শ্রীময়ীর জীবনে গভীর সংকট! পরিবারে ঘটে গেল বিরাট দুর্ঘটনা! মেয়েকে ফেলে তড়িঘড়ি ছুটলেন অভিনেত্রী!

বিদেশ সফর শেষ করে সদ্য দেশে ফিরেছিলেন অভিনেত্রী শ্রীময়ী চট্টরাজ। নতুন কাজের প্রস্তুতি, সংসার আর ছোট্ট মেয়েকে নিয়ে ব্যস্ততার মাঝেই আচমকা নেমে এল দুঃসংবাদ। পরিবারের এক অতি প্রিয় মানুষকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছেন তিনি। আসানসোলে থাকা তাঁর মামার বাড়িতেই থাকতেন দাদু দিদা। হঠাৎই দাদুর মৃত্যু যেন বিশ্বাসই করতে পারছেন না অভিনেত্রী। আনন্দ আর পরিকল্পনার জায়গায় মুহূর্তে জায়গা করে নিল গভীর শোক আর অসহায়তা।

শ্রীময়ীর দাদুর বয়স হয়েছিল ছিয়ানব্বই বছর। বয়সের ভার থাকলেও তিনি ছিলেন সম্পূর্ণ সুস্থ ও সক্রিয়। ঘটনার দিন সকালেও চা খেয়েছিলেন, পরিবারের সঙ্গে স্বাভাবিক কথাবার্তাও হয়েছিল। শুধু সামান্য অস্বস্তির কথা জানিয়েছিলেন। পরিবারের লোকজন ভেবেছিলেন ঘরে বিশ্রাম নিলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই সব শেষ হয়ে যায়। দাদুর ঘরে ঢুকেই মামী বুঝতে পারেন ভয়াবহ সত্য। ফোনে এই খবর শুনেই কান্নায় ভেঙে পড়েন শ্রীময়ী।

এই মৃত্যুর সঙ্গে জড়িয়ে রয়ে গেল এক গভীর আক্ষেপ। শ্রীময়ীর একমাত্র মেয়ে কৃষভিকে দাদুর সঙ্গে আলাপ করানো হল না। অভিনেত্রী বহুদিন ধরেই পরিকল্পনা করেছিলেন মেয়েকে নিয়ে আসানসোলে যাবেন। শুটিংয়ের ব্যস্ততায় সময় বের করতে পারছিলেন না। ভেবেছিলেন সামান্য ছুটি পেলেই পরিবার নিয়ে মামাবাড়ি যাবেন। কিন্তু সেই সব পরিকল্পনা আর বাস্তবায়িত হল না। দিদা অবশ্য কলকাতায় এসে নাতনিকে দেখে গিয়েছিলেন। সেটাই এখন একমাত্র সান্ত্বনা।

বর্তমানে সদ্য নতুন ধারাবাহিকের শুটিং শুরু করেছেন শ্রীময়ী। কাজের চাপ থাকলেও এই দুঃসংবাদে সব থমকে গিয়েছে। মাকে সঙ্গে নিয়ে তিনি এখন আসানসোলের উদ্দেশে রওনা দিচ্ছেন। শোক সামলে পরিবারের পাশে দাঁড়ানোই এখন তাঁর একমাত্র লক্ষ্য। এই কঠিন সময়ে অভিনয়ের জগৎ থেকে খানিকটা দূরে সরে গিয়ে তিনি ফিরে যাচ্ছেন নিজের শিকড়ে।

আরও পড়ুনঃ শোভনের সঙ্গে বিচ্ছেদের পরও ভালোবাসা অটুট! কেমন প্রেমে বিশ্বাসী স্বস্তিকা দত্ত? গোপনে কি কেউ বাসা বেঁধেছে অভিনেত্রীর মনে?

এই মুহূর্তে ছোট্ট কৃষভি কলকাতার বাড়িতেই রয়েছে। মেয়ের দেখাশোনার দায়িত্ব নিয়েছেন কাঞ্চন মল্লিক। পরিবারের সকলেই চেষ্টা করছেন একে অন্যের পাশে দাঁড়াতে। জীবনের এই অপ্রত্যাশিত মুহূর্তে শ্রীময়ী বুঝতে পারছেন সময়ের মূল্য আর সম্পর্কের গভীরতা। হাসি আনন্দের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এই শোকই হয়তো তাঁর জীবনের সবচেয়ে কঠিন অধ্যায় হয়ে রইল।

Back to top button