‘আমি আজকে ম’রে যেতাম, উনি যেভাবে…’ ‘আমার হাত পা কাঁপছে…’ র্যাপিডো বুক করে ঘোর বি’পদে অভিনেত্রী! রবীন্দ্র সরোবর থেকে টেনে-হিঁ’চড়ে নিয়ে গেল ক্যাব চালক! একটুর জন্য প্রাণে বাঁচলেন বাঘিনী খ্যাত সম্পিতা প্রামাণিক!

অনলাইন ক্যাব (Rapido) ও বাইক পরিষেবা বর্তমানে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের এক অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে। কলেজ, অফিস কিংবা রাতের জরুরি প্রয়োজনে অনেকেই নিশ্চিন্তে ভরসা করেন এসব অ্যাপভিত্তিক যানবাহনের ওপর। কিন্তু সুবিধার পাশাপাশি সুরক্ষার বিষয়টি যে বারবার প্রশ্নের মুখে পড়ছে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষ ও বিশেষ করে মহিলাদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েই চলেছে।
সম্প্রতি সেই অভিজ্ঞতারই মুখোমুখি হলেন নৃত্যশিল্পী ও অভিনেত্রী সম্পিতা প্রামাণিক (Sampita Pramanik)। র্যাপিডো চালকের দুর্ব্যবহার এবং আশঙ্কাজনক আচরণের কথা তুলে ধরে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি লাইভ ভিডিও শেয়ার করেন। মঙ্গলবার রাতের এই ঘটনাটি জানাজানি হতেই অ্যাপভিত্তিক গাড়ির নিরাপত্তা নিয়ে ফের নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত হাজরা মোড়ের বসুশ্রী সিনেমার সামনে থেকে। সম্পিতা প্রথমে পার্ক স্ট্রিটে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার জন্য র্যাপিডো বুক করেছিলেন, কিন্তু পরে গন্তব্য বদলে অনলাইনে তা দমদম করে দেন। কিন্তু যাত্রা শুরু করার পর থেকেই চালকের আচরণ সম্পিতার কাছে বেশ সন্দেহজনক মনে হতে থাকে। আতঙ্কিত হয়ে তিনি চালককে রবীন্দ্র সরোবর মেট্রো স্টেশনের কাছেই নামিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানান।
গাড়ি থামার পর শুরু হয় আসল অশান্তি। মাঝরাস্তায় নেমে যাওয়ার কারণে চালক দাবি করেন যে, বুকিং অনুযায়ী দমদম পর্যন্ত পুরো ভাড়াই মেটাতে হবে। সম্পিতা এর প্রতিবাদ করে জানান যে, তিনি যতটুকু পথ এসেছেন ততটুকুর ভাড়াই দেবেন। এই নিয়ে কথা কাটাকাটি শুরু হলে চালক হঠাৎ মেজাজ হারিয়ে গাড়ি চালাতে শুরু করেন। ব্যাগ নিয়ে নামার সময় অভিনেত্রী গাড়ি থেকে পেছনের দিকে বেশ কিছুটা পথ টেনে হিঁ’চড়ে যান, যার ফলে বড়সড় দুর্ঘটনা বা প্রাণহানির আশঙ্কা তৈরি হয়।
আরও পড়ুনঃ শ্রীনিবাসের পুরনো অফিসে হাজির কমলা! সহকর্মীর সঙ্গে কথা বলতেই সবটা পরিষ্কার! এবার কি তবে হাতেনাতে ধরা পড়বে শ্রীনিবাস? দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব
কোনওমতে নিজের জিনিসপত্র বাঁচিয়ে তিনি গাড়ি থেকে সরে আসেন এবং স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা এসে তাঁকে সাহায্য করেন ও জল খাইয়ে শান্ত করেন। সম্পিতার অভিযোগ, চলন্ত গাড়িতে আ’তঙ্কের সময়ে তিনি অ্যাপের ‘সেফটি হেল্পলাইনে’ বারবার মেসেজ করলেও কোনো সাহায্য পাননি। এই ভয়ংকর অভিজ্ঞতার পর গোটা বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়ায় জানানোর পাশাপাশি তিনি কালীঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে চলেছেন।

