বন্ধ লিফটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতি! কাছাকাছি দাঁড়িয়ে কোন নতুন সমীকরণের মুখোমুখি পল্লবী-আদিত্য!

জি বাংলার (Zee Bangla) পর্দায় পথচলা শুরু করেছে নতুন ধারাবাহিক ‘কমলা নিবাস’ (Kamala Nibas )। গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, ঝিনুকের ভালোবাসা না পেয়ে রণর অবস্থা এখন একেবারে শোচনীয়। ভালোবাসার মানুষকে চিরতরে হারানোর যন্ত্রণা সে কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না, যন্ত্রণায় সে যেন দিন দিন পাগল প্রায় হয়ে উঠছে। ঠিকঠাক খাওয়া-দাওয়া না করায় তার শরীরেরও মারাত্মক অবনতি ঘটেছে, কোনো কিছুতেই সে আর নিজের মন স্থির করতে পারছে না। যে শান্ত ছেলেটি এতদিন কখনো কারো গায়ে হাত তোলেনি, সে-ই এখন নিজের ভেতরের কষ্ট সামলাতে না পেরে কলেজের বন্ধুদের সাথে হুটহাট মারপিট ও চরম ঝগড়াঝাঁটিতে জড়িয়ে পড়ছে। মনের ভেতরের এই তীব্র হাহাকার ও একাকীত্ব রণকে এক সম্পূর্ণ অচেনা ও হিংস্র মানুষে পরিণত করেছে।
ওদিকে রণর এই চরম দুর্গতির ঠিক বিপরীতে, ঝিনুকের বাড়িতে কোনো রকম দেরি না করে ধুমধাম করে তার বিয়ের আয়োজন শুরু হয়ে গেছে। বাড়িতে এখন উৎসবের আমেজ, সবাই ব্যস্ত বিয়ের নানা প্রস্তুতিতে। বিয়ের সানাই বাজার অপেক্ষায় দিন গুনতে গুনতে ঝিনুক নিজেও এই নতুন জীবন নিয়ে অত্যন্ত খশমেজাজে আছে। সে অত্যন্ত আনন্দের সাথে নিজের বিয়ের কার্ডও পছন্দ করে ফেলেছে, যা দেখে বোঝাই যাচ্ছে সে এই বিয়ে নিয়ে কতটা উৎফুল্ল।

এরই মাঝে গল্পের অন্য প্রান্তে মিঠির জীবনে নেমে এসেছে চরম অন্ধকার। মিঠির ওপর শ্বশুরবাড়িতে যে পরিমাণ অত্যাচার চালানো হচ্ছে, তা যেন চোখেও দেখা যাচ্ছে না। তাকে ঠিকমতো খেতে দেওয়া তো দূর, বরং বাড়ির সমস্ত কঠিন কাজ তাকে দিয়ে করানো হচ্ছে। সানি এবং সানির মা মিলেমিশে মিঠির ওপর এই নির্যাতন চালাচ্ছে এবং তাকে দিয়ে নিজেদের সেবা করিয়ে নিচ্ছে। এখানেই শেষ নয়, অত্যাচারের মাত্রা এতটাই বেড়েছে যে মিঠিকে এখন একটা ঘরের মধ্যে বন্দি করে আটকে রাখা হয়েছে।
বিয়ের এই জমকালো তোড়জোড়ের মাঝেই সম্রাট চাইছে যে তাদের বিয়ের যাবতীয় কেনাকাটা যেন আলাদা আলাদা জায়গা থেকে না করে, একই বড় জায়গা থেকে করা হয়। কিন্তু সম্রাট যেহেতু অত্যন্ত উচ্চবিত্ত পরিবারের ছেলে, তাই তার জীবনযাত্রার মান এবং পছন্দও বেশ রাজকীয়। স্বভাবতই সম্রাটের পছন্দের দামি জায়গা থেকে কেনাকাটা করা মানেই বিপুল খরচের ব্যাপার, যা সাধারণ মধ্যবিত্তের সাধ্যের একেবারে বাইরে। আর ঠিক এই কারণেই শ্রীনিবাস বাবুর কপালে গভীর চিন্তার ভাঁজ পড়েছে; এত বিশাল খরচের সামাল তিনি কীভাবে দেবেন, সেই চিন্তাই এখন তাকে দিনরাত ব্যাকুল করে তুলছে।
আরও পড়ুন: ‘চূর্ণ বিচূর্ণ পাঁজরের হাড়!’ সামনে এলো অনীক দত্তর ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট! প্রাপ্ত তথ্য দেখে শিউরে উঠলো টলিউড!
সবশেষে, গল্পে আবারো মুখোমুখি হয়েছে পল্লবী এবং আদিত্য। পল্লবী একটি অফিসে ইন্টারভিউ দিতে যায় এবং সেখানে তার পেছন পেছন ঠিক সময়ে পৌঁছে যায় আদিত্যও। কিন্তু সেখানে ঘটে এক আকস্মিক বিপত্তি; আচমকা অফিসের লিফ্ট খারাপ হয়ে যাওয়ায় আদিত্য এবং পল্লবী দুজনে একই লিফটের ভেতরে আটকে পড়ে। বাইরের পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে এই অবরুদ্ধ পরিস্থিতিতে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে এবার তাদের সম্পর্কের সমীকরণে কী নতুন পরিবর্তন আসে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

