‘ছয় বছরে অনেক কেঁদেছি, আর কাঁদতে চাই না!’ ‘আমার বাবা, জ্যাঠা বা কাকা কেউই ব্রাত্য বসু নন!’ কেনো হারিয়ে গেলো মা খ্যাত ঝিলিক? টলিউডের ভেতরের সমীকরণ নিয়ে মুখ খুললেন তিথি বসু!

বাংলা টেলিভিশনের (Bengali Television) ইতিহাসের অন্যতম জনপ্রিয় এবং সফল ধারাবাহিক ‘মা’। আর এই ধারাবাহিকের হাত ধরেই আপামোর বাঙালি দর্শকের ঘরের মেয়ে হয়ে উঠেছিলেন খুদে ঝিলিক যার আসল নাম তিথি বসু (Tithi Basu)। ছোটবেলায় নিজের সাবলীল অভিনয় দিয়ে দর্শকদের চোখের জল ধরে রাখতে পারতেন না যিনি, সেই তিথি আজ বেশ বড় হয়েছেন। সম্প্রতি ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া একটি এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে নিজের অভিনয় জীবন, দীর্ঘ বিরতি এবং তাঁকে ঘিরে চলতে থাকা একাধিক বিতর্ক নিয়ে অত্যন্ত খোলামেলা ও বিস্ফোরক আলোচনা করেছেন এই অভিনেত্রী। দীর্ঘদিনের জমিয়ে রাখা ক্ষোভ এবং রটনার বিরুদ্ধে এবার সরাসরি ক্যামেরার সামনেই জবাব দিয়েছেন তিনি।

দীর্ঘদিন পর্দায় না থাকার কারণে তিথির ব্যক্তিগত জীবন এবং তাঁর পরিবারকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক মনগড়া গল্প তৈরি হয়েছিল, যার মধ্যে অন্যতম বড় বিতর্কটি হলো তাঁর পারিবারিক পরিচয় নিয়ে। ইন্ডাস্ট্রির অলিন্দে এবং দর্শকদের একাংশের মধ্যে বছরের পর বছর ধরে একটি রটনা চলছে যে, তিথি বসু আসলে বিখ্যাত নাট্যব্যক্তিত্ব তথা রাজ্যের মন্ত্রী ব্রাত্য বসুর মেয়ে। এই সাক্ষাৎকারটিতে এই বিষয়টি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন অভিনেত্রী। তিনি হাত জোড় করে ক্যামেরার সামনে বলেন, ‘আমি যখন থেকে ঝিলিক হয়েছি মানুষের কাছে, তখন থেকে একটাই কথা আমি শুনে এসেছি ব্রাত্ত বসুর মেয়ে ও! বিশ্বাস করো, আমি প্রচুর ভিডিওতে এরকম বলেছি, আমি এখনো এখানে এসে বলছি, আমার বাবা, আমার জেঠা, আমার কাকা কেউই ব্রাত্ত বসু নয়।’ তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, কেবল পদবির মিল থাকার কারণে সাধারণ মানুষ নিজেদের মতো করে এই মিথ্যা গল্প সাজিয়ে নিয়েছেন।

এই পরিচয় বিতর্কের রেশ টেনে তিথি আরও একটি রাজনৈতিক সংযোগের গুজবকে পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছেন। ব্রাত্য বসুর সঙ্গে নাম জড়ানোর কারণে অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন যে তিথির পরিবার হয়তো শাসকদলের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। এই প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে অভিনেত্রী জানান, ব্রাত্য বসু এমন একজন ব্যক্তি যাঁর সাথে তাঁর ব্যক্তিগতভাবে কোনোদিন দেখাই হয়নি। তিনি বলেন, ‘আমার বাবার নাম চন্দন বসু। উনি কোনোভাবেই টিএমসি পার্টির সাথে লিংকড নয়, আমার ফ্যামিলির কেউই টিএমসি পার্টির সাথে লিংকড নয়।’ কোনো রাজনৈতিক প্রভাব বা পরিচয় খাটিয়ে তিনি যে ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করতে আসেননি, তা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি দর্শকদের উদ্দেশ্যে জোরালো অনুরোধ জানান যেন এই ভিত্তিহীন ‘তকমা’ দেওয়া এবার বন্ধ করা হয়।

পারিবারিক বিতর্কের পাশাপাশি এই সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে তিথির দীর্ঘদিনের কর্মবিরতির পেছনের আসল সত্য। ‘মা’ সিরিয়াল শেষ হওয়ার পর ২০১৯-২০ সালে তিনি ‘ময়ূরপঙ্খী’ নামের একটি ধারাবাহিকে কাজ করলেও লকডাউনের কারণে সেটি মাঝপথেই বন্ধ হয়ে যায়। এরপর দীর্ঘ সময় তাঁকে কোনো বড় প্রজেক্টে দেখা যায়নি। ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের নোংরা রাজনীতি বা সমঝোতার দিকে পরোক্ষ ইঙ্গিত করে তিথি অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে বলেন, ‘তার মাঝখানে আমি কাজ করিনি, বিকজ দেখো ইন্ডাস্ট্রিতে একটু তো একটু ব্যাপার ছিল। আমি কখনো চাইনি আমার গায়ে কোন কাদা লাগুক, অনেস্টলি।’ কোনো অনৈতিক পথ বা নোংরা বিতর্কের অংশ হয়ে সস্তায় লাইমলাইটে আসার চেয়ে নিজের আত্মসম্মান বজায় রাখাকেই তিনি বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস রেখে তিনি আরও যোগ করেন, ‘এর থেকে ভালো আমার মনে হয়েছে টু ওয়েট ফর মাই টাইম। যখন সঠিক সময় আসবে, মানুষ নিশ্চয়ই আমাকে দেখতে পাবে।’

আরও পড়ুনঃ ‘এটা কি আপনার সই? স্পষ্ট করে জানান…’ ‘যদি সইটা আপনার হয় তাহলে এখানে কি করছেন?’ ‘এখনই ইস্তফা দিন…’ যুব তৃণমূলের গ্রুপে সায়নীকে ঘিরে তোলপাড়! ‘সই’ প্রকাশ্যে আসতেই বাড়ল জল্পনা!

সবশেষে, সমস্ত নেতিবাচক বিতর্ককে পেছনে ফেলে তিথি বসু আবার নতুন করে রূপোলী পর্দায় কামব্যাক করতে চলেছেন তাঁর আগামী ছবি প্রেম থেকে শুরু-র হাত ধরে। ছোটবেলার সেই কান্নাকাটি করা ‘ঝিলিক’ ইমেজ ভেঙে এই ছবিতে তিনি এক সম্পূর্ণ নতুন ঘরানার শিল্পমনস্ক মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করছেন। নিজের নতুন ইনিংস নিয়ে উচ্ছ্বসিত তিথি জানান, ‘ঝিলিকের তকমা তো আমার উঠবে না, আমি এটুকু বুঝে গেছি। তবে এখন বড় হয়েছি, একটা নতুন ক্যারেক্টার প্লে করছি। আমার একটাই টার্গেট যে আমি যেন বিভিন্ন ক্যারেক্টার ট্রাই করতে পারি, যার মধ্যে কান্নাকাটি যেন না থাকে। এত কেঁদে ফেলেছি ছ বছরে!’ সমস্ত বিতর্ক ও রটনার অবসান ঘটিয়ে অভিনেত্রী এখন শুধুমাত্র তাঁর অভিনয় ক্ষমতা দিয়ে দর্শকদের নতুন করে মন জয় করতে চান।

Back to top button