‘ আমি ছেলেই চেয়েছিলাম…বিয়ে আর মাতৃত্ব সম্পূর্ণ আলাদা!’ ‘জানাজানি হলে যদি ক্ষতি হয়ে যায়…’ গর্ভাবস্থার খবর লুকিয়ে রাখার আসল কারণ জানালেন সুস্মিতা রায়! সমাজের তথাকথিত নিয়ম ভেঙে ফুটফুটে পুত্র সন্তানের জন্ম দিলেন অভিনেত্রী!

টেলিভিশন পর্দার (Bengali Television) অত্যন্ত জনপ্রিয় মুখ অভিনেত্রী সুস্মিতা রায় (Sushmita Roy) অবশেষে মাতৃত্বের স্বাদ পেলেন। কোল আলো করে এসেছে তার ফুটফুটে এক পুত্র সন্তান। দীর্ঘদিনের লড়াই, সমাজ ও তথাকথিত নিয়মের বেড়াজাল ভেঙে নিজের ইচ্ছে ও সাহসিকতার ওপর ভর করে মা হওয়ার এই জার্নিটা সম্পন্ন করলেন তিনি। সদ্যোজাত সন্তানকে প্রথমবার কোলে নিয়ে সুস্মিতা ও তার সঙ্গী শুভাশিস ভাগ করে নিলেন এক অত্যন্ত আবেগঘন মুহূর্ত। সন্তানের আগমনে তাদের চোখে এখন আনন্দের অশ্রু।
তবে সুস্মিতার জন্য এই মা হওয়ার পথটা একেবারেই সহজ ছিল না। এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে এক যন্ত্রণাদায়ক অতীত। ২০১৯ সালে প্রথমবার মা হওয়ার স্বাদ পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেবার এক কন্যাসন্তানের জন্ম দিলেও শেষ রক্ষা হয়নি, ফুটফুটে সেই মেয়েটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। সেই প্রথম সন্তানকে হারানোর ভয় ও তীব্র যন্ত্রণা সুস্মিতাকে দীর্ঘ সময় তাড়িয়ে বেড়িয়েছে। মনের গভীরে তৈরি হয়েছিল এক অদ্ভুত ফোবিয়া, যা প্রতি মুহূর্তে তাকে গ্রাস করত।
অতীতের সেই চরম ট্র্যাজেডি এবং কুসংস্কারের ভয় থেকেই সুস্মিতা তার এবারের গর্ভাবস্থার পুরো খবরটি সকলের আড়ালে রেখেছিলেন। অনেকেই তাকে এই নিয়ে বহুবার প্রশ্ন করলেও তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন। সুস্মিতার কথায়, “যেহেতু অতীতে আমার একটা খারাপ অভিজ্ঞতা আছে, তাই আমি চাইনি পুরনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হোক। মানুষের মনে অনেক রকম কুসংস্কার থাকে, তাই একটা ভয় কাজ করছিল যে জানাজানি হলে যদি কোনো ক্ষতি হয়ে যায়।” তবে তিনি কথা দিয়েছিলেন, মা হওয়ার পরেই প্রথম খবরটি অনুরাগীদের জানাবেন এবং তিনি ঠিক সেটাই করেছেন।
এই জার্নিতে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করে সুস্মিতা সমাজকে এক বড় বার্তাও দিয়েছেন। তিনি জানান, সমাজ কী ভাবল বা প্রথা কী, তা নিয়ে তিনি কোনোদিন মাথা ঘামাননি। তার স্পষ্ট বক্তব্য, “বিয়ে আর মাতৃত্ব সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়।” নিজের জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপ তিনি অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে নিয়েছেন এবং কোনো তথাকথিত সামাজিক নিয়মকে নিজের ইচ্ছের চেয়ে বড় হতে দেননি। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার দিনগুলোতেও তার মনের সব ভয় কাটিয়ে ওঠার একমাত্র শক্তির উৎস ছিলেন তার সঙ্গী শুভাশিস, যিনি প্রতিটি মুহূর্তে তার পাশে স্ট্রংলি দাঁড়িয়ে থেকেছেন।
আরও পড়ুনঃ ‘আমি অভিনেত্রী, বে’শ্যা নই!’ ‘ঋত্বিক ঘটক বলেছিলেন, তুই তো সুন্দরী নোস…’ ‘চাইলে সারা রাত…!’ শুরুটা ছিল ভীষণ কঠিন! এখনও থামেনি লড়াই! নিজের জীবন সংগ্রাম নিয়ে অকপটে ছন্দা চ্যাটার্জী!
১লা জুলাই ছিল সুস্মিতার জন্মদিন, আর তার ঠিক পরপরই ফুটফুটে পুত্র সন্তানের জন্ম হওয়াকে জীবনের “সেরা জন্মদিনের উপহার” হিসেবে দেখছেন এই অভিনেত্রী। দম্পতি তাদের ছেলের নাম রেখেছেন ‘সিডো’। নামটির একটি অত্যন্ত সুন্দর ও গভীর অর্থ রয়েছে। অতীত জীবনের সব ঝড়-ঝাপটা এবং সন্তান হারানোর গভীর ক্ষত কাটিয়ে সুস্মিতা এখন একজন গর্বিত মা। সন্তানকে আগলে রেখে জীবনের এক নতুন এবং সুন্দর অধ্যায় শুরু করলেন তিনি।

