অসাধ্য সাধন করলো অদ্বিতীয়া! অধিকার ফিরে পেলেন দাদু! গৃহপ্রবেশে ভয়ংকর কাণ্ড ঘটালো শয়তান সাধু! এবার কি করবে দিতি-গোরা!

জি বাংলার (Zee Bangla) তারে ধরি ধরি মনে করি (Tare Dhori Dhori Mone Kori) ধারাবাহিকের গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, পরের দিন সকালে দিতি আর গোরা মহাপ্রভুর দেখানো নির্দেশ মেনে ঠিক নির্দিষ্ট জায়গায় গিয়ে পৌঁছায়। সেখানে গিয়ে অনেক খোঁজাখুঁজির পর অবশেষে তারা দাদুর জন্ম রহস্যের আসল সূত্রটি খুঁজে বের করতে সক্ষম হয়। কিন্তু চতুর পুলস্ত্য সহজে দমে যাওয়ার পাত্র ছিল না। সে আড়াল থেকে দূর থেকেই সবকিছুর ওপর কড়া নজর রাখছিল। দিতিদের এই সাফল্য দেখে সে মনে মনে নতুন চক্রান্তের জাল বোনে এবং ঠিক করে নেয় যে, সে কিছুতেই দিতিদের এই আসল সত্যিটা সবার সামনে প্রকাশ করতে দেবে না।
দিতি আর গোরা যখন দাদুর জন্ম পরিচয় জেনে ওই বাড়িটি থেকে বেরিয়ে আসছিল, ঠিক তখনই পুলস্ত্য এক ভয়ানক চক্রান্ত ফেঁদে বসে। সে ওই বাড়ির নিরপরাধ সকল মানুষকে প্রাণে মেরে ফেলার এক নিষ্ঠুর পরিকল্পনা করে। সবাইকে এক জায়গায় পেয়ে সে ঘরের সব দরজা-জানালা বাইরে থেকে বন্ধ করে দেয় এবং ঘরের ভেতর বিষাক্ত গ্যাস ছেড়ে দেয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই বিষাক্ত গ্যাসের ঝাঁঝালো ধোঁয়ায় দম বন্ধ হয়ে পুরো পরিবারটি জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।
এদিকে দিতি এবং গোরা যখন নিজেদের বাড়ির দিকে ফিরছিল, তখন রাস্তাতেই মহাপ্রভুর বিগ্রহ তাদের বারবার কিছুর একটা অমঙ্গলের ইঙ্গিত দিচ্ছিল। মহাপ্রভুর এমন আচরণ দেখে দিতি এবং গোরা বড়সড় কোনো বিপদের আশঙ্কা করে। তারা আর এক মুহূর্তও সময় নষ্ট না করে তক্ষুণি আবার ওই বাড়িটির দিকে ছুটে ফিরে যায়। সেখানে পৌঁছে তারা দেখে চারদিক নিঝুম, বাড়ির সকল সদস্যের ডাকলেও কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছে না।
দিতিরা হাজারবার দরজা ধাক্কা দেয় এবং চিৎকার করে ডাকে, কিন্তু ভেতর থেকে তাও কোনো সাড়া পাওয়া যায় না। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তারা বাধ্য হয়ে দরজা ও তালা ভেঙে ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়ে। ভেতরে ঢুকতেই তারা দেখে বিষাক্ত গ্যাসে বাড়ির সকল সদস্যই অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে আছে। এরপর মহাপ্রভুর নাম স্মরণ করে দিতি ও গোরা নিজেদের জীবন বাজি রেখে কোনো রকমে ওই পরিবারের প্রতিটি মানুষকে মৃত্যুর মুখ থেকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে আনে।
আরও পড়ুনঃ উৎসবের আড়ালে খু’নের ছক! আগের বার মিস হলেও এবার মোক্ষম সুযোগ! বসু বাড়ির গ্র্যান্ড পার্টিতেই কি শেষ হবে টগর? দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব
পরের দিন কোর্টে দিতি এবং গোরা সমস্ত প্রমাণ জমা দেয় এবং বুক চিতিয়ে লড়াই করে ঠিক প্রমাণ করে দেয় যে, দাদু আসলে ওই গোস্বামী পরিবারেরই একজন আইনি সদস্য। তাদের আনা প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত থেকে আবারো মহাপ্রভুর সেবার সমস্ত দায়িত্ব গোরার দাদুকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু আইনি লড়াইয়ে জিতলেও বিপদ এখনই কাটেনি। ওদিকে শয়তান অসাধু আবারো নতুন কোনো কালো জাদু বা অসৎ চক্রান্তের যোগ দিয়ে বসেছে। আর সেই শয়তানির কুপ্রভাবেই এখন গোরার দাদু বা পরিবারের বাকি সদস্যরা কেউই নিজেদের চেনা বাড়িতে ঢুকতে পারছে না।

