ব্যবসায় লোকসান নাকি সাজানো ষ’ড়যন্ত্র? চোরের ওপর বাটপারি করতে তৈরি পারুল-রায়ান! দাদুর ব্যাকআপ প্ল্যান ভেস্তে দিতে রায়ানের মাস্টারস্ট্রোক! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

জি বাংলার (Zee Bangla) পরিণীতা ধারাবাহিকে (Parineeta) গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, সন্ত্রাসবাদী দলকে ধরিয়ে দেওয়ার পর থেকে পারুলের নাম এখন সবার মুখে মুখে। ঋক বসু নিজে পারুলদের বাড়িতে এসে তাকে সংবর্ধনা জানায়। পারুলের অসীম সাহসের প্রশংসা করতে করতে ঋক তাকে একগুচ্ছ ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায় এবং বলে যে, পারুলের মতো নির্ভীক মেয়ে বর্তমানে বিরল। ঋক যখন পারুলের গুণগানে পঞ্চমুখ, বাড়ির বাকি সদস্যরা আনন্দিত হলেও রায়ান মনে মনে ফুঁসছিল। ঋকের এই অতি-ঘনিষ্ঠতা এবং পারুলের প্রতি তার মুগ্ধ দৃষ্টি রায়ান কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিল না, যা তার চোখেমুখে স্পষ্ট ফুটে উঠছিল।
আসলে, ঋক বসুর এই অতিরিক্ত প্রশংসা ছিল রায়ানের বাবার একটি সুপরিকল্পিত চাল। তিনি ভালোভাবেই জানতেন যে রায়ানের মনে পারুলের জন্য সুপ্ত ভালোবাসা থাকলেও তা সহজে প্রকাশ পাবে না। তাই ঋককে অনুঘটক হিসেবে ব্যবহার করে রায়ানের মনে ঈর্ষা জাগিয়ে তোলাই ছিল তার আসল উদ্দেশ্য। বাবার সেই পরিকল্পনা পুরোপুরি সফল হয়; ঋককে পারুলের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে রায়ান রাগে হিংসেয় হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। রায়ানের এই জ্বলে ওঠাই প্রমাণ করে দিচ্ছিল যে পারুলের প্রতি তার অধিকারবোধ কতটা গভীর।

ঋকের দেওয়া ফুলের তোড়া দেখে রায়ানের মেজাজ আরও বিগড়ে যায়। এমনকি ঋক যখন চলে যাচ্ছিল, রায়ান তাকে আড়ালে ডেকে নিয়ে কড়া ভাষায় সাবধান করে দেয়। সে সাফ জানিয়ে দেয়, ঋক যেন দ্বিতীয়বার তার স্ত্রীর দিকে চোখ তুলে না তাকায়। জবাবে ঋক বাঁকা হাসি হেসে মনে করিয়ে দেয় যে তাদের স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক তো মোটেও ভালো নয়, তাই রায়ানের সতর্কবার্তাকে সে খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছে না। এতে রায়ান আরও মরিয়া হয়ে ওঠে এবং মনে মনে ঠিক করে নেয় যে ঋক যদি আবার পারুলের আশেপাশে ঘেঁষার চেষ্টা করে, তবে সে চরম কোনো ব্যবস্থা নিতে দ্বিধা করবে না।
পরদিন সকালে বাড়িতে এক থমথমে পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দাদু, রায়ানের বাবা এবং কাকা মিলে আলোচনা করতে থাকেন যে তাদের পারিবারিক ব্যবসায় নাকি রাতারাতি বিশাল ক্ষতি হয়ে গিয়েছে। সবার মুখে দুশ্চিন্তার ছাপ থাকলেও রায়ানের বাবার চোখের কোণে এক অদ্ভুত চপলতা আর ষড়যন্ত্রের আভাস ছিল, যা থেকে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল যে এটিও কোনো বড় নাটকের অংশ। এমন উত্তেজনার মাঝে বিকেলবেলা ঋক তার বাবা ও পিসিকে নিয়ে আবার হাজির হয়। পারুলের কাছে সরাসরি বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে বসে ঋক। হঠাৎ আসা এই বিয়ের প্রস্তাবের কথা শুনে রায়ান ও পারুল দুজনেই স্তম্ভিত হয়ে যায়।
আরও পড়ুন: অ ভিশপ্ত ২০২৬! টলিউডে ফের দুঃসংবাদ! অন্ধকার ঘনিয়ে এল সুদীপা চট্টোপাধ্যায়ের জীবনে! হঠাৎ স্ট্রো’কে হাসপাতালে পরিচালক অগ্নিদেব চট্টোপাধ্যায়!
কিন্তু ব্যবসায়িক ক্ষতির বিষয়টি রায়ানের মনে খটকা সৃষ্টি করে। সে পারুলকে দৃঢ়ভাবে বলে যে মাত্র দু’দিনে একটি লাভজনক দোকান এভাবে লোকসানে ডুবতে পারে না। পারুলও রায়ানের যুক্তিতে সায় দিয়ে সিদ্ধান্ত নেয় যে তারা আজ রাতেই দোকানের হিসাব পরীক্ষা করে সত্য উদ্ঘাটন করবে। ওদিকে দাদু গোপনে কাউকে ফোনে জানিয়ে দেন যে তাদের পরিকল্পনা ফাঁস হওয়ার মুখে এবং রায়ান-পারুল রাত ১২টায় দোকানে হানা দেবে। কিন্তু রায়ান এবার দাদুর চেয়েও এক ধাপ এগিয়ে ছিল সে বুঝতে পারে তাদের আটকানোর জন্য কোনো ব্যাকআপ প্ল্যান করা হচ্ছে। তাই ১২টার জন্য অপেক্ষা না করে সে তখনই পারুলকে নিয়ে দোকানের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

