‘আমি যে মাধ্যমটা বেশি ব্যবহার করতে চাই, সেটা আমার শিল্প!’ ‘আমার থেরাপির দরকার নেই’ বলাটাও পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার অংশ!’ ‘আজকের দিনেও ব্যাক টাচ সইতে হবে?’ ভার্চুয়াল ট্রোলিং নিয়ে স্পষ্ট উজান গাঙ্গুলী!

উজান গাঙ্গুলী (Ujan Ganguly) হলেন বাংলা বিনোদন জগতের অত্যন্ত পরিচিত ও প্রতিভাবান একজন তরুণ অভিনেতা এবং পরিচালক। তিনি মূলত প্রখ্যাত এবং জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র পরিচালক কৌশিক গাঙ্গুলী এবং জনপ্রিয় অভিনেত্রী-পরিচালক চূর্ণী গাঙ্গুলীর সন্তান। অভিনয়ের পাশাপাশি পড়াশোনাতেও তিনি অত্যন্ত মেধাবী যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে উচ্চশিক্ষা শেষ করে পরবর্তীকালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ‘লক্ষ্মী ছেলে’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি অভিনেতা হিসেবে বিপুল প্রশংসা পান এবং এবার নিজের পরিচালিত নতুন কাজের মাধ্যমে চলচ্চিত্র পরিচালনায় পা রাখছেন।

ভিডিও সাক্ষাৎকারে উজান তাঁর সামাজিক ও ব্যক্তিগত প্রতিবাদের মাধ্যম হিসেবে শিল্প ও সিনেমাকে বেছে নেওয়ার কথা বলেছেন। তাঁর মতে, ট্রোলিং বা নজর কাড়ার চক্করে সোশ্যাল মিডিয়ার পরিবেশ ইদানীং অনেকটাই রুচিহীন হয়ে পড়েছে। ব্যক্তিগত দুখঃ-কষ্ট বা অসন্তোষ ভার্চুয়াল মাধ্যমে পোস্ট না করে, তিনি বিশ্বাস করেন নিজের কাজ বা শিল্পের মাধ্যমে সমাজকে শক্তিশালী বার্তা দেওয়া অনেক বেশি কার্যকর।

সাক্ষাৎকারে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল মানসিক স্বাস্থ্য ও সমাজের ধ্যানধারণা। সাধারণত পুরুষতান্ত্রিক সমাজে ছেলেদের আবেগ প্রকাশ করা বা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য থেরাপিস্টের সাহায্য নেওয়াকে দুর্বলতা হিসেবে দেখা হয়। উজান এই ধারণার সমালোচনা করে জানান যে, নিজেদের মানসিক সমস্যার কথা খোলাখুলি মেনে নেওয়া এবং থেরাপির সাহায্য নেওয়ার মধ্যে কোনো লজ্জা নেই। সব জেন্ডারের মানুষের জন্যই এই মানসিক সচেতনতা থাকা অত্যন্ত জরুরি।

ছবিটির বিষয়বস্তু ও নান্দনিকতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে উজান জানান, এতে শৈশবের ট্রমা এবং সামাজিক নানা অভিজ্ঞতাকে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হয়েছে। ছবিতে সুকুমার রায়ের ‘ননসেন্স’ সাহিত্য এবং কাল্ট রেফারেন্সের একটি ট্রিবিউট বা প্রভাব রয়েছে। কম বাজেটের মধ্যেও অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে কস্টিউম ডিজাইন এবং মিউজিক তৈরি করা হয়েছে, যাতে হিউমারের আড়ালেও এক গভীর সামাজিক বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছায়।

আরও পড়ুনঃ ‘শিল্পীদের রুটি-রুজিতে আঘাত দিচ্ছে ক্ষমতা?’ ‘আমাকে ব্যান করা হয়েছিল,’ ‘আগের সরকারের কীভাবে পতন হয়েছিল মনে রাখবেন!’ ‘চুরি-চামারি কম হলেই ভালো!’ রাজনীতি ও সরকার নিয়ে অকপটে সোহিনী সরকার!

ভিডিওর শেষভাগে উজান সমাজের একটি চরম সত্যি তুলে ধরেন। শৈশবে ঘটে যাওয়া কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বা ‘Bad Touch’-এর গভীর প্রভাব কীভাবে একজন মানুষের সারা জীবনের আচরণ বদলে দেয়, সে বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির কথা বলেন তিনি। একই সঙ্গে কোনো ক্ষতিকারক ঘটনাকে দলীয় রাজনীতির রঙ না দিয়ে, মানবিকতার খাতিরে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান। প্রতিবাদের মাধ্যমে সমাজকে পরিষ্কার ও সুস্থ করে তোলার স্বপ্নই এই সাক্ষাৎকার এবং তাঁর কাজের মূল সুর।

Back to top button