বড়দিনে উবের চালকই হয়ে উঠলেন স্বস্তিকার সান্তা! মানবিকতার গল্প শোনাতে গিয়ে আবেগে ভাসলেন অভিনেত্রী! তার জন্য কি করেছেন উবের চালক?

বড়দিন মানেই তারকাদের ঝলমলে উদযাপন এমনটাই আমরা দেখে অভ্যস্ত। তবে স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের বড়দিন বরাবরের মতোই ছিল একটু আলাদা একটু আপন। স্টারডমের চাকচিক্যের বাইরে সাধারণ মানুষের মতোই জীবনযাপন করতে ভালোবাসেন তিনি। কখনও অটোতে সফর কখনও রিক্সায় চড়া আবার কখনও পোষ্যদের নিয়ে ব্যস্ততায় ভরা দিন তাঁর জীবনের অঙ্গ। বড়দিনও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ঘরোয়া ছন্দেই উৎসব কাটিয়েছেন অভিনেত্রী।
সেই দিনটি ছিল কাজ আর ছোটাছুটিতে ঠাসা। সকাল থেকে একের পর এক মিটিং বন্ধুর বাড়ি যাওয়া তারপর প্রিয় পোষ্য সাবিত্রী ও দময়ন্তীকে নিয়ে পেট কার্নিভালে হাজির হওয়া। সময় যেন দৌড়চ্ছিল তাঁর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে। এই ব্যস্ততার মাঝেই উবেরে ওঠা। চালকের সঙ্গে স্বাভাবিক গল্প সিনেমা দেখা কাজের অভিজ্ঞতা সব মিলিয়ে যাত্রাপথ বেশ আনন্দেই কেটেছিল স্বস্তিকার।
কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পরেই নেমে এল আতঙ্ক। হঠাৎ খেয়াল হতেই বুক কেঁপে ওঠে একটি ব্যাগ নেই। সেই ব্যাগে ছিল পোষ্যদের জন্য রাখা ট্রিটস উপহার আর অনেক যত্নের জিনিস। কোথায় গেল ব্যাগ ক্যাফেতে ফেলে এলেন নাকি বাড়িতে পড়ে আছে নাকি উবেরেই রয়ে গেল কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলেন না। উবের পরিষেবায় যোগাযোগ করেও তেমন কোনও সাড়া মিলছিল না। মনখারাপ আর দুশ্চিন্তা গ্রাস করছিল অভিনেত্রীকে।
ঠিক তখনই অচেনা নম্বর থেকে ফোন। ওপার প্রান্তে সেই উবের চালক সৈকত দাস। জানালেন ব্যাগটি নিরাপদেই রয়েছে তাঁর কাছে। বারবার ফোন দেখে বুঝেছিলেন ব্যাগের মালিক নিশ্চয়ই তাঁকেই খুঁজছেন। ঠিক হল বেহালার একটি জায়গায় দেখা হবে। সেখানে গিয়ে স্বস্তিকা দেখলেন হাসিমুখে দাঁড়িয়ে রয়েছেন সৈকত হাতে সেই ব্যাগ। মুহূর্তে সব দুশ্চিন্তা কেটে গেল অভিনেত্রীর।
আরও পড়ুনঃ বড়দিনে পরিবারকে নিয়ে মেতে উঠলেন কোয়েল মল্লিক! সান্তার টুপি পরে হাজির রঞ্জিত মল্লিক! অভিনেত্রীর জীবনে সিক্রেট সান্তা কে?
এই অভিজ্ঞতাই স্বস্তিকা ভাগ করে নিলেন সমাজমাধ্যমে। লিখলেন মানুষের উপর মানুষের বিশ্বাস এখনও বেঁচে আছে। তাঁর মতে আমাদের রোজকার জীবনে সৈকতরাই আসল সান্তা যারা সততা আর মানবিকতায় আস্থা ফিরিয়ে দেয়। সমাজের নেতিবাচক খবর যেমন দ্রুত ছড়ায় তেমনই এই ভালো মানুষের গল্পও ছড়িয়ে পড়া উচিত। বড়দিনের আগে এমন ঘটনা যেন নতুন করে মনে করিয়ে দিল ভালোত্ব এখনও হারিয়ে যায়নি।

