একাধারে অভিনেতা, পরিচালক আবার রাজনীতিবিদ! না’রকীয় যন্ত্রণায় কেটেছে শেষ জীবন! অভিনেতা অনিল চট্টোপাধ্যায়-এর মৃ’ত্যু বর্ণনা চোখে জল আনবে আপনারও!

বাংলা চলচ্চিত্র (Film Industry) জগতে সাদাকালো স্বর্ণযুগে জনপ্রিয় একজন অভিনেতা ছিলেন অনিল চট্টোপাধ্যায় (Anil Chatterjee)। সত্যজিৎ রায়, তপন সিংহ এবং ঋত্বিক ঘটকের মতো খ্যাতনামা বাঙালি পরিচালকদের সাথে কাজ করেছেন অভিনেতা। তবে শুধুমাত্র বাংলা ছবিতেই নয় পাশাপাশি কিছু হিন্দি ছবিতেও কাজ করেছেন। অভিনেতার মৃত্যুর এত বছর পরেও আজও কিন্তু দর্শক তাকে ভুলতে পারেননি।
অভিনেতার জন্ম হয় ১৯২৯ সালের ২৫শে অক্টোবর। দিল্লিতে স্কুলের পড়াশোনা শেষ করার পর, তিনি কলকাতায় আসেন এবং বিখ্যাত সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে ভর্তি হন, পড়াশুনা শেষ করার পর তার আলাপ হয় উৎপল দত্তের সাথে তারপরে থিয়েটার দলে নাম লেখেন অনিল বাবু। কলেজ পাশ করার পর, তিনি তার আত্মীয়, সেই সময়ের সফল প্রযোজক-পরিচালক, অর্ধেন্দু মুখার্জির ইউনিটে সহকারী হিসেবে যোগদান করেন।
পড়াশোনায় ভালো হওয়ায় মাঝে চাকরি ও পেয়েছিলেন অভিনেতা। পঞ্চাশের দশকের শুরুতে যখন জার্মান কোলাবরেশনের একটা কোম্পানিতে চাকরি করতেন, তখন মাইনে ছিল ৭০০-৮০০ টাকা। তখনকার দিনে টাকাটা অনেক বেশি। কিন্তু অনিল চট্টোপাধ্যায় হঠাৎ বলে বসলেন, সেই কাজ তাঁর ভালো লাগছে না। তাই সব ছেড়ে চলে আসেন, সহকারী পরিচালকের কাজ শুরু করেন তখন থেকে।
এরপর তিনি বেশ কিছু ছবিতে ক্যামিও চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। ঋত্বিক ঘটকের নাগরিক, মেঘে ঢাকা তারা। সত্যজিৎ রায়ের সাথে তিন কন্যা, কাঞ্চনজঙ্ঘা, মহানগর। এছাড়াও তপন সিনহার ছবি নির্জন সৈকতে, জোতুগৃহ, আতঙ্ক ইত্যাদি ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এছাড়াও অভিনেতা সন্ধ্যা রায়ের বিপরীতে একজন রোমান্টিক নায়কের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন এবং ছবিটি বছরের সবচেয়ে বড় হিট ছিল।
আরও পড়ুনঃ তিনদিনে তিন লক্ষ টাকা জোগাড় করার চ্যালেঞ্জ নিলো পারুল! বোনের স্বপ্ন পূরণ করতে নিজের স্বপ্ন বিসর্জন! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব
তারপর ১৯৮০-এর দশকে, শারীরিক সমস্যা এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যস্ততার কারণে অভিনেতার উপস্থিতি পর্দায় কম লক্ষ্য করা যায়। একজন হাসিখুশি, উচ্ছ্বসিত মানুষ ছিলেন তিনি। সিনেমার বাইরেও যার আগ্রহ বিস্তৃত ছিল। তিনি ছিলেন একজন অসাধারণ গল্পকার, অত্যন্ত দক্ষ চিত্রশিল্পীও এবং চমৎকার তৈলচিত্র। অভিনয়ের পাশাপাশি রাজনীতিতেও যোগ দিয়েছিলেন অভিনেতা। বামফ্রন্টের প্রার্থী হয়েছে চৌরঙ্গী বিধানসভা উপ নির্বাচনে জয়ী হয়ে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সদস্য হয়েছিলেন। এরপর হঠাৎই ১৯৯৬ সালের ১৫ মার্চ গভীর রাতে হঠাৎ বুকে অসহ্য যন্ত্রনা অনুভব করেন। পরের দিন ছবির শুটিং থাকায় কিছুতেই হাসপাতালে যেতে চাইলেন না। ফলে বাড়িতেই ডাক্তার এসেছিল কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। একদিন যেতে না যেতেই ১৯৯৬ সালের ১৭ মার্চ চিরনিদ্রায় চলে গেলেন অভিনেতা।

