রাজনীতির প্রভাব কাটলেই ফিরবে টলিউডের সোনালী দিন!’ ‘বড্ড বেশি দমবন্ধ লাগছিল, এবার মুক্ত হওয়ার পালা!’ টলিউডের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী অভিনেতা! সরকার বদল হতেই মুখ খুললেন চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী

বাংলা চলচ্চিত্র জগতের (Tollywood) এক অন্যতম দিকপাল এবং কিংবদন্তি অভিনেতা হলেন চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী (Chiranjeet Chakraborty)। আশির দশক থেকে শুরু করে নব্বইয়ের দশক জুড়ে বাণিজ্যিক বাংলা সিনেমাকে নিজের কাঁধে টেনেছেন তিনি। ‘বেদের মেয়ে জোছনা’, ‘প্রতীক’, ‘নবাব’ থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়ে ‘চতুষ্কোণ’-এর মতো ভিন্ন ধারার ছবিতেও তাঁর অভিনয় দর্শক মহলে বিপুল সমাদৃত হয়েছে। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি একজন দক্ষ পরিচালক ও স্ক্রিপ্ট রাইটার হিসেবেও ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের নাম উজ্জ্বল করেছেন। শুধু রুপোলি পর্দাতেই নয়, বাস্তব জীবনেও তিনি জননেতা হিসেবে অত্যন্ত সফল এবং বিগত বেশ কিছু বছর ধরে সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে বিধানসভার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। সিনেমা এবং রাজনীতি উভয় ক্ষেত্রকেই খুব কাছ থেকে দেখার কারণে টলিউডের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ নিয়ে তাঁর অভিজ্ঞতা অত্যন্ত গভীর।

সাম্প্রতিক একটি সাক্ষাৎকারে বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন এই বর্ষীয়ান অভিনেতা। তাঁর মতে, বিগত কিছু সময় ধরে টলিউড বা বাংলা সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে রাজনৈতিক প্রভাব বড্ড বেশি মাত্রায় চেপে বসেছে। চলচ্চিত্র একটি শিল্প মাধ্যম, যেখানে মুক্ত চিন্তার প্রকাশ ঘটে। কিন্তু বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে সেই স্বাধীনতায় কোথাও যেন রাজনীতির ছায়া এসে পড়েছে। চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, ইন্ডাস্ট্রির এই “এদিক-সেদিক” পরিস্থিতি বা রাজনৈতিক প্রভাব যদি পুরোপুরি কেটে যায় এবং অভিনয় জগৎ যদি দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠতে পারে, তবে তা টলিউডের সামগ্রিক অগ্রগতির জন্য অত্যন্ত মঙ্গলজনক হবে।

আরও পড়ুন: ‘আমাকে বাদ দেওয়ার অনেক চেষ্টা হয়েছে!’ ‘আমি এখনো যা পেয়েছি, ওদের থেকে অনেক বেশি…!’ টলিউডের নোংরা রাজনীতির শিকার স্বয়ং লিলি চক্রবর্তী! নিজের সঙ্গে হওয়া অন্যায় নিয়ে মুখ খুললেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী!

নিজের দীর্ঘ কেরিয়ারের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে অভিনেতা জানান যে, তিনি বহু বছর ধরে এই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করছেন এবং তাঁর দেখা টলিউড আগে এমন ছিল না। অতীতে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রভাব বা অনুশাসন মেনে সিনেমা তৈরি হতো না, কিংবা শিল্পীদের গায়ে কোনো রাজনৈতিক তকমা সেভাবে সেঁটে দেওয়া হতো না। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এই ট্রেন্ড বা প্রবণতা ভীষণভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ইন্ডাস্ট্রির সুস্থ পরিবেশকে কিছুটা হলেও ব্যাহত করেছে। তবে চিরঞ্জিৎ বাবু আশাবাদী যে, এই সাময়িক মেঘ কেটে যাবে এবং বাংলা সিনেমা জগৎ খুব দ্রুতই এই রাজনৈতিক জটিলতা ও প্রভাব থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হতে পারবে।

ইন্ডাস্ট্রির এই সংকটকাল এবং তা থেকে উত্তরণের পথ নিয়েও নিজের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন তিনি। তিনি বিশ্বাস করেন, চলচ্চিত্র জগতকে যদি পলিটিক্যাল ইনফ্লুয়েন্স বা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে দূরে রাখা যায়, তবে সমস্ত প্রতিকূলতা কাটিয়ে টলিউড আবার স্বমহিমায় ঘুরে দাঁড়াবে। শিল্পীরা স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ পাবেন এবং শুধুমাত্র মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে কাজ নির্ধারিত হবে। এই সুস্থ এবং নিরপেক্ষ পরিবেশ তৈরি হলে টলিউডের সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি স্তরের কর্মী ও কলাকুশলীরা নতুন করে টিকে থাকার রসদ পাবেন এবং ইন্ডাস্ট্রি আবার স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারবে।

সর্বোপরি, বাংলা সিনেমার এক নতুন ভোরের স্বপ্ন দেখছেন চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী। তিনি দৃঢ়ভাবে মনে করেন যে, রাজনীতির বেড়াজাল থেকে মুক্ত হতে পারলে টলিউড আবার তার পুরনো গৌরব ফিরে পাবে। অতীতে বাংলা সিনেমা যেভাবে দেশ তথা আন্তর্জাতিক স্তরে সমাদৃত হতো, ঠিক সেই রকমই একটি “সোনার ইন্ডাস্ট্রি” বা সোনালী অধ্যায় আগামী দিনে আবারও তৈরি হবে। চলচ্চিত্রের এই সুদিন ফিরিয়ে আনার জন্য রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত একটি সুস্থ পরিবেশ তৈরি করা যে অত্যন্ত জরুরি, বর্ষীয়ান অভিনেতার এই মন্তব্যে মূলত সেই বার্তাই অত্যন্ত জোরালোভাবে প্রকাশ পেয়েছে।

Back to top button