‘গল্প চুরি করে সিরিয়াল?’ ‘আমরা ঠকছি, মানুষ সত্যিটা জানুক!’ ‘গল্প নেওয়া শেষ, এবার লেখককে ছুড়ে ফেলার পালা?’ চিটিংবাজ প্রযোজকদের কি ব্ল্যাকলিস্ট করবে চ্যানেল? জি বাংলার দিকে সরাসরি প্রশ্ন ছুঁড়লেন ক্ষুব্ধ লেখিকা দেবারতি মুখোপাধ্যায়!

টলিউডের (Tollywood) বিনোদন দুনিয়ায় লেখকদের অধিকার ও প্রাপ্য সম্মান নিয়ে আবারও এক বড়সড় বিতর্ক সামনে এল। জি বাংলা চ্যানেলে (Zee Bangla) আসতে চলা ঐতিহাসিক মেগা সিরিয়াল ‘কালীঘাট’-এর গল্প চুরির চেষ্টা, পারিশ্রমিক না দেওয়া এবং চেক বাউন্সের গুরুতর অভিযোগ উঠল প্রযোজক সুব্রত রায় ও তাঁর প্রযোজনা সংস্থা ‘রয়সাইনওয়ার্কস প্রাইভেট লিমিটেড’-এর বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন চুপ থাকার পর, অবশেষে সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দিয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন টলিউডের এক জনপ্রিয় তথা প্রতিষ্ঠিত ঔপন্যাসিক ও চিত্রনাট্যকার।
ঘটনার সূত্রপাত গত মে মাসে। লেখিকা দেবারতি মুখোপাধ্যায় নিজের সোশ্যাল মিডিয়া একাউন্টে জানান, গত ৯ মে ২০২৬ তারিখে প্রযোজক সুব্রত রায় নিজেই যেচে তাঁকে এই সিরিয়ালের মূল কাহিনীকার হিসেবে কাজ করার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেন। প্রথমে রাজি না হলেও, এটি সাধারণ কোনো ‘ডেইলি সোপ’ নয় বরং ইতিহাস, লোকবিশ্বাস ও কাল্পনিক জগতের এক মেলবন্ধন এই আশ্বাসে বিশ্বাস করে লেখক কাজ শুরু করেন। এরপর গত ১৫ মে, তিনি আগামী এক বছরের জন্য সম্পূর্ণ গল্প, চরিত্র বিন্যাস ও খসড়া জমা দেন। কিন্তু গল্প হাতে পাওয়ার পরেই প্রযোজক সমস্ত যোগাযোগ বন্ধ করে দেন এবং টালবাহানা শুরু করেন।
পরবর্তীকালে চ্যানেলে সিরিয়ালের প্রোমো দেখে লেখক বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করলে তাঁকে ঘোরানো হতে থাকে। দীর্ঘদিন পর তীব্র চাপের মুখে তাঁকে একটি পোস্ট-ডেটেড চেক দেওয়া হলেও, ব্যাংকে জমা দেওয়ার পর সেটি ‘ফান্ডস ইনসাফিসিয়েন্ট’ বা অপর্যাপ্ত তহবিলের কারণে বাউন্স করে। চেক দেওয়ার পরেও তাঁকে টাকা তুলতে বারণ করা হয় বলে অভিযোগ। লেখকের প্রশ্ন, টলিউডে গল্প তৈরি হয়ে যাওয়ার পর মূল কাহিনীকারের সম্মান, ক্রেডিট এবং পারিশ্রমিক এভাবে অস্বীকার করা কেন একটা নিয়মে পরিণত হয়েছে?
এই প্রতারণার বিরুদ্ধে এবার কোমর বেঁধে আইনি লড়াইয়ে নামছেন ওই লেখক। মুম্বাইয়ের ‘স্ক্রিনরাইটার্স অ্যাসোসিয়েশন’-এর এই সদস্য জানিয়েছেন, চেক বাউন্সের অপরাধে প্রযোজকের বিরুদ্ধে ‘নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট’-এর ১৩৮ নম্বর ধারা অনুযায়ী মামলা করা হচ্ছে। একই সাথে, তাঁর জমা দেওয়া সৃজনশীল গল্পের সত্ত্ব ও মৌলিক অধিকার রক্ষার জন্য দেওয়ানি এবং কপিরাইট আইনের সাহায্য নিচ্ছেন তাঁর আইনজীবী। লেখকের স্পষ্ট দাবি, তাঁর লিখিত অনুমতি ও চুক্তি ছাড়া এই গল্পের কোনো অংশ সিরিয়ালে ব্যবহার বা পরিবর্তন করা যাবে না।
লেখকদের সাথে চলতে থাকা এই মানসিক হেনস্থা ও প্রতারণার বিরুদ্ধে সরব হয়ে তিনি জি বাংলা কর্তৃপক্ষের কাছেও প্রশ্ন তুলেছেন। যারা শিল্পীদের সাথে এমন প্রতারণা করেন, সেইসব প্রযোজকদের ব্ল্যাকলিস্ট বা কালো তালিকাভুক্ত করা উচিত কি না, সেই নিয়ে চ্যানেল কর্তৃপক্ষের জবাব চেয়েছেন তিনি। “আমরা ঠকছি, ভবিষ্যতেও ঠকব, কিন্তু মানুষ অন্তত সত্যিটা জানুক” এই মন্তব্য করে বিনোদন জগতের ভেতরের অন্ধকার দিকটিই যেন আরও একবার প্রকাশ্যে এনে দিলেন এই প্রতারিত লেখক।

