মনে আছে বেহুলা লক্ষিন্দর ছবির “চ্যাঙমুড়ি কানীকে”? চরিত্রটি করতে গিয়ে নিতে হয়েছিল জীবনের ঝুঁকি!

বড় পর্দার (Flim Industry) এক সময়কার জনপ্রিয় অভিনেত্রীদের মধ্যে অন্যতম একজন হলেন সুব্রতা চ্যাটার্জী (Subrata Chatterjee)। বেহুলা লক্ষিন্দরের সেই মা মনসার কথা নিশ্চয়ই সকলের মনে আছে। মনসা চরিত্রে অভিনয় করে রাতারাতি সকলের কাছে জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন অভিনেত্রী। তবে শেষ অনেক বছর ধরে অভিনেত্রীকে বড় পর্দায় দেখা যাচ্ছে না। যার জন্য দর্শক মহলে অভিনেত্রীর খোঁজ পরেছে। কেন দেখা যাচ্ছে না অভিনেত্রীকে, কিসের জন্য অভিনয় জগৎ থেকে দূরে রয়েছেন কবে ফিরবেন এই সমস্ত প্রশ্ন উঠে এসেছে।
বর্তমানে বহু অভিনেতা অভিনেত্রী সময়ের সাথে সাথে হারিয়ে যাচ্ছেন। নতুনদের ভিড়ে তাদের মনে রাখছে না।এই নিয়ে বহু অভিনেতা অভিনেত্রীকে আক্ষেপ প্রকাশ করতে শোনা গেছে। সেই মনসার চরিত্রে বাঙালির মনে প্রথম জায়গা করে নেন যে অভিনেত্রী তিনি সুব্রতা চট্টোপাধ্যায়। শুধুমাত্র যে মনসা চরিত্রে অভিনয় করে এত জনপ্রিয়তা পাওয়া যায় সেটা হয়তো অভিনেত্রীকে না দেখলে বোঝাই যেত না।
মনসার আর এক নাম হল ‘চ্যাঙমুড়ি কানী’। মনসার উপর একবার শিব আকৃষ্ট হয়েছিলেন। তখন মনসা শিবকে স্মরণ করিয়ে দেন যে তিনি শিবেরই মানসকন্যা। কিন্তু তবুও শিবের স্ত্রী চণ্ডী মনসার উপর চটে গিয়ে মনসার চোখ শিবের বিল্বপত্র দিয়ে খুঁচিয়ে কানা করে দেন। সেই থেকে মনসার এক চোখ অন্ধ। মনসার আসল নাম পদ্মাবতী হলেও তাঁকে বিদ্রুপ করে বলা হত ‘চ্যাঙমুড়ি কানী’।
‘বাবা তারকনাথ’-এ সন্ধ্যা রায়ের অভিনয় যতখানি দর্শকের মনে দাগ কেটেছিল, ততখানি দাগ কেটেছিল ‘বেহুলা লখিন্দর’ ছবিতে মনসা সুব্রতা চট্টোপাধ্যায় এর অভিনয়। সুব্রতা চট্টোপাধ্যায় মনসার এক চোখ অন্ধ লুকে দুর্ধর্ষ অভিনয় করেছিলেন। দাপুটে অভিনয় সার্থক হয়েছিল চোখের অমন নিখুঁত সাজের জন্য। সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয়, ১৯৭৭ সালে তখন ভারতেই কনট্যাক্ট লেন্স আসেনি। কিন্তু সুব্রতা চট্টোপাধ্যায় ঝুঁকি নিয়ে চোখের ভেতর ঘষা লেন্স পরেছিলেন।
সুব্রতা চট্টোপাধ্যায়ের কন্যা ঝিমলি বন্দ্যোপাধ্যায় এক সাক্ষাৎকারে জানালেন, ‘মা চোখে ঘষা লেন্স পরেছিলেন মনসা সাজতে। ঐ যুগে এখনকার মতো প্রস্থেটিক মেকআপ ছিল না। তাই ঘষা লেন্স চোখের মধ্যে পরে মা অভিনয় করেছিলেন। মা একেবারে আইকনিক হয়ে গেলেন অমন দেবীর সাজে। আমি তখন ছোট তবু মনে আছে ‘বাবা তারকনাথ’ আর ‘বেহুলা লখিন্দর’ একসঙ্গেই সব হলে চলছিল। দুটো ছবিতেই জ্যান্ত সাপ নিয়ে শ্যুট করা হয়। সত্যিকারের সাপগুলো দুটো ছবিতেই দিয়েছিলেন বিখ্যাত সর্পবিশেষজ্ঞ দীপক মিত্র। ট্রেনিং দেওয়া জ্যান্ত সাপ নিয়ে শ্যুট হয়েছিল।’
আরও পড়ুনঃ কাজে বাধা হয়ে দাঁড়ালো ধর্ম! সোশ্যাল মিডিয়া থেকে বিরতি নিলেন দেবচন্দ্রিমা সিংহ রায়!
তিনি আরও বলেন, ‘মা সর্পদেবী মনসার চরিত্র করলেও জ্যান্ত সাপের সঙ্গে শ্যুটিং করতে ভীষণ ভয় পেয়েছিলেন। কিন্তু প্রযোজক দীনেশ চিত্রমের দীনেশবাবু মাকে সাহস জুগিয়েছিলেন অভিনয় করতে। তারপর তো ‘বেহুলা লখিন্দর’ ছবি ইতিহাস। চাঁদ সওদাগর হন অভি ভট্টাচার্য, মনসা আমার মা সুব্রতা চট্টোপাধ্যায়, বেহুলা মহুয়া রায়চৌধুরী, লখিন্দর নবাগত দেবাশিস, আর শিব সতীন্দ্র ভট্টাচার্য। সতীন্দ্র ভট্টাচার্যর সঙ্গে মা পেশাদার মঞ্চে অনেক নাটকও করেছিলেন। আজও যে মনসা পুজো এলে আমার মাকে দেবী মনসা বলে মানুষ মনে রাখছেন সেটাই সবথেকে বড় পাওয়া।’

