিছু বলতে পারছে না, কারণ আদিত্য আসলে কে সেটা এখন পরিবারের সবার কাছেই পরিষ্কার হয়ে গেছে।
গল্পের টুইস্ট আরও জমে ওঠে যখন সানি ও সুপর্ণা এসে আদিত্যের বাবার সাথে কথা বলতে শুরু করে। কথার একপর্যায়ে আদিত্যের বাবা তাদের জিজ্ঞেস করেন, শ্রীনিবাস বাবুর সাথে তাদের সম্পর্ক কী। তখন সুপর্ণা জানায় যে, এই শ্রীনিবাস বাবুর মেয়ের সাথেই তার দাদার বিয়ে ঠিক হয়েছিল। পাত্রী যে পল্লবী, সেটা নিশ্চিত হওয়ার পর সানি ও সুপর্ণা আরও এক বিস্ফোরক তথ্য দেয়। তারা জানায়, বিয়ের দিন এক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় তাদের দা ভাই ও মাম্মাম মারা যান। এই কথা শোনা মাত্রই আদিত্যের বাবা চমকে ওঠেন। তার মনের ভাব দেখে পরিষ্কার বোঝা যায় যে, ওই অতীতের নির্মম দুর্ঘটনার পেছনে আসলে আদিত্যের বাবারই হাত ছিল!
এই সমস্ত জটিলতার মাঝেই বিয়ের মণ্ডপে আদিত্য যখন পল্লবীর দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে, তখন দূর থেকে আদিত্যের বৌদি তার ওপর কড়া নজর রাখছিল যে আদিত্য আসলে কী করতে চলেছে। এর পরেই আসে সেই আবেগঘন মুহূর্ত, যখন ঝিনুককে পিঁড়িতে বসিয়ে বিয়ের মণ্ডপে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি চলে। মা কমলার সাথে ঝিনুকের এক মর্মস্পর্শী বিদায়ের দৃশ্য তৈরি হয়। ঠিক সেই সময় সমস্ত বাধা পেরিয়ে রণজয় ঝিনুকের কাছাকাছি আসার চেষ্টা করলেও পরিস্থিতির চাপে তার মা তাকে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যেতে বাধ্য হন।
আরও পড়ুনঃ ‘তুই ম’রিস না কেনো? তুই ম’রলে…’ নোংরা গা’লিগালাজ সহ শারীরিক নির্যাতন! মায়ের রূপ নিয়ে ঠাট্টা তামাশা! মদ খেয়ে মা’রধর! প্রেস কনফারেন্সে বি’স্ফোরক দেবলীনা নন্দী! টাকা চাওয়া থেকে শুরু করে ‘ব্যাড টাচ’! শ্বশুর-শাশুড়ি সহ প্রবাহর মুখোশ টেনে খুলে দিলেন গায়িকা!
শেষ পর্যন্ত দূর থেকে চোখের জল নিয়ে ঝিনুককে দেখতে থাকে রণজয়। তবে সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ে সেই বিশেষ মুহূর্তটি, যখন ছাদনাতলায় গিয়েও ঝিনুক যেন রণজয়ের উপস্থিতি মনে মনে অনুভব করতে পারে এবং হঠাৎ পিছনে ফিরে তাকায়। কিন্তু রণজয় নিজের বুকফাটা কষ্ট ও চোখের জল লুকিয়ে সেখান থেকে সরে যায়। কিছু সম্পর্ক হয়তো শেষ পর্যন্ত একসাথে থাকার জন্য তৈরি হয় না, কিন্তু মনের গভীরে তাদের অনুভূতিগুলো চিরকাল থেকে যায়। ঝিনুক ও রণজয়ের এই মুহূর্তটাও দর্শকদের আরও একবার সেই অপূর্ণ প্রেমের কথাই মনে করিয়ে দিচ্ছে।

