‘ক্যামেরার সামনের জায়গাটা আমার, অন্য কেউ…!’ ‘৪১ বছর বয়সে এসে এটা আমার…’, ‘হার মানতে শিখিনি…!’ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জুতোয় পা গলিয়ে কী বললেন স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়?

বাঙালি ড্রয়িংরুমের অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং দীর্ঘদিনের সফল রিয়েলিটি শো ‘দিদি নাম্বার ওয়ান’ (Didi no. 1) এবার সেজে উঠেছে একেবারে নতুন রূপে। দীর্ঘ বছর ধরে এই মঞ্চকে নিজের দক্ষতায় একাই সামলেছেন অভিনেত্রী রচনা ব্যানার্জী (Rachna Banerjee)। তবে এবার সেই চেনা মঞ্চে এক মস্ত বড় চমক নিয়ে হাজির হয়েছেন ওপার বাংলার অত্যন্ত জনপ্রিয় ও সাহসী অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় (Swastika Mukherjee)। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে এই শো-এর নতুন সিজনের সঞ্চালনার দায়িত্ব নেওয়া এবং নিজের নানাবিধ অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা আড্ডা দিয়েছেন তিনি। প্রথমবার এমন একটি মেগা শো-এর সঞ্চালকের ভূমিকায় এসে স্বস্তিকা তাঁর ভেতরের ভয়, দ্বিধা এবং সেই সাথে এক অদ্ভুত ভালো লাগার গল্প দর্শকদের সাথে ভাগ করে নিয়েছেন।
সাক্ষাৎকারে স্বস্তিকা জানান, যখন চ্যানেল কর্তৃপক্ষ থেকে প্রথমবার এই শো-টি সঞ্চালনা করার প্রস্তাব দিয়ে তাঁকে ফোন করা হয়েছিল, তখন তিনি আক্ষরিক অর্থেই আকাশ থেকে পড়েছিলেন। অফারটি শোনার পর বেশ কিছু সেকেন্ড তিনি সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে যান এবং ভেবেছিলেন কেউ হয়তো তাঁর সাথে স্রেফ মজা বা ইয়ার্কি করছে। কারণ, বিগত বহু বছর ধরে রচনা ব্যানার্জী এই শো-টিকে যে সফলতার শীর্ষে নিয়ে গেছেন, সেখানে তাঁর জায়গায় নিজেকে দাঁড়ানোটা ছিল অত্যন্ত কঠিন এক পরীক্ষা। মনের ভেতর স্বাভাবিকভাবেই একটা বড় রকমের ভয় এবং সংশয় তৈরি হয়েছিল যে, দর্শকরা এই পরিবর্তন কীভাবে গ্রহণ করবেন এবং তিনি নিজে এই গুরুদায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারবেন কি না। এই বড় খবরটি পাওয়ার পর তিনি সবার প্রথমে তাঁর বোনকে ফোন করে নিজের মনের উত্তেজনা ও আশঙ্কার কথা জানান।
তবে স্বস্তিকা চিরকালই চ্যালেঞ্জ নিতে ভালোবাসেন এবং নিজের কাজের প্রতি তাঁর আত্মবিশ্বাস সবসময়ই তুঙ্গে। তিনি জানান যে, তাঁর ৪১ বছর বয়সে এসে যখন সচরাচর অনেক নায়িকাদের ক্যারিয়ারের মূল ইনিংস শেষের দিকে বলে ধরে নেওয়া হয়, ঠিক সেই সময়ে তিনি বম্বেতে গিয়ে সম্পূর্ণ নতুন করে কাজ শুরু করেছিলেন এবং সফলও হয়েছিলেন। ‘দিদি নাম্বার ওয়ান’-এর এই মঞ্চকেও তিনি তাঁর জীবনের তেমনই একটি নতুন রঙিন ইনিংস এবং মস্ত বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেছেন। প্রথম এপিসোডের শুটিংয়ের দিনটি অবশ্য তাঁর জন্য বেশ কঠিন ছিল। প্রচণ্ড নার্ভাস থাকার কারণে ক্যামেরার সামনে নিজেকে তাঁর একেবারে রোবটের মতো আড়ষ্ট মনে হচ্ছিল। তবে সেটের অন্যান্য কলাকুশলী এবং পুরো টিমের আন্তরিক সহযোগিতায় তিনি খুব দ্রুত নিজেকে মানিয়ে নেন এবং এখন প্রতি পর্ব শেষে বাড়ি ফিরে নিজেই নিজের ভুলত্রুটিগুলো খতিয়ে দেখেন।
নতুন সিজনের ‘দিদি নাম্বার ওয়ান’ যে শুধু সঞ্চালকের দিক থেকেই বদলেছে তা নয়, বরং এর পুরো ফরম্যাটেই আনা হয়েছে এক আধুনিক ও চমকপ্রদ পরিবর্তন। স্বস্তিকা অত্যন্ত আনন্দের সাথে জানান যে, এবারের নতুন মঞ্চটিকে প্রচুর এলইডি স্ক্রিন সহযোগে অনেক বেশি স্মার্ট ও যুগোপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে। নিয়মের ক্ষেত্রেও এসেছে বড় বদল আগে যেখানে মাত্র চারজন প্রতিযোগী অংশ নিতে পারতেন, এখন সেখানে একসাথে ১০ জন দিদি খেলার সুযোগ পাচ্ছেন। শুধু তাই নয়, খেলার প্রাইজ মানিও আগের তুলনায় প্রায় ৫ থেকে ১০ গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে ইতিমধ্যেই বহু দিদি এই মঞ্চ থেকে লক্ষাধিক টাকা ও আকর্ষণীয় उपहार বা গিফট জিতে বাড়ি ফিরছেন। প্রতিদিন একদম নতুন নতুন গেমের রাউন্ড রাখা হচ্ছে যা দর্শকদের একঘেয়েমি কাটাতে দারুণ সাহায্য করছে।
আরও পড়ুনঃ ‘জোয়ার ভাটা’য় ইতি টেনে বিগ বস-এ যোগ দেবেন আরাত্রিকা মাইতি? উজি চরিত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে! মুখ খুললেন আরাত্রিকা মাইতি!
টেলিভিশনের পর্দায় স্বস্তিকার এই নতুন রূপ দেখে খোদ তাঁর পরিবারও বেশ রোমাঞ্চিত। অভিনেত্রীর মেয়ে তাঁকে ফোন করে ঠাট্টা করে জানিয়েছে যে, সেটে আসা প্রতিযোগী দিদিদের চেয়েও স্বস্তিকাকে অনেক বেশি উত্তেজিত দেখায় এবং তিনিই নাকি সবচেয়ে বেশি চিৎকার করে আনন্দ উপভোগ করেন। সাক্ষাৎকারের শেষে স্বস্তিকা দর্শকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং জানান যে মানুষের মন জয় করার এক বুক আশা নিয়েই তিনি এই নতুন যাত্রা শুরু করেছেন। তিনি সবাইকে অনুরোধ করেছেন জি বাংলার পর্দায় সোম থেকে শুক্রবার প্রতিদিন রাত ১০টা ১০ মিনিটে এই নতুন মোড়কের ‘দিদি নাম্বার ওয়ান’ দেখতে এবং যেভাবে এতদিন দর্শকরা এই শো-টিকে ভালোবেসে এসেছেন, ঠিক একইভাবে যেন আগামীতেও তাঁদের ভালোবাসা ও সমর্থন বজায় রাখেন।

