যা কেউ পারেনি সেটাই করে দেখাল আনন্দী! জমে গেল ধারাবাহিকের আজকের পর্ব!

মাত্র কয়েকদিন আগেই শুরু হয়েছে জি বাংলার (Zee Bangla) নতুন ধারাবাহিক ‘আনন্দী’ (Anondi)। ধারাবাহিকে জুটি বাধতে দেখা যাচ্ছে অভিনেত্রী অন্বেষা হাজরা (Annwesha Hazra) এবং অভিনেতা ঋত্বিক মুখার্জিকে (Writwik Mukherjee)। এর আগের জি বাংলার এক জনপ্রিয় ধারাবাহিকে জুটি বেধেছিল তারা। সেই জুটি সাফল্য পেয়েছিল। এবারে দেখার অপেক্ষা এই ধারাবাহিকে কতটা সাফল্য পায় আনন্দী আদিদেবের জুটি।
ধারাবাহিকের গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে নিজের মায়ের অপমানের বদলা নিতে এবং মেডিনেস জয়েন করার জন্য বেশ কিছু শর্ত দেয় আদিদেব। তার শর্ত অনুযায়ী তার মাকে মেডিনেসের ম্যানেজিং ডিরেক্টর পদে বসাতে হবে। মেডিনেসের ৫০ শতাংশ তার মায়ের নামে করে দিতে হবে এবং দুস্থ গরিব রোগীদের জন্য সপ্তাহে কয়েকদিন বিনামূল্যে চিকিৎসা করাতে হবে। আদিদেবের এইসব শর্ত শুনে তো সকলেই অবাক হয়ে যায়।

আনন্দী আজকের পর্ব ৩০ সেপ্টেম্বর (Anondi Today Episode 30 September)
ধারাবাহিকের আজকের পর্বে দেখানো হবে আদিদেবকে তার বাবা নিচে ডেকে পাঠায়। তারপর নন্দিনী তাকে বলে তারা আদিদেবের সমস্ত শর্তে রাজি। নন্দিনী তাকে নিজের মুখে বলে তার মায়ের নামে মেডিনেসের ৫০ শতাংশ করে দেওয়া হয়েছে। তার মাকে ম্যানেজিং ডিরেক্টরের পদে বসানো হয়েছে। এছাড়াও আদিদেবের অন্যান্য শর্তগুলো মেনে নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে মেডিনেসের সমস্ত সিদ্ধান্ত নেবে আদিদেবের মা বিজয়া। বিজয়ার কথাই হবে এখন থেকে মেডিনেসের শেষ কথা। এই কথা শুনে আদিদেব, আনন্দী, ঠাম্মা সকলেই খুব খুশি হয়। এরপর আদিদেবকে দিয়ে নন্দিনী সমস্ত শর্তের কাগজগুলিতে সই করিয়ে নেয় এবং আদিদেবের মাকেও বলে সমস্ত কাগজ ভালো মতো দেখে নিই সই করে দিতে।
এদিকে নন্দিনীর এই সিদ্ধান্তে বেশ অসন্তুষ্টই হয় অনিরুদ্ধ। তিনি বলেন এই ধরনের একটা বোকা বোকা সিদ্ধান্ত মেডিনেসের মতো নার্সিংহোমের জন্য নন্দিনী কীভাবে নিলো? তখন নন্দিনী জানায় ভবিষ্যতের কিছু মুনাফার জন্য বর্তমানে কিছু হারালে ক্ষতি নেই। এরপর মনে মনে ঠিক করতে থাকে বিজয়কে মেডিনেসে টিকতে দেবে না সে, প্রতিটা পদে পদে তাকে অপদস্ত করবে। আদিদেবের জন্যই তার মা অপমানে মাটিতে মিশে যাবে। এরপরই দেখা যায় বাড়ির প্রত্যেকে আদিদেবের এই শর্তের জন্য কথা শুনেই চলে যায়। কেউই বিজয়ার এই নার্সিংহোম জয়েন করাটা পছন্দ করেনি। এমনকি তার নিজের বড় ছেলেও এ ব্যাপারে একেবারে সমর্থন করে না নিজের মাকে। বিজয়া কম পড়াশোনা জানে বলে তাকে অপদস্ত করা হয়।
এই সমস্ত ঘটনায় মন খারাপ হয়ে যায় বিজয়ার। তখনই আনন্দী বিজয়ার মন ভালো করার জন্য তাকে ভরসা দিতে থাকে, সাহস দিতে থাকে। এছাড়াও ঠাম্মি, আদিদেবের দাদাভাইয়ের বউয়েরা বিজয়ার পাশে দাঁড়ায়। তারাও বিজয়ার এই নতুন পথ চলার সফরে খুব খুশি। আসলে এই ধারাবাহিকে প্রথম থেকে দেখানো হচ্ছে বাড়ির মেয়ে বৌদিদের ততটা গুরুত্ব দেওয়া হয় না। বাড়ি ছেলেরাই বাড়ির মাথা, মেয়েদেরকে সবসময় দমিয়ে রাখা হয়। মেয়েরা চাইলেই যে ঘর বাইরে দুটোই একসাথে সামলাতে পারে, রান্না ঘরের বাইরে বেরিয়েও নিজের মতো করে বাঁচতে পারে সেটা কেউ মানতে চায় না। এরপর দেখা যায় বাড়ি ফেরার পথে বিপদের মুখে পড়ে আনন্দী। রাস্তায় রকেট এসে আনন্দীকে হুমকি দিয়ে যায়। তার দাদার উপর হামলা চালায়। সেইসব সহ্য করতে না পেরেই আনন্দী রকেটের আড্ডার জায়গায় গিয়ে তাকে সাবধান করে আসে। মেয়েদেরকে দুর্বল ভাবার ভুল যাতে রকেট না করে।
আরও পড়ুনঃ মিডিয়ার সামনেই রুক্মিণীর চোখ ঢেকে মধ্যমা তুললেন স্বস্তিকা! কাকে উদ্দেশ্য করলেন অভিনেত্রী?
অন্যদিকে পরের দিন সকালে বিজয়া ঘুম থেকে উঠে দেখে বাড়ির দুই বউ মিলে সমস্ত রান্নাবান্না তৈরি করে রেখেছে। তারা ঠিক করেছে আজ থেকে বিজয়া শুধু অফিসের কাজে মন দেবে। রান্নাঘরে একেবারে ঢুকবে না। তাই শাশুড়ি মায়ের যাতে অফিস যাওয়াতে কোনরকম অসুবিধা না হয় তাই সব কাজ তারা করে রেখেছে। আর অফিস যাওয়ার জন্য তৈরি হয়ে নিতে বলছে। ওদিকে নন্দিনী তো কিছুতেই বিজয়াকে হাসিমুখে নার্সিংহোমে আসতে দেবে না ঠিক করেই নিয়েছে। তাই বিজয়ার জা কে ফোন করে নন্দিনী বলে বিজয়া যাতে কোনোভাবেই বাড়ি থেকে হাসিমুখে বেরোতে না পারে। সেটা দেখার দায়িত্ব তার। গয়নার লোভ দেখিয়ে বিজয়ার জা কে উসকে দেয় তার বিরুদ্ধে। অন্যদিকে আনন্দীও সকাল সকাল চলে আসে লাহিড়ী বাড়িতে। বিজয়ার এই আনন্দের দিনে আনন্দী তার পাশে থাকতে চায়। কিন্তু এবারে দেখার অপেক্ষায় বিজয়া হাসিমুখে বাড়ি থেকে নার্সিংহোমের জন্য রওনা দিতে পারে কিনা।

