শরীরের বাসা বেঁধেছিল মা’রণ রোগ! বছরের পর বছর লুকিয়ে রেখেছিলেন সেই য’ন্ত্রনা! সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রয়াণে নীরব ম্যান্ডেভিলা গার্ডেনস! একাকীত্ব আর স্মৃতির ভিড়ে কেমন আছেন স্বাতী গঙ্গোপাধ্যায়?

স্বাতী গঙ্গোপাধ্যায় (Swati Ganguly), লেখক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের (Sunil Ganguly) স্ত্রী। তিনি কেবল সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের সহধর্মিণীই নন, বরং তিনি নিজের পরিচয়েও একজন উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব। তিনি ইংরেজি সাহিত্যের একজন বিশিষ্ট অধ্যাপিকা এবং তাঁর কর্মজীবনের একটি বড় সময় অতিবাহিত হয়েছে শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে।

তাঁর অত্যন্ত জনপ্রিয় ও উল্লেখযোগ্য একটি বই হলো ‘সুনীল এবং কয়েকজন’। এই বইটিতে তিনি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত জীবন, স্বভাব এবং তাঁর সমসাময়িক বন্ধুদের নিয়ে এমন সব কথা লিখেছেন যা অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। স্বামী সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রয়াণের পর তিনি তাঁর পাণ্ডুলিপি ও সৃষ্টিকে সংরক্ষণের পাশাপাশি বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তাঁর জীবনের অজানা দিকগুলো তুলে ধরেন।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ধরা দিয়েছিলেন তিনি। সেখানেই জানান সুনীল বাবুর প্রয়াণের প্রথম দুই-তিন বছর পর থেকেই তাঁর শরীরে নানা রোগ ও জটিলতা শুরু হয়। তার আগে পর্যন্ত তিনি তুলনামূলকভাবে সুস্থ ছিলেন। তিনি অত্যন্ত বিনয়ের সাথে বলেন, ‘আমি এতই অশক্ত যে ভালোভাবে আপনাদের সঙ্গে হয়তো কথাই বলতে পারব না।: তাঁর হাত-পা এখন আর আগের মতো সচল নেই এবং তিনি দীর্ঘক্ষণ বসে কথা বলতেও শারীরিক কষ্ট অনুভব করছিলেন। তিনি আরো বলেন, ‘আমার হাত পায়ে কিছুই আর নেই, আমি একদম হুইলচেয়ার বাউন্ড।’ লাস্ট চার-পাঁচ বছর ধরে তাঁর শরীর এতটাই ভেঙে গেছে যে তিনি আর স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারেন না।

তিনি ম্যান্ডেভিলা গার্ডেনসের সেই ফ্ল্যাটটির কথা মনে করিয়ে দেন, যা একসময় লেখক-সাহিত্যিকদের আড্ডায় গমগম করত। কিন্তু এখন সেই বাড়ি খাঁ খাঁ করে। তিনি বলেন, ‘খুব ডিপ্রেশনে চলে যাই মাঝে মাঝে।’ তিনি জানিয়েছেন যে মাঝে মাঝে তিনি স্মৃতিভ্রমের শিকার হন বা কথা ভুলে যান, যা তাঁকে আরও বেশি অসহায় বোধ করায়। এখন তিনি মূলত তাঁর স্মৃতিগুলো এবং স্বামীর ফেলে যাওয়া পাণ্ডুলিপিগুলো আঁকড়েই দিনের পর দিন একা কাটান। তাঁর ছেলে শৌভিক বোস্টনে থাকেন। ছেলে বছরে তিন-চারবার এসে তাঁকে দেখে গেলেও, স্বাতী দেবী মনে করেন ভারতবর্ষের কর্মসংস্থানের পরিস্থিতির কারণেই মেধাবী সন্তানদের বিদেশে চলে যেতে হয়, যার ফলে বাবা-মাকে শেষ বয়সে একা থাকতে হয়। এই বিচ্ছেদ তাঁকে মানসিকভাবে আরও ভেঙে দিয়েছে।

আরও পড়ুনঃ ‘আমার বাবার দাড়ি-চুল কাটার বালাই নেই, জমা কাপড় নেই সারাক্ষণ লুঙ্গি পরা…’ এত বড় গায়িকার বাবা হয়েও অতি সাধারণ জীবনযাপন! বাবাকে নিয়ে কি বললেন দেবলীনা নন্দী?

সুনীল বাবুর মৃত্যুর পর থেকেই তাঁর মানসিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং তিনি গান গাওয়া একেবারেই বন্ধ করে দেন। এর ফলে তাঁর গলার স্বর পুরোপুরি বসে গেছে। তিনি অত্যন্ত বিষণ্ণ হয়ে বলেন। চোখের সমস্যা থাকা সত্ত্বেও তিনি আজও বই পড়ার চেষ্টা করেন। নিজে গাইতে না পারলেও গান শুনেই তিনি তাঁর অবসরের ক্লান্তি দূর করেন। তাঁর কাছে বর্তমান জীবন মানেই অতীতের সেই আড্ডা, গান এবং সুনীল বাবুর সাথে কাটানো দিনগুলোর রোমন্থন।

Back to top button