‘২৫ বছরের কচি ছেলে আর ৩৬ বছরের বুড়ি…’ অভিনেত্রীকে “বুড়ি” সম্বোধন! সুস্মিতার নতুন জীবন নিয়ে নেটিজেনদের তো’প!

টলিউডের (Tollywood) পরিচিত মুখ অভিনেত্রী সুস্মিতা রায় (Sushmita Roy) আবারও জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন। সম্প্রতি তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন তার নিজের কোম্পানির ব্যবসায়িক সঙ্গী শুভাশিসের সঙ্গে। দীর্ঘদিনের কাজের সম্পর্ক থেকে গড়ে ওঠা ভালোবাসা অবশেষে পরিণয় পেয়েছে সামাজিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। জীবনের কঠিন সময় কাটিয়ে নতুন করে ঘর বাঁধার এই সিদ্ধান্ত সুস্মিতার জন্য আনন্দের হলেও, সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা আর সমালোচনা। বিয়ের ছবি প্রকাশ্যে আসতেই নেটিজেনদের একাংশ অভিনন্দন জানানোর বদলে অভিনেত্রীকে নিয়ে বিদ্রূপ করতে শুরু করেছেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রোলিংয়ের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সুস্মিতা ও শুভাশিসের বয়সের ব্যবধান। অনেকে মন্তব্য করছেন যে, সুস্মিতা বয়সে অনেকটা বড় হয়েও কেন নিজের চেয়ে ছোট বয়সী একজনকে বিয়ে করলেন। ‘বয়স্কা নারী’ আর ‘ছোট ছেলে’ এই ধরণের তকমা দিয়ে ইন্টারনেটে কুরুচিকর মন্তব্য করা হচ্ছে। একজন কমেন্টে লিখেছে, ‘২৫ বছরের কচি ছেলে আর ৩৬ বছরের বুড়ি।’ আমাদের সমাজে পুরুষরা বয়সে ছোট মেয়েকে বিয়ে করলে খুব একটা কথা না হলেও, একজন নারী তার চেয়ে কম বয়সী জীবনসঙ্গী বেছে নিলেই সমাজ যেন তা মেনে নিতে পারে না। এই লিঙ্গবৈষম্যমূলক মানসিকতা থেকেই আক্রমণের ঝড় বইছে।

সুস্মিতার ব্যক্তিগত জীবন এবং তার আগের সম্পর্কগুলো নিয়েও সাধারণ মানুষ নানা প্রশ্ন তুলছেন। অনেকেই অভিযোগ করছেন যে, তিনি বারবার বিয়ে করছেন এবং প্রতিবারই অন্যদের ওপর দোষ চাপাচ্ছেন। ইন্টারনেটে জনৈক এক ব্যবহারকারী ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, “আপনার চরিত্র কেমন তা মানুষ বুঝে গেছে। পাঁচটা বিয়ে করে ফেললেন, সবাই খারাপ আর আপনিই ভালো?” এই ধরণের আক্রমণাত্মক মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, একজন অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত স্বাধীনতাকে অনেকেই সহজভাবে নিতে পারছেন না। তার চরিত্র নিয়ে কাটাছেঁড়া করা এখন অনেকের কাছেই সস্তা বিনোদনের খোরাক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তবে মুদ্রার উল্টো পিঠও আছে। অনেকেই সুস্মিতার এই সাহসী সিদ্ধান্তের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাদের মতে, প্রত্যেকেরই অধিকার আছে নিজের মতো করে সুখে থাকার। সুস্মিতা কতবার বিয়ে করবেন বা কার সাথে জীবন কাটাবেন, সেটা একান্তই তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। তথাকথিত সমাজ কী ভাবল, তার চেয়ে বড় বিষয় হলো দুজন মানুষের পারস্পরিক বোঝাপড়া। সমর্থকরা বলছেন, ঘৃণা ছড়ানোর চেয়ে বরং অন্যের খুশিকে সম্মান জানানোই প্রকৃত মানুষের পরিচয়। সমাজ কেন বারবার নারীদের চরিত্রের দিকেই আঙুল তোলে, সেই প্রশ্নও তুলেছেন অনেকে।

পরিশেষে বলা যায়, সমালোচনা বা ট্রোলিং কোনো নতুন বিষয় নয়, বিশেষ করে বিনোদন জগতের মানুষদের জন্য। সুস্মিতা রায় এবং শুভাশিস দুজনেই প্রাপ্তবয়স্ক এবং তারা নিজেদের সিদ্ধান্ত নিজেরাই নিতে সক্ষম। মানুষের জীবনের চড়াই-উতরাই অন্য কেউ অনুভব করতে পারে না। তাই কারোর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কুরুচিকর চর্চা না করে, তাদের নতুন জীবনকে শুভকামনা জানানোই শ্রেয়। হাজারো নেতিবাচক মন্তব্যের ভিড়ে সুস্মিতা প্রমাণ করেছেন যে, জীবনকে নিজের শর্তে বাঁচতে জানতে হয়।

আরও পড়ুনঃ মেয়ের পর এবার বাবা! মায়ের কেমো চলছে! কঠিন সময়ের মুখে অভিনেত্রী ঐন্দ্রিলা শর্মার দিদি ঐশ্বর্যা শর্মা!

Disclaimer: এই সংবাদ প্রতিবেদনে প্রকাশিত সংবাদটি তৃতীয় ব্যাক্তি বা নির্দিষ্ট কোন‌ও পক্ষের মন্তব্যের ওপর ভিত্তি করে লেখা হয়েছে। BinodonXP.com এই মন্তব্যগুলি সঠিক কিনা তা যাচাই করেনি। এই প্রতিবেদনে যে বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে তার দায়ভার সম্পূর্ণভাবে সেই ব্যাক্তি বা পক্ষের। আমরা কোন‌ও বক্তব্যের জন্য দায়ী নই, কাউকে আঘাত করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়।

Back to top button