‘সারা জীবন হিরোরা মা’রপিট করে, আমরা প্লিজ ছেড়ে দিন বলে কেঁদে ম’রি… এবার আমি প্যা’দা’বো’! একেবারে অন্য রূপে ধরা দিয়ে অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখার্জির হুঙ্কার!

বসন্তের শুরুতে যখন চারিদিকে মনোরম শান্ত পরিবেশ ঠিক তখনই বাংলা ওটিটি প্ল্যাটফর্মে (OTT Platform) ফাটল এক দুর্ধর্ষ ‘কালীপটকা’। চলতি বছর সরস্বতী পূজোর দিনে জি-ফাইভ প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পেয়েছে স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় (Swastika Mukherjee) অভিনীত নতুন ওয়েব সিরিজ ‘কালীপটকা’। ট্রেলার প্রকাশের পর থেকেই যে উন্মাদনা তৈরি হয়েছিল, সিরিজটি মুক্তির পর তা আরও বহুগুণ বেড়ে গেছে।

পরিচালক অভিরূপ ঘোষের এই সিরিজটি আদতে চার নারীর লড়াইয়ের কাহিনী। শ্রীনু (স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়), রানী (শ্রুতি দাস), রিংকু (হিমিকা বোস) ও মিনতি (শ্রেয়া ভট্টাচার্য)—এই চারজন সমাজের চোখে প্রান্তিক ও সাধারণ বস্তিবাসী। কিন্তু পরিস্থিতির ফেরে তারা জড়িয়ে পড়ে অপরাধ জগতের এক অন্ধকার আবর্তে। মিনতির স্বামীর আকস্মিক মৃত্যু এবং তারপর পুলিশের তাড়া ও এক নৃশংস অপরাধীর হাত থেকে বাঁচতে তারা অস্ত্র হাতে তুলে নেয়। সিরিজের ট্যাগলাইন ‘নারীর পাওয়ার, ফাটবে সবার’। স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় বরাবরই ছক ভাঙতে ভালোবাসেন। ‘কালীপটকা’-তে তাঁর লুকে কোনো গ্ল্যামার নেই, আছে রুক্ষতা। মুখে বিড়ি আর পরনে সাধারণ শাড়ি নিয়ে তাঁর ‘অ্যাংরি উওম্যান’ ইমেজ দর্শকদের মুগ্ধ করেছে।

কালীপটকা’ সিরিজে তাঁর চরিত্র ‘শ্রীনু’ আসলে সেই সব মেয়েদের প্রতিনিধি যারা সমাজের চোখে তথাকথিত ‘নিচু’ বা প্রান্তিক। স্বস্তিকা জানান, এই সিরিজে দেখানো হয়েছে যে মেয়েরা যখন দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার পর ঘুরে দাঁড়ায়, তখন তারা কতখানি ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে। তাঁর মতে, মেয়েরা আজীবন নিজেদের গুটিয়ে রাখে বলেই সমাজ তাদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে।

অভিনেত্রী বলেন, ‘আমাদের সমাজে বরাবরই মেয়েদেরকে এটা বোঝানো হয় যে দোষটা তোমার। কোন একটা ছেলে যদি রাস্তা দিয়ে আমাদের খারাপ কথা বলে যায় তখন আমার মনে হয় যে এবার আমার কি হবে এবার আমার লজ্জা পাওয়া উচিত। কিন্তু আসলেই যে অন্যায় করছে বা যে বাজে কথাগুলো বলছে লজ্জা তো তার পাওয়া উচিত। আমাদের সমাজে এই সার্কেলটা বরাবর ঘুরে আসছে। তাই আমার মনে হয় এই শো এর মাধ্যমে বারবার যদি এই বিষয়টা নিয়ে কথা বলা হয় তাহলে সমাজে কিছু পরিবর্তন আসবে। আর আমরা চাই এই শো টা সকলের মাঝে জনপ্রিয়তা পাক সবাই এই শো পছন্দ করুক কারণ তাহলে এই শো এর সার্থকতা আমাদের কাজ করা সার্থকতা।’

আরও পড়ুনঃ অনিরুদ্ধর হাতেই এবার কোম্পানির দায়িত্ব! ফের সসম্মানে ফিরে এল রায়ান পারুল! সংযুক্তার প্রিয় চা’মচার কি অবস্থা করলো নায়িকা?

অভিনেত্রী আরও বলেন যে, ‘এই শো টা যদি আমরা সভ্য ভাবে ভদ্রভাবে পা গুটিয়ে দেখাতাম তাহলে যা সমাজ ছিল আমাদের সেটাই থেকে যেত। এই শো এর মাধ্যমে এটাই আমরা বার্তা দিতে চেয়েছি যে মহিলাদেরও রুখে দাঁড়ানো উচিত। এভাবে ঘুরে দাঁড়ালে তবে পরিবর্তন আসবে। এতটা আনফিল্ডার্ড, এতটা রো, এতটা অনেস্টি এই শো তে দেখানো হয়েছে তার এই একটা মাত্রই কারণ। সারা জীবন দেখেছি হিরোরা মারপিট করে আর আমরা কোণঠাসা হয়ে ‘প্লিজ ছেড়ে দিন’ বলে কেঁদে মরে যাই। কিন্তু কালীপটকা-য় সেই ধারণা বদলে যাবে। এখানে আমি প্যাঁ’দাবো।’ অভিনেত্রীর এই মন্তব্যে স্পষ্ট যে, নারীদের কেবল ‘অসহায় শিকার’ হিসেবে দেখানোর প্রথাগত চিত্রনাট্যেতে বিশ্বাসী নন। যদিও এই ওয়েব সিরিজ মুক্তি পাওয়ার পর থেকে বিভিন্ন নেটিজেনদের নানান মতামত শোনা যাচ্ছে, এক একজনের এক এক রকম দৃষ্টিভঙ্গি এই ওয়েব সিরিজ ঘিরে।

Back to top button