সফলতার মঞ্চে পৌঁছানো হলো না আর! ভুগেছেন শারীরিক কষ্টে! সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের সন্তান হয়েও লোক চক্ষুর আড়ালেই রয়ে গেলেন সৌগত চট্টোপাধ্যায়!

বাংলা চলচ্চিত্র জগতের (Tollywood) কিংবদন্তি হলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় (Soumitra Chatterjee)। অভিনেতার কর্মজীবনের মতনই ব্যক্তিগত জীবন ছিল অত্যন্ত গোছানো এবং সংস্কৃতিমনস্ক। তাঁর ও তাঁর স্ত্রী দীপা চট্টোপাধ্যায়ের সংসারে দুই সন্তান কন্যা পৌলমী বসু এবং পুত্র সৌগত চট্টোপাধ্যায়। বাবার ছায়ায় বড় হলেও তাঁরা নিজ নিজ ক্ষেত্রে মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন।
সৌমিত্র-কন্যা পৌলমী চট্টোপাধ্যায় বাবার সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার সগৌরবে বহন করে চলেছেন। তিনি একজন বিশিষ্ট থিয়েটার শিল্পী এবং নির্দেশক। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি বাবার নাট্যদল ‘মুখোমুখি’-র সঙ্গে যুক্ত থেকে বহু নাটকে অভিনয় করেছেন। বাবার জীবনের শেষ দিনগুলিতে তাঁর ছায়াসঙ্গী হয়ে থাকা এবং সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের সৃষ্টিকে সংরক্ষণ করার ক্ষেত্রে পৌলমী দেবীর ভূমিকা অনস্বীকার্য। সোশ্যাল মিডিয়াতেও বেশকিছু মানুষ তাকে চেনেন। বেশ পরিচিত মুখ তিনি।
তবে কন্যা ক্যামেরার সামনে থাকলেও সৌমিত্র পুত্র বরাবরই ক্যামেরার আড়ালেই থাকতে পছন্দ করেন। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের পুত্র সৌগত চট্টোপাধ্যায় পেশাগতভাবে সরাসরি অভিনয় জগতের সাথে যুক্ত না থাকলেও সৃজনশীল মানুষ হিসেবে তাঁর পরিচিতি রয়েছে। তিনি মূলত লেখালেখির সাথে যুক্ত। বাবার জনপ্রিয় মাসিক পত্রিকা ‘এক্ষণ’ বা অন্যান্য সাহিত্যচর্চার ক্ষেত্রে তিনি নিভৃতে কাজ করেছেন। প্রচারের আলো থেকে দূরে থাকতেই তিনি বেশি পছন্দ করেন।
সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের পুত্র সৌগত চট্টোপাধ্যায় প্রচারের আলো থেকে দূরে থাকতেই চিরকাল পছন্দ করেছেন। কিংবদন্তি অভিনেতার সন্তান হওয়া সত্ত্বেও তাঁর জীবনযাপন অত্যন্ত সাধারণ এবং সৃজনশীলতায় মগ্ন। সৌগত চট্টোপাধ্যায়ের পরিচয় মূলত একজন লেখক এবং গভীর চিন্তাশীল মানুষ হিসেবে। তিনি মূলত মনস্তাত্ত্বিক এবং জীবনমুখী প্রবন্ধ লিখতেই বেশি ভালোবাসেন। বাবার মতো অভিনয়ের রঙিন পর্দায় নিজেকে সঁপে না দিলেও, তাঁর রক্তে বইছে সাহিত্যের ধারা। বাবার মতো অভিনয়ে না এসে তিনি ঝুঁকেছিলেন চলচ্চিত্র পরিচালনার দিকে। কিন্তু সফলতা আসেনি।
আরও পড়ুনঃ ‘সবাই ওকে ভালবেসেছে, কিন্তু আমি নয় মাস বেশি ভালোবেসেছি…’ ছেলেকে মানুষ করতে শিল্পী রিনি বিশ্বাসের কঠিন সংগ্রাম! শিল্পী নাকি মা, জীবনের কোন ক্ষেত্রে মিলেছে সফলতার ছোঁয়া?
সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনে সৌগত চট্টোপাধ্যায় কিছু কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে গিয়েছেন। বিশেষ করে তাঁর শারীরিক অসুস্থতা এবং একটি বড় দুর্ঘটনার সময় সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় একজন বাবার জায়গা থেকে যেভাবে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, তা অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার। সেই কঠিন সময়েও তিনি মনের জোর হারাননি এবং পড়াশোনার মাধ্যমেই নিজেকে ব্যস্ত রেখেছেন। বাবার মৃত্যুর পর তাঁর অগাধ সৃষ্টি, পাণ্ডুলিপি এবং সংগ্রহশালা দেখাশোনায় তিনি পর্দার আড়ালে থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

