‘যারা মোমবাতি মিছিল করে তারাই কখনো এই বাচ্চাদের সামনে পেলে টেনে হিঁচড়ে ছারখার করে দেবে!’ সন্তানকে নিয়ে কুরুচি কার মন্তব্য করায় বিস্ফোরক শ্রীময় চট্টরাজ!

টলিউডের (Tollywood) অন্যতম আলোচিত এবং জনপ্রিয় দম্পতি হলেন অভিনেতা-বিধায়ক কাঞ্চন মল্লিক (Kanchan Mullick) এবং অভিনেত্রী শ্রীময়ী চট্টরাজ (Sreemoyee Chattoraj)। দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব এবং নানা জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ২০২৪ সালের শুরুতে তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁদের এই সম্পর্ক যেমন টলিপাড়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল, তেমনই সাধারণ মানুষের মধ্যেও ছিল ব্যাপক কৌতূহল।
কাঞ্চন মল্লিক তাঁর অসামান্য কমিক টাইমিং এবং অভিনয়ের জন্য বাংলা চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনের এক পরিচিত মুখ। অন্যদিকে, শ্রীময়ী চট্টরাজ ‘কৃষ্ণকলি’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তাঁদের পরিচয়ের শুরু কাজের সূত্র ধরে। দীর্ঘ কয়েক বছরের বন্ধুত্ব এবং একে অপরের প্রতি অটুট সমর্থনই শেষ পর্যন্ত তাঁদের দাম্পত্যের পথে নিয়ে যায়।২০২৪ সালের ১৪ই ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ ভ্যালেন্টাইনস ডে-তে আইনি বিয়ে সারার পর ৬ই মার্চ তাঁরা ধুমধাম করে সামাজিক বিয়ে সম্পন্ন করেন।
২০২৪ সালের শেষের দিকে তাঁদের কন্যাসন্তান কৃষভি-র জন্মের পর থেকে এই ট্রোলিং এক চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। নবজাতককে ঘিরে যে আনন্দ থাকার কথা ছিল, সেখানে একদল নেটিজেনের কুরুচিকর মন্তব্য এবং হাসাহাসি সুস্থ সমাজমানসের ওপর বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করেছে। চেহারা কিংবা কাঞ্চনের বয়স নিয়ে অসংবেদনশীল মিম এবং মন্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। একটি সদ্যোজাত শিশুকে নিয়ে এই ধরণের ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ কেবল অমানবিকই নয়, বরং আধুনিক সাইবার বুলিংয়ের এক ভয়াবহ রূপ বলে দাবি করেছেন তারকা দম্পতি।
শ্রীময়ী এবং কাঞ্চন দুজনেই বহু জায়গায় বহু সাক্ষাৎকারে বলেছেন যারা এই ধরনের মন্তব্য করেন তারা বিকৃত মস্তিষ্কের। এই সমস্ত নেতিবাচক সমালোচনাকে কাঞ্চন ও শ্রীময়ী অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে মোকাবিলা করেছেন। বিচার করার নেশায় আমরা ভুলে যাই যে শিশুর কোনো দোষ থাকে না। ট্রোলাদের এই ধরণের আচরণ সমাজের মানসিক দৈন্যতাকেই প্রকাশ করে।
আরও পড়ুনঃ প্রতিহিংসা নয়, বরং নিখাদ প্রেম! রূপ হোক বা দিতি, গোরার সঙ্গে সম্পর্কের স্নিগ্ধতায়, কেমন লাগছে আপনাদের ‘তারে ধরি ধরি মনে করি’ ধারাবাহিকের পল্লবী-বিশ্বরূপ জুটিকে?
নেটিজেনদের একাংশ কাঞ্চন ও শ্রীময়ীর অসম বয়সের সম্পর্ককে টেনে এনে তাঁদের সন্তানকে নিয়ে বিদ্রুপ করতে ছাড়েননি। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন মিম এবং মন্তব্যে শিশুর চেহারা নিয়ে যে ধরণের কাটাছেঁড়া করা হয়েছে, তা আধুনিক সাইবার বুলিংয়ের একটি চরম উদাহরণ। নিজেও বলেছেন যারা মোমবাতি মিছিলে বেরিয়েছে তাদের মধ্যে থেকেও অনেকে এমন আচরণ করেছে। তারা কোন জন্তুর পর্যায়ও পরেনা। এরা ছোট ছোট বাচ্চাদের পেলে ছিঁ’ড়ে খাবে।

