কখনো প্রিয় “অভিনেত্রী” আবার কখনো আদর্শ “স্ত্রী”! প্রতিটি লড়াই একাই লড়েছেন তিনি! নিঃসন্তান জীবনে স্বামীই বেঁচে থাকার অবলম্বন! ৮৫-তেও প্রাণবন্ত বর্ষীয়ান অভিনেত্রী লিলি চক্রবর্তী!

বাংলা অভিনয় জগতের অন্যতম প্রবীণ ও বিশিষ্ট অভিনেত্রী হলেন লিলি চক্রবর্তী (Lily Chakravarty)। ১৯৪১ সালের ৮ আগস্ট অবিভক্ত বাংলার ঢাকায় তাঁর জন্ম হয়। ছোটবেলায় পরিবারের সঙ্গে কলকাতায় চলে আসার পর নানা চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে তাঁর শৈশব কেটেছে। পারিবারিক নাটকের আবহ এবং ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি গভীর ভালোবাসা তাঁকে পরবর্তীতে অভিনয় জগতে পা রাখার প্রেরণা জুগিয়েছিল।

১৯৫৮ সালে ‘ভানু পেলো লটারি’ ছবির মাধ্যমে রূপালী পর্দায় লিলির অভিনয় জীবনের সূচনা ঘটে। এরপর আর তাঁকে পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। ‘দেয়া নেয়া’, ‘দুই পুরুষ’ বা ‘জন অরণ্য’-র মতো একাধিক কালজয়ী বাংলা ছবিতে তাঁর সাবলীল অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। বিশেষ করে মহানায়ক উত্তম কুমারের সঙ্গে ‘দেয়া নেয়া’ কিংবা ‘দুই পুরুষ’-এর মতো ছবিতে তাঁর অভিনয় দক্ষতা দারুণ প্রশংসিত হয়। শুধু বাংলা ছবিতেই নয়, ‘চুপকে চুপকে’, ‘আচানক’-এর মতো জনপ্রিয় হিন্দি ছবিতে কাজ করে সর্বভারতীয় স্তরেও তিনি নিজের পরিচয় গড়ে তোলেন।

অভিনয় জীবনের পাশাপাশি লিলি চক্রবর্তীর ব্যক্তিগত জীবন ছিল খুব সাবলীল ও মাটির কাছাকাছি। তরুণ বয়সেই ব্যবসায়ী অজিত কুমার ঘোষের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তবে বিয়ের পর এক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় তাঁকে স্বামীর মারাত্মক অসুস্থতার কারণে প্রিয় অভিনয় জগত থেকে কিছুদিন সম্পূর্ণ দূরে সরে যেতে হয়েছিল তাঁকে। স্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে স্বামীকে সুস্থ করে তোলার পর তিনি আবারও লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশনের দুনিয়ায় ফেরেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বরাবরই আড়ম্বরহীন ও শান্ত স্বভাবের মানুষ হিসেবে পরিচিত, যিনি গ্ল্যামার জগতের আলোয় থেকেও নিজের সাধারণ জীবনযাপন ভালোবাসতেন।

বড় পর্দার পাশাপাশি ছোটপর্দাতেও লিলি চক্রবর্তীর উপস্থিতি ছিল ভীষণ উজ্জ্বল। সময় পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিয়ে তিনি টেলিভিশনের বিভিন্ন ধারাবাহিকে কাজ শুরু করেন। ‘গোয়েন্দা গিন্নি’, ‘ভুতু’ কিংবা ‘নিম ফুলের মধু’-র মতো অত্যন্ত জনপ্রিয় ধারাবাহিকে প্রবীণ অভিভাবকের চরিত্রে তাঁর অভিনয় নতুন প্রজন্মের দর্শকদের কাছেও তাঁকে অত্যন্ত প্রিয় করে তোলে। পাশাপাশি ‘সাঁঝবাতি’ ও ‘পোস্ত’-র মতো চলচ্চিত্রগুলোতেও তাঁর অভিনয় দর্শক মনে দাগ কেটেছে।

আরও পড়ুনঃ নিজের পায়ে উঠে দাঁড়ালো টগর! সুস্থ হয়ে উঠল শিরিন! সব ভুল বোঝাবুঝির অবসান! যে শিরিন ছিল কাঁটা, সে-ই মিলিয়ে দিল পারুল-রায়ানের হাত!

বর্তমানে লিলি চক্রবর্তীর বয়স ৮৫ বছর। বয়সজনিত কারণ এবং শরীরকে বিশ্রাম দেওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি এখন আর অভিনয় জগতে নিয়মিত কাজ করছেন না। লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশনের ব্যস্ততা থেকে দূরে সরে এসে তিনি বর্তমানে কলকাতায় শান্ত ও একাকী জীবন কাটাচ্ছেন। অভিনয় থেকে বিরতি নিলেও বাংলা চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনে তাঁর দীর্ঘদিনের অনন্য অবদান দর্শকদের হৃদয়ে চিরকাল অমলিন থাকবে।

Back to top button