‘আমার শ’রীর, আমার ক্লি’ভেজ, আমি দেখাতেই পারি…’ নারী স্বাধীনতা নিয়ে সরব অভিনেত্রী! সম্পর্কের নতুন সংজ্ঞা দিলেন শতাব্দী রায়!

তিনি পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী, রাজনীতির ময়দানের পোড়খাওয়া সাংসদ। কিন্তু এই পরিচয়ের বাইরেও শতাব্দী রায়ের (Satabdi Roy) এক গভীর সৃজনশীল সত্তা রয়েছে তিনি কবি। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে নিভৃতে কবিতা লিখলেও, এবার সরাসরি দর্শকদের সামনে নিজের লেখনী নিয়ে হাজির হচ্ছেন তিনি। আগামী ২৮শে ফেব্রুয়ারি কলকাতার শিশির মঞ্চে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে তাঁর একক কাব্য-সন্ধ্যা ‘আমি তুমি আর কবিতা’। সম্প্রতি এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে নিজের কবিতা, ব্যক্তিগত জীবন এবং সমসময়ের সম্পর্ক নিয়ে অকপট হয়েছেন এই তিনি।

তিনি মনে করেন, প্রেম যতক্ষণ দূরে থাকে বা যতক্ষণ তাকে ছোঁয়া যায় না, ততক্ষণই তা নিয়ে সুন্দর সুন্দর কবিতা লেখা যায়। কিন্তু যখনই সেই প্রেম ধরা দেয় এবং নিয়মিত একসাথে থাকা শুরু হয়, তখন তা অনেকটা রোজকার ডাল-ভাতের মতো সাধারণ হয়ে যায়। তখন আর কবিতা আসে না, তখন শুধু থেকে যায় প্রতিদিনের বেঁচে থাকার অভ্যাস। তাই তাঁর লেখায় বারবার সেই অপূর্ণ প্রেম বা না-পাওয়া মানুষের কথাই উঠে আসে।

শতাব্দীর কবিতায় বারবার উঠে এসেছে নারীবাদের এক বলিষ্ঠ রূপ। বর্তমান সমাজে নারীর পোশাক এবং শালীনতা নিয়ে যে চিরাচরিত ধারণা রয়েছে, তাকেই চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন তিনি। সাক্ষাৎকারে নিজের কবিতার পঙ্ক্তি উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, “শাড়িতেই নারী কেন? আমার ক্লিভেজ আমি দেখাতেই পারি, এটা আমার শরীর।” তাঁর মতে, শরীর ও মনের ক্লান্তি জীবনের অঙ্গ। বিছানার চাদর পাল্টানোর মতো জীবনে মানুষ পাল্টানোর অধিকারও নারীর থাকা উচিত। প্রথাগত সংস্কারের বাইরে গিয়ে শতাব্দী তাঁর কবিতায় এক স্বাধীনচেতা নারীর প্রতিকৃতি এঁকেছেন, যা আজকের প্রজন্মের কাছে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।

তিনবারের সাংসদ শতাব্দী রায়ের জীবন কাটে প্রবল ব্যস্ততায়। দিল্লি আর কলকাতার দৌড়ঝাঁপের মাঝে কবিতা লেখার সময় পান কোথায়? শতাব্দী জানান, অনেক সময় লোকসভার অধিবেশন চলাকালীন বা যাতায়াতের পথেও তিনি মনের ভাবনাগুলো লিখে রাখেন। পরে সময় সুযোগ মতো সেগুলোকে কবিতায় রূপ দেন। মজার ছলে তিনি জানান, নিজের বাড়িতে তাঁর কবিতার কোনো পাঠক নেই; তবে নচিকেতা বা কুণাল ঘোষের মতো বন্ধুদের তিনি মাঝেমধ্যে নিজের নতুন লেখা পড়ে শোনান।

আরও পড়ুনঃ শুটিং চলাকালীন বিরাট দুর্ঘটনা! গুরুতর আহত অভিনেত্রী অলিভিয়া সরকার! এখন কেমন আছেন অভিনেত্রী?

সামাজিক মাধ্যমে শতাব্দীর কবিতা পাঠের ভিডিওগুলো লক্ষ লক্ষ মানুষের ভালোবাসা পেয়েছে। সেই অনুপ্রেরণা থেকেই মঞ্চে আসার সিদ্ধান্ত। তবে এটি কেবল সাধারণ আবৃত্তির অনুষ্ঠান নয়। অভিনয় এবং রাজনীতির সাফল্যের পর, এই ‘কাব্যিক ইনিংস’ শতাব্দী রায়ের জীবনে এক নতুন পালক যোগ করতে চলেছে। কবিতা প্রেমীদের কাছে এই সন্ধ্যাটি যে এক অনন্য অভিজ্ঞতা হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।

Back to top button