প্রতিশোধ নিতে নতুন রূপে রায়ান! শিরিনের ষড়যন্ত্র ফাঁস করলো পারুল! মাঝ রাস্তায় শিরিনকে চরম শিক্ষা দিলো নায়ক! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

জি বাংলার (Zee Bangla) পরিণীতা ধারাবাহিকে (Parineeta) গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, অবশেষে রায়ানের বহু প্রতীক্ষিত সেই শো-এর দিনটি আসে। সবকিছু আগে থেকেই নিখুঁতভাবে গোছানো ছিল। পারুল এবং পিসিমনি রায়ানের আমন্ত্রণে সেখানে উপস্থিত হয়। রায়ান নিজে উদ্যোগী হয়ে তাদের দুজনকে একেবারে সামনের সারিতে বসিয়ে দিয়ে মৃদু হেসে জানায় যে, এটিই অডিটোরিয়ামের সেরা আসন, যেখান থেকে সে পারুলের প্রতিটি অভিব্যক্তি সরাসরি দেখতে পাবে। পারুলের মতামত যে রায়ানের কাছে পৃথিবীর সবকিছুর চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, তা সে আকারে-ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দেয়। মল্লার এবং ঋত্বিক বাবুর কাছ থেকে শো ‘হাউসফুল’ হওয়ার খবর শুনে রায়ানের আত্মবিশ্বাস কয়েক গুণ বেড়ে যায়। সে বুঝতে পারে তার ‘ড্রিম প্রজেক্ট’ সফল হতে চলেছে এবং মঞ্চ এখন তার জাদু দেখানোর অপেক্ষায় প্রস্তুত।
শো শুরু হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে পারুল রায়ানকে শুভকামনা জানালে রায়ানের মনে নতুন প্রাণ সঞ্চার হয়। সে মনে মনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করে যে, সে কেবল দর্শকদের মন জয় করতেই নয়, বরং পারুলকে তার জীবনে স্থায়ীভাবে পাওয়ার জন্য আজ নিজের সবটুকু উজাড় করে দেবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, রায়ানের এই সাফল্য সহ্য করতে পারল না শিরিন। সে নিষ্ঠুর ষড়যন্ত্রের জাল বুনে স্টেজের পেছনে আগুন লাগিয়ে দেয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়লে চারিদিকে হাহাকার পড়ে যায়। দর্শকরা প্রাণের ভয়ে অডিটোরিয়াম ছেড়ে পালাতে শুরু করে এবং এভাবেই পূর্ণতা পাওয়ার আগেই রায়ানের আজীবনের স্বপ্ন এক নিমেষে ধূলিসাৎ হয়ে যায়।
পারুল অডিটোরিয়ামের বাইরে শিরিনকে দ্রুত গতিতে গাড়িতে করে চলে যেতে দেখে। তীক্ষ্ণ নজরে সে গাড়ির নাম্বারটি লক্ষ্য করে এবং নিশ্চিত হয় যে এটি শিরিনেরই গাড়ি ছিল। সে তৎক্ষণাৎ মল্লারকে ডেকে গাড়িটি দেখায় এবং সবাইকে শিরিনের এই জঘন্য ষড়যন্ত্রের কথা খুলে বলে। আগুনের পেছনে শিরিনের হাত ছিল শুনে রায়ানের মাথার রক্ত চড়ে যায়। দীর্ঘদিনের পরিশ্রম আর স্বপ্নকে এভাবে পুড়িয়ে ছাই করে দেওয়ায় রায়ান নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। সে প্রচণ্ড গর্জে উঠে বলে যে, তার ক্ষোভের সীমা আজ ছাড়িয়ে গেছে এবং শিরিনকে এর চরম মূল্য দিতে হবে।
নিজের ভেতরের আগ্নেয়গিরিকে আর চেপে রাখতে পারে না রায়ান। সে চিৎকার করে ঘোষণা দেয়, “আমার মেজাজ বিগড়ে গেলে কী হয়, আজ তোকে হাড়াহাড়িতে বুঝিয়ে দেব শিরিন!” কোনো কথা না শুনে সে দ্রুত নিজের বাইক নিয়ে ঝড়ের গতিতে শিরিনের গাড়ির পিছু ধাওয়া করে। পারুল ও বাকিরা তাকে আটকানোর চেষ্টা করলেও রায়ান তখন প্রতিশোধের নেশায় উন্মত্ত। তার চোখে কেবল তার পুড়ে যাওয়া স্বপ্ন আর শিরিনের প্রতারণার ছবি ভাসছিল। রাস্তার মাঝপথে সে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিরিনের গাড়িকে ব্লক করে দেয় এবং তাকে পালাতে বাধা দেয়।
আরও পড়ুন: ‘লোকটা ভালই আছে…’ ‘সবার তো তিন নম্বর বিয়ে করার ভাগ্য হয় না!’ আড্ডার মাঝে হঠাৎ কাঞ্চনের ‘তিন নম্বর বিয়ে’র প্রসঙ্গ! দেবের মন্তব্যে শোরগোল টলিপাড়ায়!
রায়ান দ্রুত বাইক থেকে নেমে শিরিনের গাড়ির কাছে পৌঁছায় এবং সজোরে গাড়ির দরজা খুলে শিরিনকে হাত ধরে একপ্রকার টেনে-হিঁচড়ে বের করে আনে। শিরিন কিছু বুঝে ওঠার আগেই রায়ান তার গালে কষে এক থাপ্পড় মারে। রায়ানের এই রুদ্রমূর্তি দেখে শিরিন ভয়ে কুঁকড়ে যায়। রায়ান বুঝিয়ে দেয় যে, সে শান্ত থাকলেও তার স্বপ্নের ওপর আঘাত হানলে সে কাউকেই ক্ষমা করে না। পারুলকে পাওয়ার পথে এবং নিজের ক্যারিয়ারের পথে যে কাঁটা শিরিন বিছিয়েছিল, আজ রায়ান যেন সেই সব অপমানের বদলা এক নিমিষেই নিয়ে নিল। তবে এই ঘটনা যে তাদের সম্পর্কের সমীকরণ আরও জটিল করে তুলবে, তা বলাই বাহুল্য।

