‘আজকালকার কেউ মনে দাগ কাটে না…’ ‘পেছনে ফিরে কী হবে? আমি সামনে তাকাতে চাই!’ ‘যত বয়স বাড়ে, ফেলে আসা দিনগুলো তত বেশি মনে পড়ে!’ টলিউডের সোনালী যুগের গল্পে স্মৃতিকাতর দুই কিংবদন্তি মাধবী মুখোপাধ্যায় ও দীপঙ্কর দে!

বয়স কেবলই একটা সংখ্যা মাত্র, মনের কোণে জমে থাকা অনুভূতি আর সম্পর্কের সমীকরণগুলো যে চিরকাল একই রকম তাজা থাকে, তা আবারও প্রমাণ করলেন টলিউডের দুই প্রবীণ নক্ষত্র মাধবী মুখোপাধ্যায় (Madhabi Mukherjee) ও দীপঙ্কর দে (Dipankar Dey)। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এই দুই বর্ষীয়ান শিল্পী তাঁদের আসন্ন কাজের পাশাপাশি জীবন ও অভিনয়ের ফেলে আসা সোনালী দিনগুলো নিয়ে খোলামেলা আড্ডায় মাতলেন। তাঁদের কথায় যেমন উঠে এলো পুরোনো দিনের পরিচালকদের প্রতি শ্রদ্ধা, তেমনই প্রকাশ পেল বর্তমান প্রজন্মের কাজ নিয়ে কিছু আক্ষেপ ও জীবনের এক অদ্ভুত দর্শন।

ছবির গল্প ও চরিত্রের রসায়নের কথা বলতে গিয়ে দীপঙ্কর দে জানান, তাঁদের নতুন কাজটি গড়ে উঠেছে দুজন প্রবীণ মানুষের পারস্পরিক নির্ভরতা এবং এক অদ্ভুত সুন্দর বন্ধুত্বকে কেন্দ্র করে। সমাজ বা পরিবারের নতুন প্রজন্ম অনেক সময় এই বয়সে এসে তৈরি হওয়া সম্পর্কের গভীরতা বুঝতে ভুল করে এবং আপত্তি তোলে। কিন্তু অভিনেতার মতে, ভালোবাসা কোনো নির্দিষ্ট বয়সের গণ্ডিতে আটকে থাকে না, মানুষের বেঁচে থাকার শেষ দিন পর্যন্ত মনের গভীরে এক সূক্ষ্ম ভালোবাসার অস্তিত্ব থমকে থাকে।

সাক্ষাৎকারে দীপঙ্কর দে স্মৃতির সরণি বেয়ে ফিরে যান তাঁর কেরিয়ারের শুরুর দিনগুলোয়। তিনি জানান, বয়স যত বাড়ে, ফেলে আসা রঙিন দিনগুলোর দিকে ফিরে তাকানোর ইচ্ছে ততটাই তীব্র হয়। কেরিয়ারের শুরুর দিকে সত্যজিৎ রায়, তপন সিংহ কিংবা মৃণাল সেনের মতো কিংবদন্তি পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁর জীবনে চিরকাল অমলিন। এই প্রসঙ্গে তিনি স্মৃতিকাতর হয়ে মনে করিয়ে দেন, ১৯৭২ সালে মুক্তি পাওয়া তাঁর প্রথম কমার্শিয়াল ছবি ‘হারায়ে খুঁজি’-র কথা, যেখানে তাঁর প্রথম অন-স্ক্রিন নায়িকা ছিলেন স্বয়ং মাধবী মুখোপাধ্যায়। তবে বর্তমান সময়ের অভিনয় প্রসঙ্গে তিনি কিছুটা আক্ষেপের সুরেই বলেন যে, আজকালকার ছেলেমেয়েদের কাজ ঠিক তাঁর মনে গভীর কোনো দাগ কাটতে পারে না।

দীপঙ্কর দে যখন স্মৃতির চাদর গায়ে জড়াতে ভালোবাসেন, ঠিক তখনই সম্পূর্ণ বিপরীত ও এক ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করলেন অভিনেত্রী মাধবী মুখোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট জানান যে, অতীতের স্মৃতি আঁকড়ে ধরে রাখার চেয়ে তিনি সবসময় বর্তমানে বাঁচতে এবং সামনে এগিয়ে যেতে পছন্দ করেন। যে মানুষরা আজ আর পৃথিবীতে বেঁচে নেই, তাঁদের নিয়ে মন খারাপ করে বসে থাকার চেয়ে নতুনদের নিয়ে ভাবা এবং নতুন কিছু করাই তাঁর জীবনের মূল মন্ত্র।

আরও পড়ুনঃ বিরাট দুঃসংবাদ! চোখের নিমেষে সব শেষ! ৯০ বছর বয়সে না ফেরার দেশে জনপ্রিয় অভিনেতা!বিনোদন জগতে শোকের ছায়া!

মাত্র চার-পাঁচ বছর বয়স থেকে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এই জীবন্ত কিংবদন্তি আরও জানান, শৈশবের সেই চঞ্চল দিন থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত পাওয়া মানুষের ভালোবাসা, আদর আর সিনিয়রদের বকুনিগুলোই তাঁর জীবনের আসল চালিকাশক্তি। এই অমূল্য স্মৃতিগুলোই আজও প্রবীণ বয়সে এসেও তাঁকে প্রতিদিন ফ্লোরে যাওয়ার এবং নতুন উদ্যমে কাজ করার মানসিক প্রেরণা জোগায়। পরিচালক শ্যামল বোসের সাথে কম বাজেটে কিন্তু গভীর আবেগের সিনেমা তৈরির চমৎকার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে আড্ডা শেষ করেন এই দুই তারকা, যা তাঁদের অনুরাগীদের মনে এক অদ্ভুত ভালো লাগার রেশ রেখে যায়।

Back to top button