‘বহু শিল্পী গা-ঘষাঘষি করে সুবিধা নিয়েছেন’, ‘হল না দিলে রাস্তায় চাদর পেতে নাটক করব!’ কাদের দিকে আঙ্গুল তুললেন অভিনেতা? বিনোদন জগতের অন্দরমহল নিয়ে বি’স্ফোরক সপ্তর্ষি মৌলিক!

বর্তমান সময়ে টলিউড (Tollywood) তথা বাংলার নাট্যজগতের সঙ্গে রাজনীতির অহি-নকুল সম্পর্ক নিয়ে রাজ্য রাজনীতি ও বিনোদন দুনিয়া তোলপাড়। টলিউডের তারকাদের একাংশের সঙ্গে শাসকদলের ঘনিষ্ঠতা এবং তা থেকে নানাবিধ সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ নতুন কিছু নয়। এই আবহেই এবার এক ইউটিউব চ্যানেলের সাক্ষাৎকারে টলিউড ও থিয়েটার জগতের ভেতরের কঙ্কালসার রূপটি প্রকাশ করে তীব্র ক্ষোভ ও বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন জনপ্রিয় অভিনেতা সপ্তর্ষি মৌলিক (Saptarshi Maulik )। তাঁর এই স্পষ্ট বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই বিনোদন জগতে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
সাক্ষাৎকারে অভিনেতা অত্যন্ত সততার সঙ্গে স্বীকার করে নিয়েছেন যে, বর্তমান শাসকদলের সময়ে বহু শিল্পী ব্যক্তিগত স্বার্থ ও সুযোগ-সুবিধার জন্য ক্ষমতার অলিন্দে ঘোরাফেরা করেছেন। সপ্তর্ষির মতে, ইন্ডাস্ট্রির প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ যখন কেবল নিজের আখের গোছাতে বা বিশেষ সুযোগ সুবিধা পাওয়ার তাগিদে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের দিকে ঝুঁকে পড়েন, তখন সামগ্রিকভাবে পুরো শিল্পী সমাজই কলঙ্কিত হয়। আজ যখন সেই সমস্ত সুবিধাভোগী শিল্পীদের দিকে আমজনতা বা বিরোধী পক্ষ কাদা ছোঁড়ে, তখন থিয়েটার বা অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত বাকি ৩০ শতাংশ নির্দোষ ও নিরপেক্ষ শিল্পীদের গায়েও সেই কাদার ছিটে এসে লাগে। এই যৌথ দায় থেকে কোনো খাঁটি শিল্পীই আজ আর মুক্ত হতে পারছেন না।
রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা ও ক্ষমতার প্রভাব খাটানো প্রসঙ্গে অভিনেতা আরও একধাপ এগিয়ে থিয়েটার জগতের একাংশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনেছেন। তিনি জানান, নাট্যজগতের এমন বহু চেনা মুখ আছেন যারা শাসকদলের মদতে প্রকাশ্যেই মাসেল পাওয়ার আস্ফালন দেখিয়েছেন এবং নানাবিধ অনৈতিক সুবিধা ভোগ করেছেন। এমনকি এই ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণেই সমাজমাধ্যমে তাঁদের কাউকে কাউকে ‘থিয়েটার মাফিয়া’ হিসেবেও দাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। সপ্তর্ষি অবশ্য সুনির্দিষ্ট তথ্য ছাড়া এমন তকমা দেওয়াকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে না চাইলেও, থিয়েটার মহলের একটা বড় অংশের যে ক্ষমতার লোভে নৈতিক পতন ঘটেছে, সেই রূঢ় সত্যকে তিনি কোনোভাবেই অস্বীকার করেননি।
নিজের রাজনৈতিক অবস্থান পরিষ্কার করতে গিয়ে সপ্তর্ষি জানান, তিনি কোনোদিনই কোনো রাজনৈতিক দলের বা ক্ষমতার কাছাকাছি ছিলেন না। মাত্র ৩ বছর বয়স থেকে শুরু করে আজ ৫২ বছর বয়স পর্যন্ত তিনি কেবল অভিনয়কেই ভালোবেসে এসেছেন। অভিনয়ই তাঁর রাজনীতি, তাঁর বেঁচে থাকার রসদ এবং তাঁর ঈশ্বর। তবে পদাধিকার বলে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বা দেশের প্রধানমন্ত্রী যদি তাঁকে কখনো কোনো অনুষ্ঠানে সসম্মানে আমন্ত্রণ জানান, তবে সেই পদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তিনি সেখানে অবশ্যই যাবেন। কারণ, তাঁর পারিবারিক ঐতিহ্য ও শিক্ষা কখনোই ক্ষমতার পদের প্রতি অসম্মান দেখাতে শেখায়নি। কিন্তু এর পেছনে কোনো রাজনৈতিক সমীকরণ বা ব্যক্তিগত ফায়দা তোলার মানসিকতা তাঁর নেই, কারণ তিনি অত্যন্ত সাধারণ একজন অভিনেতা মাত্র।
আরও পড়ুনঃ অসাধ্য সাধন করলো অদ্বিতীয়া! অধিকার ফিরে পেলেন দাদু! গৃহপ্রবেশে ভয়ংকর কাণ্ড ঘটালো শয়তান সাধু! এবার কি করবে দিতি-গোরা!
সাক্ষাৎকারের একদম শেষ পর্বে নাট্যজগতের চরম দূরবস্থার কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন অভিনেতা। তিনি জানান, ছোটবেলা থেকে শুরু করে আজীবন থিয়েটার করতে গিয়ে তিনি ও তাঁর পরিবার তীব্র আর্থিক অনটনের মুখোমুখি হয়েছেন। তবে লড়াই করে তিনি সেই অভাবকে জয় করেছেন এবং কোনো প্রতিকূলতাকেই তিনি আর ভয় পান না। সপ্তর্ষি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করেন, আজ যদি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে কোনো থিয়েটার দলকে হল বা মঞ্চ দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়, তবুও তিনি নাটক করা থামাবেন না। প্রয়োজনে তিনি রাস্তার মোড়ে চাদর পেতে সাধারণ মানুষের সামনে অভিনয় করবেন। কোনো রাজনৈতিক চাপ বা ভয় দেখিয়ে তাঁর মুখ বন্ধ করা যাবে না একমাত্র গুলি করে মেরে ফেললেই হয়তো তাঁর অভিনয় থামানো সম্ভব, তার আগে নয়।

