সুরের জগতে নিস্তব্ধতা! চিরদিনের জন্য থেমে গেল তাঁর কন্ঠ! অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন বাংলা! ভারতের সংগীত জগতে শোকের ছায়া!

মঙ্গলবার সকালে আচমকাই থমকে গেল এক দীর্ঘ সৃষ্টিশীল যাত্রা। সঙ্গীত জগতের অন্দরে ছড়িয়ে পড়ল শোকের খবর। কয়েক দশক ধরে যাঁর সুরে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ছবির আবেগ, যাঁর সঙ্গীত ছুঁয়ে গেছে লক্ষ লক্ষ মানুষের হৃদয়, সেই শিল্পীর বিদায়ে স্তব্ধ হয়ে গেল গোটা ইন্ডাস্ট্রি। চেন্নাই থেকেই এল দুঃসংবাদ। বয়স হয়েছিল সত্তর। বুধবার সম্পন্ন হবে শেষকৃত্য, তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও স্পষ্ট নয়।

একটা সময় ছিল, যখন সিনেমার গান আর ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর নতুন ভাষা খুঁজছিল। ঠিক সেই সন্ধিক্ষণে জন্ম নিয়েছিল এক আলাদা সুরের ধারা। নেপথ্যে থাকা সেই মানুষটি নীরবে বদলে দিয়েছিলেন ছবির আবহ, দৃশ্যের আবেগ আর চরিত্রের গভীরতা। শুধুমাত্র সুরকার হিসেবে নয়, ইন্ডাস্ট্রির একজন স্তম্ভ হিসেবেও তিনি ছিলেন ভরসার নাম। তাঁর সৃষ্টির প্রভাব এতটাই গভীর যে আজও বহু দৃশ্য মনে পড়লেই কানে বাজে তাঁর সুর।

ষাটের দশকের শেষ দিকে শুরু হয়েছিল এই সঙ্গীতযাত্রা। প্রথমে তামিল, তেলুগু ও কন্নড় ছবির অর্কেস্ট্রায় কাজ করে ধীরে ধীরে নিজেকে তৈরি করেছিলেন তিনি। দীর্ঘদিনের সেই সাধনার ফল মেলে আশির দশকের শুরুতে, যখন ইন্ডিপেনডেন্ট সুরকার হিসেবে তাঁর কাজ নজর কাড়ে। তবে প্রকৃত জনপ্রিয়তা আসে মালয়ালম ছবির হাত ধরেই। আশি ও নব্বইয়ের দশকে একের পর এক ছবিতে তাঁর সুর তাঁকে পৌঁছে দেয় জনপ্রিয়তার শিখরে।

ডেনিস জোসেফ, থাম্পি কান্ননথানাম, জোশির মতো পরিচালকদের সঙ্গে তাঁর কাজ আজও মালয়ালম ছবির ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা। রাজাভিন্তে মাকান, কিলুক্কম, জনি ওয়াকার, ধ্রুবম, ভালসল্যম, কাবুলিওয়ালা, মিন্নারম, মান্নার মাথাই স্পিকিং, স্পাডিকমের মতো ছবির গান আজও শ্রোতাদের স্মৃতিতে উজ্জ্বল। শুধু গান নয়, ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোরেও ছিল তাঁর অনন্য দক্ষতা, যা দৃশ্যের আবেগকে আরও গভীর করে তুলত।

আরও পড়ুনঃ অসম্পূর্ণ প্রেম নাকি পূর্বজন্মের টান! কোন রহস্যে বাঁধা গোরা-দিতির ভাগ্য? দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

১৯৯৩ সালে পৈত্রুকম ও জনম ছবির জন্য কেরালা রাজ্য চলচ্চিত্র পুরস্কার তাঁর কৃতিত্বের স্বীকৃতি দেয়। মালয়ালমের পাশাপাশি তামিল, কন্নড়, হিন্দি ও বাংলা ছবিতেও কাজ করেছেন তিনি। আজ সেই এস পি ভেঙ্কটেশ আর নেই, কিন্তু তাঁর সুর রয়ে গেল। সময় পেরিয়ে গেলেও যে সুর আবেগ ছুঁয়ে যায়, সেখানেই তিনি অমর। সঙ্গীতপ্রেমীদের হৃদয়ে তিনি চিরকাল বেঁচে থাকবেন তাঁর সৃষ্টির মধ্য দিয়েই।

Back to top button