ঘুরে গেল চন্দ্র কমলিনীর ডিভোর্সের মোড়! কুরচির বয়ানে ওলট-পালট হয়ে গেল সবকিছু! লড়তে এসে লেজে গোবরে চন্দ্রর উকিল!

দিন দিন যেন আরো আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে স্টার জলসার (Star Jalsha) চিরসখা (Chirosokha) ধারাবাহিকটি। প্রতিটি পর্বেই থাকছে নতুন নতুন চমক। চন্দ্র আর কমলিনীর ডিভোর্সের মামলা যত এগোচ্ছে তত যেন নতুন নতুন তথ্য উঠে আসছে। দর্শকেরাও অধিক আগ্রহে বসে আছে চন্দ্র এবং কমলিনীর ডিভোর্স দেখার জন্য।
ধারাবাহিকের গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, কমলিনী কাঠগড়ায় এসে বলে নতুন একজন খুবই সম্মানীয় ব্যক্তি। এত কমলিনী কোন বাচ্চা নয়, তার বয়স ৫৫ হয়েছে তাই এই বয়সে এসে কোথায় কার সাথে কখন কিভাবে যাবে সেই জবাবদিহি সে কাউকে করতে বাধ্য নয়। সংবিধানে এমন কোন কথাই লেখা নেই যেখানে একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মহিলা নিজের ইচ্ছে কোথাও যেতে পারবেনা। এরপর কমলিনীর উকিল কুরচি অর্থাৎ কমলিনীর ননদকে কাঠগড়ায় ডেকে নেওয়ার অনুরোধ করে। কুরচি জানিয়ে দেয় এবারে কাঠগোড়ায় উঠে সে একে একে সকলের মুখোশ খুলবে।

কুরচি এলে তাকে একের পর এক প্রশ্ন করতে থাকে উকিল। তার নাম কি, তিনি কোথায় থাকেন, তিনি বিবাহিত কিনা, কি করেন এই সমস্ত। আর এই সমস্ত প্রশ্ন করায় বেশ বিপাকে পড়ে চন্দ্রর উকিল অর্থাৎ কুরচির স্বামী। তাই তিনি বিচারককে বলেন এই সমস্ত অবাঞ্ছিত প্রশ্ন করে কমলিনীর উকিল কেসের মোড় অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিতে চাইছে। কিন্তু কমলিনীর উকিল জানিয়ে দেয় এই কেসের সাথে কুরচির বয়ানের যথেষ্ট যোগসূত্র আছে। সেটা শেষ পর্যন্ত না শুনলে বোঝা যাবে না। তাই বিচারক তাকে প্রশ্ন করতে দেওয়ার অনুমতি দেয়। এরপর কুরচি জানায় তার স্বামী আর কেউ নয় এই কোর্টে বসে থাকা আইনজীবী অয়নদ্বীপ।
তারপর কুরচি তার স্বামীর একের পর এক কুকীর্তির ঘটনা বিচারকের সামনে তুলে ধরে। কিভাবে তার স্বামী তাকে অত্যাচার করেছে, দিনের পর দিন তাকে ডিভোর্স না দিয়ে বাড়ি থেকে বার করে দিয়েছে। তার সন্তানের থেকে তাকে আলাদা করে দিয়েছে সব কিছু। এমন একজন মানুষ কি করে অন্য একজনের বিচার করবে সেটাই এখানে প্রশ্ন। এরপরেই স্বতন্ত্রকে নিয়ে প্রশ্ন করা হয় তাকে। কুরচি জানায় স্বতন্ত্র একজন ব্যাচেলার মানুষ। তিনি দীর্ঘ কয়েক বছর ধরেই রয়েছে তাদের সাথে রয়েছেন। এতদিন তাদের সাথে কোন মনোমালিন্য হয়নি তাকে নিয়ে। কিন্তু কমলিনীর বড় ছেলে বিয়ে হয়ে আসার পর থেকে তার স্ত্রী স্বতন্ত্রের উপস্থিতি একেবারেই পছন্দ করত না। তাকে নানান রকম ভাবে অপমান করতো। তাই বাধ্য হয়েই স্বতন্ত্র বাড়ি ছেড়ে চলে যায় এবং কমলিনীকেও বারবার অপমান করেছে তার বড় ছেলে এবং স্ত্রী।
আরও পড়ুনঃ কঠিন পরীক্ষার মুখে শুভলক্ষ্মী! আপনজনদের মাথার ছাদ খুঁজতে গিয়ে চরম বিপদে অন্তঃসত্ত্বা নায়িকা!
তারপরই কুরচি জানায় সোহিনী এবং তার মেয়ের কথা। তার দাদা কুড়ি বছর ধরে যে তাদের সাথেই ছিল সে কথাও বলে এবং কমলিনী যে সোহিনীর চিঠিটা পেয়েছিল সে চিঠিও দেখায় বিচারককে। সবাই বুঝতে পারে কেস অন্য দিকে ঘুরে যাচ্ছে। তারপরেই কোর্টের কেস সেদিনের মতো বন্ধ করা হয়। কোর্ট থেকে বেরিয়ে এসে কুরচি তার স্বামীর মুখোমুখি হয়। আসলে কুরচি সেখানে প্রমাণ জোগাড় করতে এসেছিল। তার স্বামী যে কতটা নিচ নোংরা মনের মানুষ সেই কথা সে সবই প্রমাণ করবে। তাই কুরচি সমস্ত কথা রেকর্ড করে নেয় তার স্বামীর। এবার এই রেকর্ডই হবে পরের দিনের কোর্টের মোক্ষম প্রমাণ। দেখা যাক কি হয় আগামী দিনে।

