‘রাহুলদার সেই টেক্সটটা এখনও আছে!’ মর্মান্তিক বিদায়ের আগে কী ছিল মনের কোণে? রাহুলের শেষ মেসেজ নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চ্যাটার্জী!

টলিউড (Tollywood) অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Rahul Banerjee) আকস্মিক প্রয়াণ নাড়িয়ে দিয়েছে গোটা ইন্ডাস্ট্রিকে। গত ২৯ মার্চ ওড়িশার তালসারিতে একটি শুটিং চলাকালীন সমুদ্রের জলে ডুবে তাঁর অকালমৃত্যু ঘটে। ৪৩ বছর বয়সী এই প্রতিভাবান অভিনেতার এমন মর্মান্তিক চলে যাওয়া কেউ মেনে নিতে পারছেন না। বিশেষ করে তাঁর শেষ কাজগুলোর সাথে যুক্ত সহকর্মীদের কাছে রাহুলের স্মৃতি আজও দগদগে। রাহুলের মৃত্যুর পর শোকস্তব্ধ টলিপাড়া যখন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করছে, তখনই তাঁর স্মৃতিতে আবেগঘন হয়ে পড়লেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায় (Shrabanti Chatterjee)।
সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে শ্রাবন্তী তাঁদের শেষ কাজ এবং রাহুলের সাথে তাঁর বন্ধুত্বের কথা শেয়ার করেন। শ্রাবন্তী জানান, ‘ঠাকুরমার ঝুলি’র পর এই ছবিটিই ছিল রাহুলের সাথে তাঁর শেষ কাজ। স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমি মাঝে মাঝেই এখনও বিশ্বাস করতে পারি না যে উনি নেই। মনে হয় উনি আমাদের মধ্যেই বেঁচে আছেন। রাহুলদার শেষ মেসেজটা এখনও আমার কাছে রয়ে গেছে। এই স্মৃতিগুলোই এখন আগলে রাখার সম্বল।” শ্রাবন্তীর কথায় উঠে আসে রাহুলের অপূর্ণ থেকে যাওয়া এক বড় ইচ্ছের কথা।
রাহুল সবসময় চাইতেন শ্রাবন্তীর বিপরীতে ‘হিরো’ হিসেবে অভিনয় করতে। শ্রাবন্তী বলেন, “রাহুলদার আক্ষেপটা রয়েই গেল। ওঁর খুব ইচ্ছে ছিল আমার হিরো হওয়ার। ওঁর পাঠানো টেক্সটেও লেখা ছিল ‘তোর সাথে তুই আমার হিরোইন হবি আমি ভেবেছিলাম’। তখন আমি মজা করে বলেছিলাম, দাঁড়াও তো সবে শুরু, আমরা আবার কাজ করব।” কিন্তু নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাসে সেই সুযোগ আর এল না। পর্দার ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’-খ্যাত নায়ক বাস্তবের হিরোইন হিসেবে শ্রাবন্তীকে পাওয়ার আগেই না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন।
সায়ন্তন ঘোষাল পরিচালিত ‘এরাও মানুষ’ ছবিটি রাহুলের ক্যারিয়ারের অন্যতম বিশেষ একটি কাজ হতে চলেছে। শ্রাবন্তী জানান, এই ছবিতে রাহুলকে এক সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপে, সম্ভবত নেতিবাচক বা ধূসর কোনো চরিত্রে দেখা যাবে যা দর্শক আগে কখনও দেখেনি। ছবির বিষয়বস্তু মূলত একটি মেন্টাল অ্যাসাইলাম বা পাগলা গারদকে কেন্দ্র করে। অনাথ আশ্রমে বড় হওয়া তিন বন্ধুর ইমোশনাল জার্নি এবং বন্ধুত্বের টানাপড়েন এই ছবির মূল উপজীব্য। শ্রাবন্তী, জিতু কমল এবং সত্যম ভট্টাচার্য এখানে প্রধান চরিত্রে থাকলেও রাহুলের উপস্থিতি ছবিটিকে এক অনন্য মাত্রা দিয়েছে।
আরও পড়ুন: ভোটগণনার সকালেই বিরাট দুঃসংবাদ! দেবের বাড়িতে শোকের ছায়া! প্রিয়জনের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ অভিনেতা!
ছবির শুটিংয়ের দিনগুলোর কথা বলতে গিয়ে শ্রাবন্তী রীতিমতো নস্টালজিক হয়ে পড়েন। আউটডোর শুটিংয়ের সময় তাঁরা সবাই মিলে একটি পরিবারের মতো থাকতেন। বিশ্বনাথ বসুর পৈতৃক ভিটেতে খাওয়া-দাওয়া থেকে শুরু করে জিতু, সত্যম ও রাহুলের সাথে কাটানো মুহূর্তগুলো তাঁর চোখে ভেসে উঠছে। শ্রাবন্তী বলেন, “খুব ধুলোবালির মধ্যে আমরা কাজ করেছি, প্রচুর ফাইট সিকুয়েন্স ছিল। কিন্তু রাহুলদা থাকলেই পরিবেশটা অন্যরকম হয়ে যেত। উনি চলে গেলেও ওঁর কাজ আর এই ছবির মাধ্যমেই তিনি আমাদের মধ্যে অমর হয়ে থাকবেন।”

