সব ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে! বাংলাদেশে হিংসা মানেই মানবতার পরাজয়, শিল্প সংস্কৃতির পাশে চিরঞ্জিৎ কোয়েলরা! ধ্বংস নয় মানবতার জয় চাইছেন টলিপাড়ার তারকারা

পড়শি দেশ যদি অশান্ত থাকে, তবে সেই আগুনের আঁচ যে এ পারেও এসে লাগে, তা নতুন করে মনে করিয়ে দিচ্ছে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি। ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির মৃত্যুর পর নতুন করে হিংসায় উত্তাল হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ। বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়েছে ভাঙচুর ও অরাজকতা। সংবাদপত্রের দফতর থেকে শুরু করে ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট এবং উদীচীর উপর হামলা মনখারাপের ছায়া ফেলেছে দুই বাংলার শিল্পীমহলে। এই প্রেক্ষাপটে আনন্দবাজার ডট কমের কাছে নিজেদের আক্ষেপ এবং ক্ষোভ উজাড় করে দিলেন কলকাতার অভিনেতা অভিনেত্রীরা।

বর্ষীয়ান অভিনেতা চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী বাংলাদেশের শিল্প সংস্কৃতির প্রতি গভীর টান প্রকাশ করে বললেন, এত সমৃদ্ধ একটি দেশের ভাল দিকগুলি একের পর এক ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে সংস্কৃতির অঙ্গন সবই যেন আক্রমণের শিকার। তাঁর মতে, এই হিংসা শুধু একটি দেশকে নয়, দুই দেশের সাংস্কৃতিক সম্পর্ককেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যে শিল্প আদানপ্রদান ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছিল, ফের তা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বলেই আশঙ্কা তাঁর।

একই সুর শোনা গেল রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী প্রমিতা মল্লিকের কণ্ঠেও। তাঁর মতে, সঙ্গীত ও সংস্কৃতি মানুষের ব্যাধি কমায়, শান্তি দেয়। সেই প্রতিষ্ঠানগুলিকেই যখন ধ্বংস করা হয়, তখন তা শুধু নিন্দনীয় নয়, অমানবিকও বটে। তিনি বারবার এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছেন, গান আর শিল্পের উপর হামলা মানে মানবতার উপর আঘাত। এই উন্মত্ততা থামুক, এটাই তাঁর একমাত্র কামনা।

কোয়েল মল্লিক মনে করছেন, বিনোদনের জগৎ সব সময় হিংসার ঊর্ধ্বে থাকা উচিত। সেখানে যদি মৌলবাদ ঢুকে পড়ে, তবে তার থেকে দুঃখের কিছু নেই। তাঁর মতে, প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তি হওয়াই শান্তি ফেরানোর একমাত্র পথ। নাট্যকার অবন্তী চক্রবর্তীর স্মৃতিতেও ভেসে উঠছে দুই বাংলার একসঙ্গে নাটক করার দিনগুলি। সেই সৌভ্রাতৃত্ব কি আর ফিরে আসবে, সেই প্রশ্নই আজ তাঁকে তাড়া করছে।

আরও পড়ুনঃ কৃশানু ও মিঠির প্রেমের কাহিনীর মাঝেই অপহরণ, শ্লী’লতাহানির ট্র্যাক! ট্রোলের মুখে চিরসখা! নেটিজেনদের স্পষ্ট জবাব দিলেন লেখিকা লীনা গঙ্গোপাধ্যায়

উষসী চক্রবর্তী, বিক্রম চট্টোপাধ্যায় এবং রূপাঞ্জনা মিত্ররাও একই সুরে মানবতার কথা বলেছেন। উষসীর কাছে বাংলাদেশের সবুজ শ্যামল রূপ আর দুই বাংলার ভ্রাতৃত্বই আসল পরিচয়। বিক্রম স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, ধর্মের নামে ঘৃণা ও হত্যার কোনও জায়গা নেই। রূপাঞ্জনার মতে, মানবতা সব সময় ধর্মের ঊর্ধ্বে। সকলের একটাই আবেদন, ধ্বংস নয়, শান্তি ও সমৃদ্ধির পথে ফিরুক বাংলাদেশের শিল্প সংস্কৃতি।

Back to top button