দাদুকে হারিয়ে আবেগে ভাসলেন শ্রীময়ী! ‘কাঞ্চনের সঙ্গে সম্পর্কের কঠিন সময়ে একমাত্র ওই মানুষটা…’- হারিয়ে গেল অভিনেত্রীর সবচেয়ে বড় ভরসার জায়গা!

কিছুদিন আগেই ব্যক্তিগত জীবনে বড় ধাক্কা খেয়েছেন শ্রীময়ী চট্টরাজ। প্রিয় দাদুকে হারিয়ে আজও শোক কাটিয়ে উঠতে পারেননি অভিনেত্রী। ছোট থেকে যাঁর হাত ধরে বড় হওয়া, যাঁর আশীর্বাদে জীবনের প্রতিটি ধাপ এগিয়ে যাওয়া, সেই মানুষটিকে হারানোর যন্ত্রণা যেন ভাষায় ধরা যায় না। দাদু তাঁর মেয়ে কৃষভিকে দেখে যেতে পারেননি, সেই আক্ষেপও আজ শ্রীময়ীর মনে গভীর ক্ষত হয়ে রয়ে গিয়েছে। এই আবেগ নিয়েই সম্প্রতি দাদুর সঙ্গে কাটানো একগুচ্ছ স্মৃতি সকলের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার দাদুর সঙ্গে একাধিক ছবি পোস্ট করে শ্রীময়ী লেখেন, দাদু তাঁর জীবনে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিলেন। দাদু দিদার সম্পর্ক থেকেই তিনি শিখেছেন জীবনের প্রকৃত মানে। ছোট বয়সে বিয়ে হলেও কীভাবে সারাজীবন একে অপরের পাশে দাঁড়িয়ে বন্ধুত্ব আর নির্ভরতার বন্ধনে জীবন কাটানো যায়, সেই শিক্ষাই পেয়েছেন তিনি। বয়সের ভারে রূপ যৌবন হারিয়ে গেলেও দুই আত্মার টান যে কখনও ম্লান হয় না, তা দাদু দিদাকেই দেখিয়ে দিয়েছেন জীবনভর।

নিজের জীবনের কথা বলতে গিয়ে শ্রীময়ী জানান, ছোটবেলা থেকে বিয়ে হয়ে এক সন্তানের মা হয়ে গেলেও দাদুর চোখে তিনি ছিলেন সেই আদরের গুড়িয়া। দুর্গাপুজোয় সবার আগে টাকা পাঠানো থেকে শুরু করে তাঁর অভিনয়ের কাজের খবর নেওয়া, সবেতেই দাদুর উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। আত্মীয়স্বজনের কাছে গর্ব করে দাদু বলতেন, গুড়িয়া শুধু নাতনি নয়, তাঁদের নাতি। এই ভালোবাসাই ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি।

কাঞ্চন মল্লিকের সঙ্গে সম্পর্কের সময় চারিদিকে যখন বিতর্ক আর কটূক্তিতে ভরে গিয়েছিল, তখন একমাত্র ভরসা ছিলেন দাদুই। সোশ্যাল মিডিয়া না দেখলেও মানুষের কথা শুনে দাদু দৃঢ়ভাবে বলেছিলেন, তাঁর নাতনি কখনও ভুল করতে পারে না। বিয়ের সময় শরীরে না থাকতে পারলেও প্রাণভরে আশীর্বাদ করেছিলেন শ্রীময়ী ও কাঞ্চনকে। কাঞ্চনকে তিনি নিজের নাত জামাই হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন অকুণ্ঠ ভালোবাসায়।

আরও পড়ুনঃ বিরাট দুঃসংবাদ! পৃথিবীকে চিরবিদায় জানালেন প্রবীণ অভিনেতা তথা জনপ্রিয় পরিচালক! শোকস্তব্ধ চলচ্চিত্র জগৎ!

পোস্টের শেষে শ্রীময়ী লিখেছেন, দাদু আর দিদার আলাদা থাকার কথা তিনি কোনওদিন ভাবতেই পারেন না। একে অপরকে বাঁচিয়ে রাখার মানুষ দুজন, আজ একজন চলে যাওয়ায় দিদার শূন্যতাই তাঁকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিচ্ছে। দাদুর ফোনের পর্দায় আর কখনও Dadu calling ভেসে উঠবে না, এই বাস্তবতা মেনে নেওয়াই সবচেয়ে কঠিন। তবু ভালো থাকার প্রার্থনাই রইল প্রিয় দাদুর জন্য, যিনি আজীবন তাঁর হৃদয়ের এক কোণে থেকে যাবেন।

Back to top button