ভয়ংকর রোগে আক্রান্ত ব্রেন! তবুও চলছে স্যান্ডির ফিরে আসার লড়াই! মুখ ফিরিয়েছে টলিউড! কেমন আছেন তিনি?

টলিউডের পরিচিত স্টাইলিস্ট স্যান্ডি অর্থাৎ সন্দীপ ঘোষাল এক সময় ছিলেন ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম ব্যস্ততম নাম। নামী কলেজে ফ্যাশন ডিজাইনের পড়াশোনা শেষে বিখ্যাত ডিজাইনার অনামিকা খান্নার সঙ্গে কাজ শুরু করেন তিনি। দ্রুতই টলিউডে নিজের জায়গা করে নেন এবং নামজাদা নায়িকাদের ব্যক্তিগত স্টাইলিস্ট হয়ে ওঠেন। তখন কাজের ভিড়ে নিঃশ্বাস ফেলারও সময় পেতেন না স্যান্ডি। গ্লামার দুনিয়ায় তাঁর সৃজনশীলতা ছিল সবসময়ই প্রশংসিত। কিন্তু সেই উজ্জ্বল ক্যারিয়ার হঠাৎই থেমে যায় কয়েক বছরের জন্য যেন সব আলো নিভে গিয়েছিল।
সম্প্রতি জানা গেছে স্যান্ডির জীবনে নেমে এসেছিল ভয়াবহ এক দুঃসময়। মানসিক ভারসাম্য হারানোর পাশাপাশি কর্মজীবনের বহু স্মৃতি কার্যত উধাও হয়ে গেছে তাঁর জীবন থেকে। প্রথমে সকলের অগোচরেই ছিল এই অবস্থা। পরে সামনে এনে দেন তাঁর স্কুলজীবনের বন্ধু এবং অভিনেত্রী বিয়াস বিশ্বাস। তিনিই জানান স্যান্ডি দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করছেন ব্রেইন টিউবারকিউলোসিস নামে এক জটিল রোগের সঙ্গে যা মস্তিষ্কের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত করে দেয় এবং অনেক সময় স্মৃতি সম্পূর্ণ মুছে দিতে সক্ষম।
বর্তমানে স্যান্ডি শারীরিক ভাবে বেশ ভালো থাকলেও মানসিক ভাবে এখনও নাজুক। মাঝেমাঝেই তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান এবং পরে তাঁকে খুঁজে আনতে হয়। তিন বছর ধরে চিকিৎসা চলছে তবে তাঁর মা বাড়ি ফিরলে চিকিৎসক পরিবর্তন করা হবে কি না সেই বিষয়ে নতুন করে আলোচনা হবে। এই লড়াইয়ের মাঝেই আরেক কঠিন বাস্তবতা হলো স্যান্ডির মা নিজেও ক্যান্সার আক্রান্ত এবং ভাঙা পা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি। ফলে পরিবারের দায়িত্ব এবার আরও বেড়ে গেছে তাঁর মেসোর উপর।
এই সময় অনলাইনের সঙ্গে কথা বলার সময় স্যান্ডি নিজের পুরনো কাজের কথা কিছুই মনে করতে পারেননি। কিন্তু কাজের প্রসঙ্গ উঠতেই যেন চোখে আবার একটু আলো দেখা গেল। তিনি খুশি হন উৎসাহে ভরপুর হন এবং পর মুহূর্তেই সংশয়ের সুরে বলেন আমি তো ঠিকমতো কিছুই মনে রাখতে পারি না আমি কি আর কোনওদিন কাজে ফিরতে পারব জানি না মাথাটা সব গুলিয়ে যায়। তাঁর গলায় ছিল ভয় অসহায়তা আর অজানা ভবিষ্যতের প্রশ্নচিহ্ন।
আরও পড়ুনঃ শিলংয়ে গিয়ে ভয়ংকর অভিজ্ঞতা! গায়ে কাঁটা দেওয়া ভৌতিক ঘটনার অংশ হলেন ইমন! কাঠ দিয়ে ক্রস করা কটেজে ঢুকতেই কি ঘটল গায়িকার সঙ্গে?
তবে তাঁর পাশে আছেন বন্ধু বিয়াস এবং পরিবার আর তাঁদের বিশ্বাস স্যান্ডি একদিন ফের ফিরবেন নিজের পছন্দের জগতে। যতদিন তিনি লড়াই করছেন ততদিনই আছে আশার আলো। কারণ স্যান্ডি কখনও হার মানার মানুষ ছিলেন না আজও নন।

